সরকারি আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার তাগিদ

86

বাংলাদেশে আয়-ব্যয়ের বিবরণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয় না। বাজেটের অনেক তথ্য যেমন জনসমক্ষে আসে না; তেমনি মধ্যবর্তী পর্যালোচনা হয় না। এমনকি নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করাও হয় না। জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেট নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। এই অবস্থার উত্তরণে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা (ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি) আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এই সুপারিশ করা হয়। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এই প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

একই অনুষ্ঠানে পিআরআইয়ের সুপারিশ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দুই বছর আগে এ ধরনের সুপারিশ দিলে ভালো হতো। আগামী বছর হলো নির্বাচনের বছর, নানা কিছু আছে। আগামী বছর সংস্কার করার জন্য ভালো বছর নয়। তাঁর মতে, ২০২০ সালের আগে প্রকৃত অর্থে এসব সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হবে না। তবে যেকোনো বিষয়ে স্বচ্ছতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সংস্কারকে টেকসই করে।

গুলশানের আমারি হোটেলে ‘বাংলাদেশের সরকারি আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতায় উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, সাবেক আমলা, গবেষকেরা আলোচনায় অংশ নেন।

আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতায় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়, তা বোঝানোর জন্য মূল প্রবন্ধে দুটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল বাজেট পার্টনারশিপের (আইবিপি) উন্মুক্ত বাজেট সূচকে (ওবিআই) পাঁচটি ক্যাটাগরির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝি সি থ্রি ক্যাটাগরিতে। অন্যদিকে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০১৫ সালের ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতায় ন্যূনতম মান অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের হিসাবে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় বাজেটের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি। ভারতে বাজেটের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে বাজেটের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হয়। তবে বাংলাদেশের চেয়ে সামরিক খাতে বেশি ব্যয় করে থাকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভারতের সামরিক ব্যয় অনেক বেশি উন্মুক্ত। প্রায় সবকিছুই ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে ভারত একটি উদাহরণ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী বছর থেকে সম্পূরক বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে। সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করলাম আর পাস হলো, তা হবে না। তিনি আরও বলেন, একটি অগ্রিম বাজেট বিবৃতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া নিজস্ব আয় বাড়াতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোয়েল রেইফম্যান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা দরকার। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চায় বাংলাদেশ। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়বে কি না। এই ফাঁদ থেকে বের হতে উচ্চ উৎপাদনশীলতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান, সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ তারেক, সাবেক বাণিজ্যসচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুসলিম চৌধুরী, প্রাইসহাউসওয়াটারকুপারসের কৌশলগত অংশীদার মামুন রশীদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here