হলি আর্টিজানের ভয় কাটছে জাপানি বিনিয়োগকারীদের

14

জাপানের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হলি আটিজানের পর যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো তা কাটতে শুরু করেছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিগগিরই বড় বিনিয়োগ সাড়া মিলবে বলে আশা করছেন সরকারি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তারা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক-এসডিজি কর্মসূচির মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব শুভাশীস বসু, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান, মেট্রপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

মূলত সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর সফরে যান। সেখানে জাপান এবং সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক-এসডিজি কর্মসূচির মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কামাল আজাদ বলেন, হলি আর্টিজানের পর জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো। ওই ঘটনার পর জাপানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্বঘোষিত বড় একটি ব্যবসায়িক বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। সেটি চলতি মাসের শুরুতে করলাম। সিঙ্গাপুরে বৈঠকটি হয়েছে। আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। তারা বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর তাদের মধ্যে যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো তা কেটে যাচ্ছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে বিনিয়োগের সুবিধা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেছি। জাপানিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা করা কঠিন। তবুও সফলভাবে আলোচনা করেছি। শিগগিরই হয়তো বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। একইভাবে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা একশ বিনিয়ন ডলার বিনিয়োগের চিন্তা করছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, জাপান এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তার ১০ শতাংশও যদি আনতে পারি তাহলে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে। তারা কিছু সংঙ্কারের বিষয় সামনে এনেছে। সেগুলো আমাদের দ্রুত করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করব।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বান্ধব নীতি করতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থাগুলোতে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের রাখা জরুরি। তাহলে আর নীতি প্রণয়নে সমস্যা হবে না। আলোচনা করে সঠিক নীতি গ্রহণ করা যাবে।

মেট্রপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগ গন্তব্যের ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩। কিন্তু দেশটির স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। হলি আর্টিজানের পর বৈঠক করে আমরা বুঝতে পারলাম, সেটি কেটে যাচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব শুভাশীস বসু বলেন, সিঙ্গাপুর ও জাপানের বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু সংস্কারের কথা জানিয়েছে। যেমন কোম্পানি আইন তার মধ্যে রয়েছে। আইনটি বেশ কয়েকবার সংশোধেনের উদ্বোগ নেয়া হয়েছে। তবে এখন আবার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হবে। আইনটি যুগপোযগী করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here