খালেদার মামলা চালাতে ‘বাধা পাচ্ছে’ দুদক

25
ফাইলফটো

খালেদা জিয়ার আইনজীবীর দিকে ইঙ্গিত করে মামলা পরিচালনায় বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের আইনজীবী ও কর্মকর্তারা তাকে আগেও বিষয়টি বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তখন আমলে নেননি।

এই মামলার আগের দিনের শুনানিতে খালেদার আইনজীবীরা দুদকের কৌঁসুলিদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তুমুল হৈ চৈ করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার ইকবাল মাহমুদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুললেও কোন মামলায় কারা বাধা দিচ্ছে, তা সরাসরি বলেননি।

তিনি বলেন, “আমাদের আইনজীবী ও ডিজি আজকে বলছেন, আমাদের কোনো কোনো মামলায় দেখা যাচ্ছে যে অহেতুক সময় চাওয়া হচ্ছে। পরিবেশ অনেক সময়.. এমন হয় যে, মামলাটা পরিচালনাই করতে পারছেন না।

“শাস্তির প্রশ্ন তো পরে। আমরা মামলা শেষ করতে চাই, কিন্তু মামলা শেষ করতে পারছি না।”

‘তুচ্ছ’ বিষয় নিয়ে আসামি পক্ষ বারবার সময় নেওয়ায় মামলা দীর্ঘসূত্রী হচ্ছে, বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

“আমাদের আইনজীবী যখন বলেন, তিনি আদালতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হচ্ছেন, সেই ক্ষেত্রে তো আসলেই দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, আমরা তো এমন অবস্থা প্রত্যাশা করি না।”

“কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যে, সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আমাদের আইনজীবী কথাই বলতে পারেন না। তাকে বাধা দেওয়া হয়। আজকে শুনলাম, শুনে হতবাক হয়ে গেছি, আমাদের আইনজীবীকে, ইভেন শক্তি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে।”

জিয়া ট্রাস্ট মামলায় আদালতে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি) জিয়া ট্রাস্ট মামলায় আদালতে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)
দুদকের সাক্ষীরা উপস্থিত হলেও আসামি পক্ষের টালবাহানায় সাক্ষ্যগ্রহণও হচ্ছে না বলে দীর্ঘসূত্রতার কারণ দেখান দুদক চেয়ারম্যান।

“আমাদের সাক্ষীরা আদালতে গিয়ে বসে থাকে, তদন্ত কর্মকর্তা গিয়ে বসে থাকে, সাক্ষ্য হয় না।”

মামলাগুলো কোনগুলো- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “আপনারা যদি স্পেসেফিক জিজ্ঞাস করেন, আমি তা বলব না। বলব না এই কারণে এটা আপনাদের দায়িত্ব জেনে নেওয়া যে, কোথায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।”

গত ২৪ জুলাই শুনানিতে উত্তেজনার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছিল আদালত; পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দুঃখ প্রকাশ করলে বিচারক কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেন।

সেদিন শুনানিতে দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছিলেন, “আসামি পক্ষ এ মামলা পরিচালনায় বিচারককে কোনো প্রকার সাহায্য না করে পুরো বিচারটিকে শুরু থেকেই নস্যাৎ করার জন্য আদালতকে অশ্রদ্ধা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।”

শুনানিতে খালেদার আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন দুদকের কৌঁসুলির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে আরও বলেছিলেন, আদালত দুদকের আইনজীবীর ইশারায় মামলার তারিখ দিচ্ছে।

বিএনপির অভিযোগ, তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here