‘রায় প্রতিহত’ করতে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের তিন দিনের কর্মসূচী

16

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা।

শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নুর তাপস রায়ের প্রতিবাদে ১৩, ১৬ ও ১৭ আগস্ট দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন।

কর্মসূচি দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সংবাদ সম্মেলেনে বলা হয়, ‘যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রকে নস্যাৎ করতে চাই সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই। যারা বিচার অঙ্গনকে যারা অস্থিতিশীল করতে চাই আমরা তাদের প্রতিহত করব।’

বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে এনে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংশোধন হয় সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ যা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নামে পরিচিত। কিন্তু পরে হাইকোর্টে এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা হয় পরের বছর। আর সরকার আপিল করলে গত ৩ জুলাই সে আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশের পরই সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সরকারি দল এমনকি জাতীয় পার্টির সদস্যরা। আর ১ আগস্ট প্রকাশ হওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে শাসন ব্যবস্থা এবং সংসদ নিয়ে করা নানা মন্তব্য ক্ষুব্ধ করে তোলে সরকারকে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় প্রধান বিচারপতিকে আগস্টের মধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। নইলে তার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন তিনি।

একই দিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই রায়ের খুঁটিনাটি পড়ে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা খতিয়ে দেখতে দলের নেতাদের নির্দেশ দেন।

দুই দিনের মাথায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সংবাদ সম্মেলন ডেকে কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাপস বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কটূক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা। আমরা মনে করি দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র ও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।’

পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সংসদ সদস্য তাপস বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোন মহল বিচারাঙ্গককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন বক্তব্য দিবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’

তাপস বলেন, ‘আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত।’

ষোড়শ সংধোশনীর রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি এই রায়কে অপরিপক্ক বলেছেন। রায়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার এই বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তাপস বলেন, ‘আমরা মনেকরি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন।’

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয়েছে, এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি। এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক।

বিজনেস আওয়ার/ সাআ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here