ইনভার্টার প্রযুক্তির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ-এসি তৈরি করছে ওয়ালটন

44

আধুনিক বিশ্বে ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্সেসে ব্যবহৃত হচ্ছে লেটেস্ট প্রযুক্তি ‘ইনভার্টার’। বিশেষ করে ফ্রিজ এবং এসিতে যুগান্তকারী ইনভার্টার কম্প্রেসারের সংযুক্তি এসব পণ্যকে করেছে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে ওয়ালটন ফ্রিজ এবং এসিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে শুধুমাত্র ফ্রিজেই বছরে সাশ্রয় হবে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা দিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

জানা গেছে, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে ফ্রিজ গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রকৌশলীরা তৈরি করছেন ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসার সম্বলিত ১৮০০০ বিটিইউ’র (ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) এসি এবং ১৬টি বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও কালারের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর। সেসঙ্গে ফ্রিজের কম্প্রেসারে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্ব স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব সিএফসি এবং এইচএফসি গ্যাসমুক্ত R600a রেফ্রিজারেন্ট। যা পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় করে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত। সবমিলিয়ে ওয়ালটন ফ্রিজ এবং এসি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে ৫০ শতাংশ। ওয়ালটন ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ ও এসি বাজারে আসার অল্প দিনের মধ্যেই গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে। এ ছাড়া ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হিসেবে বিএসটিআই এর ফাইভ স্টার রেটিং অর্জন করেছে ওয়ালটন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়। তাদের ধারণা, বর্তমানে দেশে দুই কোটিরও বেশি ফ্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত একটি ফ্রিজের মাসিক বিদ্যুৎ বিল গড়ে প্রায় ৩০০ টাকা। সেই হিসাবে পুরো বছরে আসে ৩৬০০ টাকা। এসব ফ্রিজ যদি ইনভার্টার প্রযুক্তির হতো তাহলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতো প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে করে পুরো বছরে একটি ফ্রিজে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ১৮০০ টাকা। আর দুই কোটি ফ্রিজে বাৎসরিক বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে ৩,৬০০ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতিও হ্রাস পাবে।

সূত্রমতে, ইনভার্টার প্রযুক্তিতে মাদারবোর্ডে স্থাপিত মাইক্রো-প্রসেসরের মাধ্যমে কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। ফ্রিজের ভিতরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন/অফ বা কম গতিতে কম্প্রেসার চলে বিধায় এতে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এ ছাড়াও, সাধারণ ইন্ডাকশন প্রযুক্তির তুলনায় ইনভার্টার প্রযুক্তির কমপ্রেসার চালু হতে প্রায় ৮-১০ গুণ কম বিদ্যুৎ লাগে এবং কম ভোল্টেজেও চলে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ইনভার্টার হচ্ছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। ইনভার্টার যেকোনো মটরের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এনার্জি সাশ্রয় করে। তাই বড় বড় শিল্প কারখানার মেশিনারিজে ব্যবহার করা হচ্ছে ইনভার্টার প্রযুক্তির মটর। এ ছাড়া ফ্রিজ ও এসির কম্প্রেসারে ব্যাপকভাবে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তাই, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সরকারও খুব সচেতন। ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ উৎপাদন ও বাজারজাত নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শুভ উদ্যোগ।’ এমন মহৎ উদ্যোগের জন্য ওয়ালটনকে সাধুবাদ জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ ব্যবহারের ফলে বছরে যদি ৩৬০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, এই বিশাল অর্থ দিয়ে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে আরেকটি বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করেন তিনি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য উৎপাদনে ওয়ালটনের এমন মহৎ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান নসরুল হামিদ।

এদিকে রাজধানীর ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সর্ববৃহৎ বাজার ‘স্টেডিয়াম মার্কেট’ এ দেখা গেছে, অনেক নন-ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজের গায়েও ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লেখা স্টিকার লাগানো। আর এসব ফ্রিজ কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। স্টেডিয়াম মার্কেটে আসা ক্রেতা তড়িৎ প্রকৌশলী এসএম খায়রুল হালিম বলেন, একমাত্র ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসার সম্বলিত ফ্রিজ এবং এসিই হবে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ব্র্যান্ড ভেদে প্রযুক্তি ভিন্ন, এমনকি নন-ইনভার্টার ফ্রিজ ও এসির গায়েও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লেখাটি দেখতে পারছি। এতে করে, সাধারণ গ্রাহকরা প্রকৃত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্যটি বেছে নিতে পারছেন না।

তিনি মনে করেন, সব ব্র্যান্ডের ফ্রিজেই বিএসটিআই’র এনার্জি রেটিং নিশ্চিত করা ও তা ফ্রিজের গায়ে লেখা থাকা বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে গ্রাহক প্রতারণা ঠেকানো যাবে।

ওয়ালটন আরএন্ডডি বিভাগের প্রধান তাপস কুমার মজুমদার বলেন, ফ্রিজের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত খাবারের পরিমাণ অথবা রুমের তাপমাত্রা অনুযায়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। যা চলে মাদারবোর্ডের মাধ্যমে। প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসার অন/অফ বা বিভিন্ন গতিতে চলে বিধায় বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়।

তিনি আরো বলেন, ইনভার্টারে কুলিং পারফরমেন্সের কোনো তারতম্য না থাকায় খাবারের মান অক্ষুন্ন থাকে। ইন্ডাকশন কম্প্রেসারের একটি মাত্র নির্দিষ্ট গতিতে চলে কিন্তু ইনভার্টার কম্প্রেসার বিভিন্ন গতিতে চলে বিধায় এর কার্যক্ষমতা ইন্ডাকশন কম্প্রেসারের তুলনায় অনেক বেশি।

ওয়ালটন সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল আম্বিয়া বলেন, R600a হচ্ছে পরিবেশ-বান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। এটি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। ইনভার্টার প্রযুক্তি ও R600a গ্যাস ব্যবহার করায় ওয়ালটনের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটরে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ৫০ শতাংশের বেশি।

ওয়ালটনের প্রকৌশলীরা জানান, বাংলাদেশের জন্য ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড স্বীকৃত এবং ISO 1702 সনদপ্রাপ্ত টেস্টিং ল্যাব NUSDAT-UTS থেকে মান যাচাই করে বাজারজাত করা হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। মান নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে জিরো টলারেন্স নীতি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী ফ্রিজ উৎপাদন ও রপ্তানি করছে ওয়ালটন। তাদের মতে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফ্রিজ কেনার সময় গ্রাহককে আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার।

বাজারে বর্তমানে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ৪৩০ লিটার, ৪৬৭, ৫১২, ৫২০, ৫২৬, ৫৫৫, ৫৭৫ ও ৫৮৫ লিটারের ১৬টি মডেলের নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ রয়েছে ওয়ালটনের।

উল্লেখ্য, উৎপাদনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স, অসংখ্য ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় কালার, সাশ্রয়ী মূল্য, এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি, ইনভার্টার কম্প্রেসারে ১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি, দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা, দেশব্যাপী বিস্তৃত আইএসও সনদপ্রাপ্ত সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং সর্বোপরি স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগি করে তৈরি বলে বাংলাদেশের ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ ওয়ালটনের ফ্রিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here