ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

শুধু আয় নয় চিত্রশিল্পের বহিঃপ্রকাশ করাই প্রধান উদ্দেশ্য 

২০১৮ জানুয়ারি ১৭ ২০:৪৮:১৬

শিল্পকলার মহত্তম মাধ্যম চিত্রকলা মানুষের বোধ ও অন্তর্জগৎকে যতটা প্রভাবিত করে, তা বহুমাত্রিক ও অতুলনীয়। জীবন ও সময়কে চিত্রকলা যতটা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অনুভূতিময় ও স্পর্শযোগ্য করতে পারে, তা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরল। একজন শিল্পী তার মনের গহীন দৃষ্টিকোন দিয়ে পেঞ্ছিল, রংতুলির ছোঁয়ায় চোখের সামনে দৃশ্যমান করে তুলে যে কোন কিছু।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবছরই কিছু চিত্রশিল্পী নিজেদের চিত্রকর্মের মাধ্যমে মানুষকে শিল্পছোয়া বিতরন করে থাকে। বাণিজ্যমেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকলেই রংতুলি আর পেন্সিলের ব্যাগ কাধে কিছু চিত্রশিল্পী সামনে পরে। হাতে ছবির বোর্ড নিয়ে এসব শিল্পীরা মেলায় উপস্থিত লোকজনের ছবি একে দিতে বাস্ত। এক্ষেত্রে তাদের কিছু স্বল্প আয় হলেও তাদের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের চিত্রশিল্পকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। নিজের আত্মতৃপ্তির মাধ্যমে সাধারন জনগনের মধ্যে যেন শিল্পরুপ সুধা বিলিয়ে দেয়া।
চিত্রশিল্পী এম এ আজিজের সাথে বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টিফোর ডট কম এর আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে তিনি বাণিজ্য মেলায় ছবি আঁকেন। বাণিজ্য মেলা তার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মত। সারা বছর তিনি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় ঘুরে বেড়ান সবার ছবি এঁকে দেওয়ার জন্য। এতে তিনি এক স্বর্গীয় আত্মতৃপ্তি পান।
তিনি বলেন, “কারো মনের পছন্দমত ছবি এঁকে দেওয়ার পর যখন তার চোখে মুখে থাকে ভালোলাগার ঝিলিক তখন আমরা স্বর্গীয় আনন্দ অনুভব করি, যা বোঝানোর ভাষা আমার জানা নেই।”
চিত্রশিল্পে মানুষের সাড়া কেমন এই প্রশ্নের জবাবে এম এ আজিজ বলেন, মানুষ বরাবরই শিল্প নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ শিল্পকর্মে আগ্রহী। ইতিহাসের রুপের পরিবর্তন ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন চিত্রকর্মের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। মানুষ এখনো চিত্রশিল্পে যথেষ্ট আগ্রহী। পৃথিবী যতদিন থাকবে চিত্রশিল্প থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই শিল্পী।
কোন স্টল ছাড়া খোলা জায়গায় ছবি আঁকছেন কেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইপিবির বিশেষ বিবেচনায় তারা বাণিজ্য মেলায় বসেন। এজন্য তাদের কাওকে কোন টাকা দিতে হয় না। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় স্টল নিতে যে টাকা ব্যায় হয় তা নিতান্তই তাদের সাধ্যের বাইরে। এইজন্যই তাদের এই ব্যতিক্রমি ব্যবস্থা।
শিল্পকর্ম থেকে রোজগারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এই শিল্পী বলেন, ছবি আঁকাই টাকার জন্য না। চিত্রশিল্পের বহিঃপ্রকাশ করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। তারপরও মানুষ ভালবেসে খুশি হয়ে কিছু টাকা দেন । যা সম্মানী হিসেবে রেখে দেই যাতে পরে কোন কাজে লাগাতে পারি।
উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী এম এ আজিজ খুলনা থেকে এইচ এস সি পাশ করে চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে চারুকলা বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে স্নাতক পাশ করার পর ২০০৪ সালে চারুকলা থেকে মাস্টার্স পাস করেন।
বাণিজ্যমেলায় আজিজ সহ মোট ১২ জন চিত্রশিল্পী বসেন। তারা সবাই মেলায় উপস্থিত লোকজনের পছন্দমত যে কোন ধরনের ছবি আঁকেন। তবে মানুষ সামনে বসে ছবি আঁকানোর চেয়ে ছবি থেকে ছবি আঁকাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলে জানান এই চিত্রশিল্পীরা।
উপরে