বিএসইসি নিজেই গোল দেওয়ার ও ঠেকানোর চেষ্টা করে

571

শেয়ারবাজারের আলোচিত কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির তদন্তের নামে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এক প্রকার ব্যক্তিগত বিরোধে জড়িয়ে পড়ে গুঞ্জন উঠে। এর ফলে অনেক খেসারত দিতে হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে। ড. এম খায়রুল হোসেন ও শাহজিবাজার পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলমের সঙ্গে পূর্ব মনমালিন্যের কারনে এমন হয় বলেও মতিঝিল পাড়ায় খবর প্রকাশ ছড়িয়ে পড়ে। এর মূল কারন হিসাবে খায়রুল হোসেন একটি প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন চাকরীর সময় শাহজিবাজার পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলমের দ্ধারা অপমানিত হন মূখে মূখে উচ্চারিত হয়। এসব বিষয়সহ আরও নানা বিষয় নিয়ে আজকের সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আনোয়ার হুসাইন।

বিজনেস আওয়ার: শেয়ার দর অস্বাভাবিকতারোধে শাহজিবাজার পাওয়ারের ট্রেড বন্ধ, স্পটে পাঠানো, মার্জিন বন্ধ, আপনাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য চেয়েছিল বিএসইসি। সংস্থাটির এই পদক্ষেপ গ্রহণকে কিভাবে দেখেছিলেন?

ফিরোজ আলম: শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে বিএসইসি যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা শেয়ার দরের সাথে কোন সর্ম্পক্য ছিল না। শেয়ার দর বাড়ার কোন অযৌক্তিক কারন খুজে বের করতে পারেনি বিএসইসি। তাদের ক্ষমতা আছে তাই এক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে তার ব্যবহার করেছিল।

বিজনেস আওয়ার: বিএসইসির এই পদক্ষেপের কারনে বাজারে কেনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন কি?

ফিরোজ আলম: বিএসইসির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের কারনে শাহজিবাজার পাওয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রং ম্যাসেজ যায়। এ ছাড়া শাহজিবাজার নিয়ে ঘটনাগুলো শেয়ারবাজারের হট ইস্যু হয়ে দাড়ায়।

বিজনেস আওয়ার: শাহজিবাজার পাওয়ার নিয়ে বিএসইসির কোন পদক্ষেপকে আপনারা অযৌক্তিক বলে মনে করেন?

ফিরোজ আলম: বিএসইসি তালিকাভুক্ত হওয়ার পূর্বের কাগজপত্র চায়। যা কোনভাবেই যৌক্তিক ছিল না। কারন হিসাবে বলেন, আইপিও অনুমোদনের আগে সব ধরনের কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমেই এসেছি। কিন্তু আইপিও’র মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে লেনদেনে আসার পরে আবার সেইসব কাগজপত্র চায় বিএসইসি।

বিজনেস আওয়ার: যদি সুনির্দিষ্ট করে বলতেন বিএসইসি কি ধরনের তথ্য চেয়েছিল?

ফিরোজ আলম: সহযোগি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত আর্থিক হিসাব ও কোম্পানিতে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তাদের বি.ও তথ্য চেয়েছিল। যা কোনভাবেই যৌক্তিক ছিল না। আর ২০০৯-১১ সালের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ট্রান্সফারের হিস্টোরি, ২০১২, ১৩ ও ১৪ সালের আর্থিক হিসাব। যা আইপিও আবেদনের সময় জমা দিয়েই অনুমোদন পেয়েছিলাম।

বিজনেস আওয়ার: গুজব আছে আপনাদের সাথে বিএসইসি চেয়ারম্যানের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন্দল আছে। যে কারনে শাহজিবাজার পাওয়ার নিয়ে বিএসইসির এইসব পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই বিষয়টি কতটা সত্য?

ফিরোজ আলম: ব্যক্তিগত কোন কারন থাকলেও তা বিনিয়োকারীদের উপর দেখানো ঠিক না।

বিজনেস আওয়ার: কোন একসময় বিএসইসি চেয়ারম্যানের ইষ্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে চাকরী নিয়ে সমস্যা ও কালো গুরু বলে সম্মোধন করেছেন বলে গুজব আছে। এ ধরনের কোন ঘটনা কি আছে?

ফিরোজ আলম: এ বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করব না।

বিজনেস আওয়ার: বিএসইসির গৃহীত পদক্ষেপে ব্যক্তিজীবনে কোন প্রভাব পড়ছে কি?

ফিরোজ আলম: বিএসইসি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নিয়ে জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলেছিল। আর একই কারনে নিয়মিত সামাজিকভাবে মর্যাদাহানি হতে হয়। যেখানে যাদের সাথে সুসর্ম্পক্য ছিল, তারাও সন্দেহের চোখে দেখেছে। এ ছাড়া শাহজিবাজার নিয়ে বারবার তদন্ত করায় কোম্পানিতে কিছু একটা হচ্ছে বলে সন্দেহ করেছে তারা।

বিজনেস আওয়ার: বিএসইসির পদক্ষেপের কারনে কোম্পানির কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটেছিল কি?

ফিরোজ আলম: বিএসইসির কারনে কোম্পানিটির স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। বিএসইসির প্রতিনিয়ত অযৌক্তিক কোয়ারি পাঠায়। যার জবাব দিতে দিতে দিন শেষ হয়ে যায়। ওই সময় র্মকর্তাদের রাত ৮- ৯টা পর্যন্ত অফিস করা লেগেছে। যা কোম্পানিটির ইতিহাসে নেই।

বিজনেস আওয়ার: এমতাবস্থায় পুঁজিবাজারে আসাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ফিরোজ আলম: বিএসইসি যা করেছে তাতে আইপিওতে এসে অন্যায় করে ফেলেছি বলেই মনে হয়। যে কারনে ডিলিস্টেড এর মাধ্যমে টাকা ফেরত দিয়ে শেয়ারবাজার থেকে চলে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে।

বিজনেস আওয়ার: শাহজিবাজারের ন্যায় অন্য কোম্পানিতে এমন আচরন করলে শেয়ারবাজারে কোন প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন কি?

ফিরোজ আলম: শাহজিবাজারের মতো অন্য কোম্পানিতে এভাবে আচরন করলে তা নিশ্চিতভাবেই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যাতে একসময় ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসা বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজনেস আওয়ার: একটি প্রোগ্রামে বিএসইসি চেয়ারম্যান শাহজিবাজারের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, কোম্পানিটি আর্থিক অনিয়ম করেছে তারপরেও দাম বাড়ছে। যে কারনে আবারো তদন্ত করার কথা বলেছিলেন। এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখেছিলেন?

ফিরোজ আলম: বিএসইসির চেয়ারম্যানের মতো পদে থেকে একটি সুনির্দিষ্ট কোম্পানির নাম ধরে এভাবে বলতে পারেন না।

বিজনেস আওয়ার: নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিএসইসির বর্তমান কার্যক্রমকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ফিরোজ আলম: বিএসইসির কাজ রেফারির ভূমিকার ন্যায় হলেও তা পালন করা হচ্ছে না। খেলোয়ারদের মধ্যে অনিয়ম হচ্ছে কি না, বিএসইসি তা না দেখে নিজেই গোল দেওয়ার ও ঠেকানোর চেষ্টা করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজার নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছে। যেখানে বেআইনীভাবে কাজ করছে। বিএসইসি শাহজিবাজার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজনেস আওয়ার: শাহজিবাজারের শেয়ার কেনা-বেচা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারেনি। বিষয়টিকে কিভাবে দেখেছেন?

ফিরোজ আলম: শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার কিনে সাধারন বিনিয়োগকারীরা বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছে। সাথে সাথে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সাধারন বিনিয়োগকারীদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এটা বিএসইসির কাজ না এবং করাটা ঠিক হয়নি।

বিজনেস আওয়ার: শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে মনে করে বিএসইসি। আপনি কি মনে করেছেন?

ফিরোজ আলম: পিই ৪০ এর বেশি হওয়ার কারনে অসংখ্য কোম্পানির শেয়ার ননমার্জিনঅ্যাবল ছিল এবং আছে। যেগুলো নিয়ে বিএসইসির কোন মাথাব্যাথা নেই। অথচ শাহজিবাজার পাওয়ারের মত একটি মৌলভিত্তি কোম্পানি নিয়ে বিএসইসির মাথাব্যাথার শেষ ছিল না। আজও যার কোন যৌক্তিক কারন খুজে পাইনি।

বিজনেস আওয়ার: বিএসইসি অযৌক্তিকভাবে তদন্ত করছে বলে দাবি করলেও সংস্থাটি অনিয়মের কারনে আপনাদেরকে ৫৫ লাখ টাকার জরিমানা করেছিল। তাহলে জরিমানার কবলে ড়লেন কেনো?

ফিরোজ আলম: অযৌক্তিকভাবে পরিচালকদের জরিমানা করা হয়েছিল। এ ছাড়া অনিরীক্ষিত অ্যাকাউন্টসের উপর বিশেষভাবে অডিট করিয়ে জরিমানা করা ঠিক হয়নি। যেটা দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। অ্যাকাউন্টসে যদি গরমিল থাকে তা অবশ্যই নিরীক্ষায় ধরা পড়বে। সেজন্য তো আমাদের অডিট করা পর্যন্ত সময় দিতে হতো। আর যেটাকে ব্যয় না দেখানোর কারনে জরিমানা করা হয়েছিল, সেটাও ছিল অযৌক্তিক। বিষয়টি ছিল জাজমেন্টের।

বিজনেস আওয়ার: শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার বেচা-কেনায় বিএসইসির পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কোন অভিযোগ আপনাদের কাছে আসত?

ফিরোজ আলম: ওই সময় শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার বেচা-কেনা করতে দেয়নি এমন কথাও শুনতে হয়েছে। যেখানে নিয়মিতভাবে সাধারন বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিতে ফোন করে এর কারন কি তা জানতে চাইত। এক্ষেত্রে শাহজিবাজারের শেয়ার কিনে তারা অন্যায় করে ফেলেছে কিনা জানতে চাইত। আর যারা কিনতে চেয়ে পারছেন না কোন, তাও জানতে চাইতেন।

বিজনেস আওয়ার: ব্যয় হ্রাসে ঋণ পরিশোধের জন্য শাহজিবাজার পাওয়ারকে শেয়ারবাজারে নিয়ে এসেছেন। এমতাবস্থায় শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের পরে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক ভবিষ্যত কেমন দেখছেন?

ফিরোজ আলম: শাহজিবাজার পাওয়ারের ভবিষ্যত উজ্জল। শাহজিবাজার পাওয়ারের সাবসিডিয়ারি পেট্রোম্যাক্সের সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো কোন কোম্পানি বাংলাদেশে নেই। কিন্তু একটি চক্র কোম্পানিটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here