ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫


নাকউঁচু আমেরিকানদের কিছু অভ্যাস যা অন্যদেশে রীতিবিরুদ্ধ কাজ

২০১৮ জানুয়ারি ৩০ ১৫:৪১:৫০

রূপাঞ্জন গোস্বামী , কলকাতা থেকে:আমেরিকানরা নিজেদের খোলামেলা সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব অনুভব করে। কোন দেশই না করে। কিন্তু আমেরিকানরা টিপস দিতে ভালো বাসেন। কিন্তু জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় টিপস দেওয়াটা অপমানসূচক। এখানে কর্মীরা মনে করেন তাঁরা তাঁদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এবং তাঁরা তাঁদের কাজ নিয়ে গর্বিত।

আমেরিকানরা কথায় কথায় 'থামস আপ' দেখান। মিডল ইস্ট, ল্যাটিন আমেরিকা, ওয়েস্টার্ন আফ্রিকা, রাশিয়া এবং গ্রীসে এটা মিডল ফিঙ্গার দেখানো। আমেরিকানরা দাঁত বার করে হাসেন। এটা জাপানে অমার্জিত ও দুর্বিনীত ব্যবহার।

আমেরিকানরা অন্য দেশে গিয়ে বলে তারা আমেরিকা থেকে এসেছেন। ল্যাতিন আমেরিকার লোক এটা ভীষণ অপছন্দ করে। তারা মনে করে আমেরিকান হবার কপিরাইট একমার ইউএস নাগরিকদেরই হাতে নেই। তারাও আমেরিকান। তাই আমেরিকানদের ল্যাতিন আমেরিকায় বলতে হবে ইউএস থেকে এসেছি। নইলে প্যাঁক খেতে হবে।

আমেরিকানরা সাধারণত কোনো পার্টিতে পরে যান ও আগে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু জার্মানীতে এটা অত্যন্ত অপমানজনক। তোমার সময় জার্মানদের থেকে দামী নয়। আমেরিকানরা পকেটে হাত ঢুকিয়ে কথা বলেন। তুর্কী ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এটা অভদ্রতার লক্ষণ।

আমেরিকানরা বাম হাত দিয়ে নির্দ্বিধায় যেকোনো লোককে যেকোনো কিছু দিতে পারেন। কিন্তু আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিডল-ইস্টে এটা গালে চড় মারার মতোই অপমানজনক। আমেরিকানরা উপহার পেলেই উপহারদাতার সামনেই মোড়কটা খুলে ফেলেন । চীন ও ভারতে এটাকে স্রেফ হ্যাংলামি বলে গণ্য করা হয়।

আমেরিকানরা ঢোলা গেঞ্জি, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, বেসবল ক্যাপ ও হাওয়াই চটি পরে বিশ্ব ঘুরতে ভালোবাসেন। কিন্তু জাপান ও পুরো ইউরোপ মনে করে এরকম পোশাকপরা ব্যক্তি সম্মান পাওয়ার যোগ্য নয়। আমেরিকানরা লোকের বাড়িতে জুতো পরে ঢুকে যান। কিন্তু এশিয়ান ও ক্যারিবিয়ান কালচারে এটা চূড়ান্ত অভদ্রতা।

আমেরিকানরা অনেক সময় খালি গায়ে বিচে বসতে ভালো বাসেন। যেটা দক্ষিণ কোরিয়ায় চলবেনা।বিচেও শার্টের বুকের বোতাম খোলা রাখা চলবেনা। আমেরিকানরা যত্রতত্র পান করতে ও খেতে ভালোবাসেন। বাস, ট্যাক্সি, নিজের গাড়ী, লাইব্রেরি,পার্ক, স্টেডিয়াম , রাস্তা কোথায় নয়। কিন্তু রুয়ান্ডা ও জাপানে তা চলবেনা।রেস্টুরেন্ট, বার, হোটেল, বাড়ী ছাড়া অন্য কোথাও খাওয়া চলবেনা।

আমেরিকানরা হাগ করতে ভালোবাসেন। কিন্তু চীন থাইল্যান্ড কোরিয়া ও মিডল-ইস্টে এটা রীতিমতো অপমানজনক। আমেরিকানদের অভ্যাস সদ্যপরিচিত ব্যক্তিকে 'কি করো'(what do you do) জিগ্গেস করা।এটা নেদারল্যান্ডস-এ অপরকে নিম্ন শ্রেণীর ভাবার মানসিকতা বলে ধরা হয়।

আমেরিকানরা প্রায় পরের বাড়িতে খাবার রিফিউজ করেন ' নো থ্যাংকস' বলে এবং গৃহকর্তাকে বিব্রত করবেননা ভেবেই। কিন্তু বেশির ভাগ আরব দেশে ও লেবাননে এই ব্যবহার গৃহকর্তা বা গৃহকত্রীকে অপমান করা। আমেরিকানরা কেউ গিফট দিতে চাইলেই নিয়ে নেন। কিন্তু জাপান ও চীনে এটা করলে, মানুষটিকে লোভী ভাবা হয়।প্রাপককে অন্তত দুতিনবার গিফট রিফিউজ করতে হবে।তারপর নিলে ক্ষতি নেই।

আমেরিকানরা তাঁদের বাড়ির ভোজে কেউ চেটেপুটে প্লেট সাফ করলে খুশি হন। অপচয় হয়নি বলে। কিন্তু চীন, ফিলিপাইনস, থাইল্যান্ড রাশিয়ায় এর মানে আপনি ক্ষুধার্ত ছিলেন। এবং গৃহকর্তা আপনাকে পেটপুরে খেতেদিতে পারেননি। তাই ওই দেশগুলিতে প্লেটে কিছু খাবার ছেড়ে আসতে হবে।
আমেরিকানরা ট্যাক্সির পিছনে বসতে ভালোবাসেন কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস-এ এটা উন্নাসিকতার পরিচায়ক।

বিজনেস আওয়ার /এন

উপরে