সেই ফুয়াদ কারাগারে

45

পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফুয়াদ বিন সুলতানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ ফুয়াদকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে।

গত ৩ আগস্ট ফুয়াদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে ১ আগস্ট রাতে উত্তরা মডেল টাউনের এক বাসা থেকে ফুয়াদকে আটক করে র‌্যাব-১। এ সময় তার কাছ থেকে পাইরেটেড সিডি, পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ বেশ কিছু ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ফুয়াদ পুলিশের প্রাক্তন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক সুলতান আহমেদের ছেলে। সুলতান আহমেদ প্রায় এক দশক আগে মারা গেছেন।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম জানান, ইংরেজিতে স্নাতক শেষ করে ফুয়াদ বিন সুলতান চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন। পরে উত্তরাতে নিজের বাড়ির দুটি ফ্ল্যাটে পর্নো সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ফুয়াদ বিন সুলতান (৩৩)।

ফুয়াদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সুলতান ২০১১ সাল থেকে গুলশান ও উত্তরা এলাকায় বাসা ভাড়া করে দেওয়ার ব্যবসা শুরু করে। সে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসা ভাড়া করে দিয়ে কমিশন নিত। এরপর ২০১৪ সাল থেকে ইন্টারনেটের ব্যবসা শুরু করে। তখন থেকে পর্নোসাইটের ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার চিন্তা করে। সেই চিন্তা থেকে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে দুটি ওয়েবসাইট চালু করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করে।

ফুয়াদ মেয়েদের আপত্তিকর ছবি ও ফোন নাম্বার ওইসব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করত। তবে সেসব ওয়েবসাইটে সবার প্রবেশের অনুমতি ছিল না। ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য সে টাকার বিনিময়ে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড সরবরাহ করত। তারপর সাইটে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী পছন্দ করলে তাদেরকে উত্তরার নিজ বাসাতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যবস্থা করে দিত। তার ফ্ল্যাটে আসা তরুণ-তরুণীদের ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকও সরবরাহ করত সে।

শারীরিক সম্পর্কের সেসব দৃশ্য গোপনে ভিডিও করত ফুয়াদ। সেসব ভিডিও দিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাকমেইল করে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বাধ্য করত। সে মুখোশ পরিয়ে মেয়েদের অশালীন অবস্থায় পাশে বসিয়ে ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করত।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরো জানান, সুলতান তার ফ্ল্যাটে পর্নো ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্নোসাইটের কাছে বিক্রি করত। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে ধারণ করা অশ্লীল ভিডিও কিনে নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করত।

আটটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের পর্নো ব্যবসা একমাত্র ফুয়াদই করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এভাবে ফুয়াদ নিজেকে পর্নো সাম্রাজ্যের একজন শিল্পী বলে দাবি করত বলেও জানান সারোয়ার বিন কাশেম।

বিজনেস আওয়ার/এস আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here