সুস্থ জীবন চাইলে অবিবাহিত থাকুন!

24

আমাদের সমাজে মোটামুটি সবারই একটি ধারণা হচ্ছে, জীবনে সুখী থাকতে হলে, সুস্থ থাকতে হলে আপনার প্রেম-বিয়ে করতেই হবে। আসলেই কী তাই? ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার সাইকোলজিস্ট বেলা ডিপাওলো অবিবাহিত থাকার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করে দেখেন, আসলে তা মোটেই ঠিক নয়। বরং তার গবেষণা থেকে দেখা যায় অবিবাহিত থাকাটাই মানুষের জন্য উপকারী।

৬৩ বছর বয়সী বেলা ডিপাওলো সারা জীবনই কাটিয়েছেন অবিবাহিত অবস্থায়। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবিবাহিত মানুষদের ওপর গবেষণা করেন। তার গবেষণা থেকে দেখা যায়, সিঙ্গেল থাকার অনেকগুলো উপকারিতা আছে, শারীরিক মানসিক উভয় দিক দিয়েই।

“আমাদের ধারণা যে অবিবাহিত মানুষ দুঃখী, একাকী হয় এবং আরেকটি মানুষকে খুঁজে পেতে চায়- এগুলো একেবারেই ভুল,” তিনি সাইকসেন্ট্রাল ব্লগে লেখেন ২০১৩ সালে। ২০১৬ সালে তিনি আট শতাধিক গবেষণা বিশ্লেষণ করেন। এসব গবেষণা ছিল সিঙ্গেল মানুষ এবং বিবাহিত মানুষদের নিয়ে। তিনি দেখেন, অবিবাহিত হলে যে আসলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে সেটা এসব গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছিল। জানতে চান অবিবাহিত হবার কী কী উপকারিতা আছে?

১) অবিবাহিত মানুষের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়
বিবাহিত মানুষের বেশি বন্ধু থাকে? না। ২০১৫ সাল সোশ্যাল সায়েন্টিস্ট নাতালিয়া সার্কিসিয়ান এবং নাওমি গার্স্টেল এই ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা করেন। অবিবাহিত এবং বিবাহিত মানুষের মধ্যে কাদের সাথে প্রতিবেশি, আত্মীয় এবং বন্ধুদের সম্পর্ক বেশি ভালো তা দেখেন তারা। দেখা যায়, অবিবাহিত মানুষ বন্ধুদের নিয়মিত খোঁজ রাখে। শুধু তাই না, তারা অন্যদেরকে সাহায্য করা এবং তাদের থেকে সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিবাহিত মানুষের চাইতে বেশি অগ্রসর। লিঙ্গ, জাতি এবং উপার্জন যাই হোক না কেন এই ব্যাপারটা একই রকম দেখা যায়।

২) অবিবাহিতরা শারীরিকভাবে বেশি ফিট থাকেন
যারা বিয়ে করে থিতু হন, তাদের মাঝে অস্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস বাসা বাঁধতে দেখা যায়। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ১৩ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখা যায়, যারা সিঙ্গেল এবং কখনোই বিয়ে করেননি, তারা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহ ব্যায়াম করেন, বিবাহিত ও ডিভোর্স হওয়া মানুষ যা করেন না।

এছাড়াও ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, অবিবাহিত নারী ও পুরুষের বিএমআই কিছুটা কম হয়ে থাকে বিবাহিত মানুষের চাইতে। এছাড়া অবিবাহিত মানুষের চাইতে বিবাহিত মানুষের ওজন গড়ে ৫ কেজি বেশি হতে দেখা যায়।

৩) অবিবাহিত মানুষ আত্মউন্নয়নের দিকে বেশি মনযোগী
একটি গবেষণা করা হয় অবিবাহিত ১,০০০ জন মানুষ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে বিবাহিত ৩,০০০ জন মানুষের ওপর। এখানে দেখা যায়, নিজেদের জীবন উন্নত করার ক্ষেত্রে অবিবাহিত মানুষ বেশি জোর দেন।

৪) বিয়ের পর পুরুষরা কিপটে হয়ে যান
১৯৮৭-৮৮ সালে এবং পাঁচ বছর পরে আবার করা একটি জরিপ থেকে দেখা যায়, এই সময়ের মাঝে বিয়ে করা পুরুষেরা তাদের আত্মীয় এবং বন্ধুদের পেছনে টাকা খরচ করা কমিয়ে দেয় বিয়ের পর। ডিভোর্সের পর আবার তারা এই খরচ বাড়িয়ে দেয়, আবার ডিভোর্সের পর আরেকটি বিয়ে করলেও তারা খরচ কমান না। নারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা হতে দেখা যায় না।

৫) একাকীত্বের সময়টাকে উপভোগ করেন এবং কাজে লাগান অবিবাহিতরা
সাইকোথেরাপিস্ট অ্যামি মরিনের মতে, একলা সময় কাটানো আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বেশকিছু ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। তা আপনাকে আরও কর্মক্ষম এবং সৃজনশীল করে তুলতে পারে। এই সময়টায় আপনি নিজেকে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ পান।

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here