দিনে ২ ঘণ্টা চুপ থাকুন

42

আসলে অতিরিক্ত আওয়াজ, সেই সঙ্গে অনবরত কথা বলে যাওয়ার কারণে আমাদের মস্তিষ্কে মারাত্মক চাপ পরে। ফলে ধীরে ধীরে ব্রেন সেলের ক্ষয় ঘটতে থাকে। এমনটা হওয়ার কারণে প্রথম দিকে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং স্ট্রেস বাড়তে থাকার মতো সমস্যাগুলি হয়ে থাকে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, গত কয়েক শতাব্দিতে মানুষের গড় বুদ্ধি চোখে পরার মতো কমেছে। আর এর পিছনে মূল কারণ হল মস্তিষ্কের অতি সক্রিয়তা। যদি সফল হওয়ার একান্তই ইচ্ছা থাকে তাহলে দিনে কম করে ২ ঘন্টা চুপ থাকুন।

এক্ষেত্রে দিনে মাত্র ২ ঘন্টার এই মৌনতা কতটা উপকারে লাগতে পারে তা জেনে নেয়া যাক-

১. মন ও মস্তিষ্কে শান্তি ফিরে আসে

প্রতিদিন ২ ঘণ্টা নিরিবিলি পরিবেশে মুখ কুলুপ এঁটে কাটালে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ পায়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরও হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফিরে পায়। ফলে মস্তিষ্ক এবং শরীর, উভয়ই চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

২. ব্রেন সেলের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

যান্ত্রিক জীবনে ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছুটা সময় সরিয়ে আনলে হাঁপিয়ে যাওয়া মস্তিষ্কের একটু আরাম মেলে। সেই সঙ্গে ব্রেন নিজের একাধিক ক্ষতকে সারিয়ে তোলার সুযোগ পায়। ফলে ব্রেন সেল তরতাজা হয়ে উঠে পুনরায় কাজে লেগে পরার জন্য তৈরি হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, মস্তিষ্ক নিজের ক্ষত সারানোর যত সুযোগ পায়, তত ব্রেন পাওয়ার বাড়ে। বাড়ে শরীরের সচলতাও। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন চুপ থাকাটা শরীরের জন্য কতটা জরুরি।

৩. মনোযোগ বৃদ্ধি পায়

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঘণ্টা দুই চুপচাপ থাকলে মস্তিষ্ক, এক স্মৃতি থেকে আরেক স্মৃতিতে লাফাতে যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন নিজে থেকেই সবশক্তিতে একটা বিন্দুতে এনে ফেলে। ফলে মনোযোগ লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে। শুধু একদিন চুপ থাকলেই এমন সুফল পাওয়া সম্ভব না । এটা একটা লম্বা জার্নি। তাই শুরু করলেই এর ফল পাওয়া যাবেই।

৪. সততা বৃদ্ধি পায়

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে টানা কিছুটা সময় চুপচাপ বসে থাকলে নানা ধরনের চিন্তা মাথায় আসতে থাকে। তার মধ্যে নিজের ভাল এবং খারাপ কাজ সম্পর্কিত চিন্তাও থাকে। ফলে চুপ থাকাকীন কী কী ভুল আমরা করেছি সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা হয়ে যায়। আর একবার নিজের ভুলটা ধরতে পারলে মানুষ আর খারাপ দিকে যায় না, ফিরে যায় আলোর দিকে!

৫. ইন্দ্রিয়ের ক্ষমতা বাড়ে

শব্দের দুনিয়াকে পিছনে ফেলে কিছুটা সময় শান্তভাবে কাটালে আমাদের আশেপাশের জগৎ সম্পর্কে সচেতনতা আনেক বেড়ে যায়। খেয়াল করে দেখবেন চুপ করে বসে থাকার সময় কত ধরনের শব্দ আমাদের কানে আসতে থাকে, যা আর পাঁচটা কাজ করার সময় কান পর্যন্ত পৌঁছায়ই না। প্রকৃতির এই সূক্ষ্ণ চলন অনুভব করতে করতে একটা সময় পাঁচটা ইন্দ্রিয় এতটাই শক্তিশালী হয়ে যায় যে কোনও কিছুই আমাদের নজর এড়িয়ে যেতে পারে না। সহজ কথায় নিঃশব্দতা মস্তিষ্কের ক্ষমতা মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়।

৬. দৌড়াতে দৌড়াতে একটু দাঁড়াতেও হয়

অফিস-বাড়ি, মাঝে পরিবারের হাজারো ঝামেলা। একটু শান্তি পাই কোথায়! এমন ভবনায় জর্জরিত মানুষের সংখ্যা নেহাতিই কম নয়। তাই তো বলি বন্ধুরা, অনেক তো হল লড়াই। এবার রণক্লান্ত মস্তিষ্কটাকে না হয় একটু আরাম দেওয়া যাক! দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে পরে মানুষ, তাই এই ২ ঘণ্টা শুধু নিজের। আমার মস্তিষ্কের এবং আমার জীবনের। এবার থেকে নিজের জন্য এমন একটু সময় বার করে নিন। দেখবেন শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, জীবনের প্রতিটা লড়াইয়ের শেষে বিজয় পতাকা আপনার হাতেই থাকবে।

তবে কর্মব্যস্ত সময়ে কথা না বলে থাকাটা যেমন মুশকিল তেমনি বিব্রতকর, সে ক্ষেত্রে চুপ থাকতে নিজের অবস্থার সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অবস্থার সামঞ্জস্য রাখাটাই ভালো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here