ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪


শেয়ারবাজারে ওয়াইমেক্সের রেকর্ড!

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৬:১৯:২৬

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: অভিষেকের দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২০ টাকা হাঁকিয়েছিল। অভিষেকের দিন ক্লোজিং প্রাইস ছিল ১১৪.২০ টাকায়। শেয়ারবাজারে এসেই অভিষেকের দিন ১০৪.২০ টাকা বা ১০৪২ শতাংশ দর বৃদ্ধি ঘটিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। যা ২০১০ সালে মহাধসের পর অন্য কোন আইপিও কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

কিন্তু শেয়ারবাজারে অভিষেকের দিন রেকর্ড গড়া সেই কোম্পানি আবারও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেকর্ড করেছে। এবার কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসার মাত্র ৭১ কার্যদিবসের মাথায় তিন ভাগের দুই ভাগ দর হারিয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে দর হারানোর নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত অন্য কোন আইপিও কোম্পানির ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে দেখা যায়নি।

শেয়ারবাজারে এই দুই রেকর্ডের কোম্পানিটি হলো-প্রকৌশল খাতের ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোডস লিমিটেড। অভিষেকের দিন ক্লোজিং দর ১১৪.২০ টাকার শেয়ার আজ ৭১ কার্যদিবসের মাথায় (১৩ ফেব্রুয়ারী) ৪৩.৯০ টাকায় লেনদেন হয়। এ সময়ে কোম্পানিটি দর হারায় ৬১.৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ ৭১ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর হারায় প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোডস ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। প্রথমদিন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির ৭২ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়। প্রথমদিন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ১২০ টাকা হাঁকলেও দিনশেষ ক্লোজিং দর নির্ধারিত হয় ১১৪.২০ টাকা। পরের দিন থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারদর পতন প্রবণতায় থাকে। তবে প্রথম ৫ কার্যদিবসের মধ্যে আইপিও শিকারীরা তাদের প্রায় সব শেয়ার ১০০ টাকার উপরেই বিক্রি করে দিতে সমর্থ হয়। অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারী যারা অনেক আশা নিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছিলেন, তাদের রক্তক্ষরণের সূত্রপাত যায়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এই কোম্পানিটির যেভাবে দর বিপর্যয় ঘটেছে, ইতোপূর্বে অন্য কোন খারাপ আইপিও কোম্পানিটির ক্ষেত্রেও এতোটা বিপর্যয় হয়নি।

উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে লেনদেনের আসার প্রাক্কালে কোম্পানিটি বিনিয়োগাকারীদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২.০৯ টাকা।

অন্যদিকে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এর ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএসে কমেছে ২০.৩৭ শতাংশ। আর চলতি হিসাব বছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ০.৯৩ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.০৪ টাকা। ইপিএস কমেছে ১০.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে আসার পর কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ১০.৫৭ শতাংশ। আর শেয়ারবাজারে আসার দিন থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমছে ৬১.৫৬ শতাংশ।

এ বিষষে কোম্পানির হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোম্পানিটির শেয়ার রেকর্ড দরে লেনদেন হওয়ারও কোন কারণ ছিল না। এখন তলানিতে লেনদেন হওয়ারও কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই।

তিনি জানা, গতবছরের অক্টোবর মাসে আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে আইপিও অর্থ এখনো উৎপদান কাজে ব্যবহ্নত হয়নি বিধায় এখনো রিটার্নে আসা শুরু হয়নি। আইপিও অর্থ যোগ হওয়ায় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বেড়েছে। পরিশোধিত মূলধন বাড়ায় সার্বিকভাবে কোম্পানির আয়ে ভাটা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোম্পানি বরবরই লাভেই রয়েছে। নুতন যন্ত্রপাতি স্থাপন করার পর উৎপাদন বাড়বে। তখন কোম্পানির সার্বিক আয়ও বাড়বে।”


বিজনেস আওয়ার/এসএম




উপরে