ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫


পোষাক খাতের শ্রমিকদের মজুরী বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রনে কি হবে...

২০১৮ জানুয়ারি ১৬ ২১:৪১:০৭

সৈয়দ শামসুর রহমান বিপ্লব: আশার কথা আমাদের দেশের চল্লিশ লাখ শ্রমিকের মজুরী বাড়ছে। যেমন হারে বাড়ছে তাতে কি বাজার হাতের মুঠোয় আনা যাবে? প্রশ্ন হলো এভাবে মজুরী বাড়িয়ে তাদের যে সুবিধাটুকু দেয়া হবে তার কতটা তারা ভোগ করতে পারবে স্বছন্দ্যে। সরকার নিজ তাগিদে জনগনের স্বার্থে দেরিতে হলেও তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে মজুরি বোর্ড গঠন করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

পোষাক শ্রমিকদের এ মজুরি নির্ধারনের বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপোক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতারা। আসলে তারা মনে করছেন সরকারের এ সংশোধনে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি না থাকলে সব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। সে কারনে এমনটা মনে কারছেন তারা। তাদের শংকার আরও একটা জায়গা হলো যে হারে পারিশ্রমিক বাড়ানো হবে তা সময়পযোগী না হলে সংশোধন কাজে আসবে না।


এমন শংকা থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে দাবি করেন, প্রতিবার ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে সরকারদলীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মনোনীত করা হয়। তাঁরা কখনোই শ্রমিক স্বার্থের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। ফলে মালিকপক্ষের চরম আধিপত্য হয় মজুরি বোর্ডের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। এবারও মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের একক আধিপত্বের আশঙ্কা করেছেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা।

তাদের এ দাবিও ভেবে দেখার সময় এসেছে। সংগঠন থাকবে তার কাজও থাকবে তবে তাদের বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হোক সাধারণ মানুষ তা চায় না॥

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র দুই বছরের অধিক সময় ধরে আন্দোলন করে আসছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে শেষ করা এবং পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা এবং মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে।

পোষাক শ্র্রমিকদের সংগঠন যে শংকা করছেন তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। কিš‘ মজুরী বাড়ার সংবাদে ঘরভাড়া, নিত্যপন্য লাগামহীন উদর্ধমুখি দামের সাথে পাল্লা দেয়া কি সম্ভব্ হবে? আমাদের দেশের ভোগ্যপন্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে কডা মনিটরিং জরুরী। বহুজাতিক কোম্পানির পন্যর দাম বাড়ালেও কোনও প্রশ্নের মুখে আাসে না। কিš‘ কেন? বিক্রেতা, ক্রেতা কিংবা মধ্যস্বত্ত কারবারি কেউ মুখ খুলতে চান না। এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ে যা এখন লিটার গিয়ে দাড়িয়েছে একশ টাকার আশেপাশে। এরজন্য সাধারণ মানুষের করনীয় কি তা প্রকাশের সুযোগ সে ব্যাবসায়ীরা রেখেছেণ কি না তাও দেখতে হবে।

শুধু মজুরী বাড়িয়ে হয়তো একটা আংশিক সমাধান সম্ভব, এর সঙ্গে আসলে বাজারে দর নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরী নয় কি? আমাদের দেশে উৎপাদিত পন্যর মোট চাহিদার তুলনায় কি ভাবে বিলি বন্টন হ”েছ তা হিসেবের খবর সাধারনের কাছে থাকতে হবে। মজুরী বাড়িয়ে কোনো খাতের সমস্যাও তৈরি করা যাবে না। শ্রমিক প্রতিনিধিদেরও সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে, প্রতিষ্ঠানের কথাও মাথায় রাখতে হবে। নয়তো এ মজুরী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শুভঙ্করের ফাঁকিতে পড়ে নষ্ট যেনো না হয়ে। বিশদ পর্যবেক্ষনে গিয়ে তার শঙ্কা থেকেই যায়। বিশ্লেষকদের মতে আমাদের দেশে মজুরীর সাথে সাথে বাজার নিয়ন্ত্রনও জরুরী। তাহলেই ওই শ্রেনী উপকৃত হবে। এর সুফল যাতে প্রকৃত পক্ষে শ্রমিকদের হাতে পর্য়াপ্ত সঞ্চয় থাকে। শ্রমজীবীদের নতুন প্রজন্ম্রে জন্য আগামীর কথা ভেবে তারাও কিছুটা সঞ্চয় রেখে অবসরে যেতে পারে। এমনটাই প্রত্যাশা করাই যেতে পারে।

লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

উপরে