ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫


পথ আছে কিন্তু নেই পায়ে হাটার পথ

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২০:৫৪:১৯


সৈয়দ শামসুর রহমান বিপ্লব: রাজধানীজুড়ে পায়ে হাঁটার জায়গার বেশ অভাব। একটু একটু করে হাটার পথ প্রায় শুন্যর কোঠায় এসে গেছে। মেট্রো রেল আর রাস্তা সংস্কার কাজে খোড়া খুড়ির পাশাপাশি জড়ো হয়েছে ফুটপাথে হকার । এদের ব্যবসায় কোনও নিশ্চয়তা না থাকলেও তবুও থামছেনা এ ব্যবসা। হকারের কাছে এক শ্রেনীর ক্রেতা নির্ভরতা পেয়ে পথে জটলা তৈরি করছে। ফলে মানুষের পায়ে হাটা পথের কমতি ঘটেছে আশঙ্কাজনক হারে।

তবুও রাজধানীতে ফুটপাত দখল করে চলছে রমরমা বাণিজ্য। শুধু হকার নয়, সরকারি সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলেও রয়েছে রাজধানীর ফুটপাত। ফলে রাস্তায় চলতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন পথচারীরা। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন নগরবিদরা।

তবে যে বিপুল অংকের জনবল ভাসমান এ পেশায় জড়িয়ে গেছে তার জায়গা দিতে হবে এমনটা না ভেবে তাদের বল প্রয়োগ করার ও বেশ শঙ্কার কাজ হবে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকগণ।

রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মিরপুর, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরলে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাথ দখল করে হকাররা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা।

ফুটপাত! পায়ে চলার পথ। অথচ এই পথের অনেকটাই রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের দখলে। এমনিতেই গাড়ির চাপ তার ওপর ফুটপাত দখল। দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের অভিযানে কাজ হচ্ছে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের।

ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজের সামনের চিত্র আরও ভয়াবহ। এখানে ফুটপাথ দখল করে গড়ে উঠেছে, চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, ফলের দোকান এবং কাঁচাবাজারও। পান্থপথ মোড়ে ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বক্স। পাশাপাশি ফুটপাতের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে টেলিফোনের লাইনবক্স থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েন পথচারীরা।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের(পবা) সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এ প্রসঙ্গে বলেন, ফুটপাত হচ্ছে জনগণের চলার জন্য। কিন্তু ফুটপাতের সুবিধা পথচারীরা পান না। ফুটপাত মেরামত করা হয় না। তদারকিও হয় না। ফলে নগরবাসী প্রচুর ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সম্প্রতি এ সমস্যা নিয়ে নগরবিদ মোবাশ্বের হোসেন বলেন, যে শহরে জনগণ আনন্দের সঙ্গে হাঁটতে পারে, সে শহর হচ্ছে সভ্য শহর। সভ্য শহর বানানো খুব সহজ, শুধু নিয়মতান্ত্রিক অবস্থায় সবকিছু নিয়ে আসা। অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের সঙ্গে এর পরিকল্পনাতেও ঘাটতি আছে। শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ফের যাতে বেদখল না হয় সেজন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী খান এ প্রশঙ্গে ডিএমপির সাথে যৌথ পদক্ষেপের কথা বিবেচনায় আনার প্রতি গুরুত্ব দেন।, রাস্তা ও ফুটপাতের ওপর স্থাপনা করার আগে তাদেরকে সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির সঙ্গে কথা বলা। যদি আলোচনার মাধ্যমে করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে কারো জন্য সমস্যা বয়ে আনবে না।

এছাড়া সিটি করপোরেশন বলছে, আইন অমান্য করে যারাই ফুটপাত দখল করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ তো গেল নগরবিদ প্রশাসন ও কর্তাদের কথা।
আমাদের দেশে নির্মান কাজের সম্বন্নয়হীনতা কতটুকু দায় বহন করে তা ভেবে দেখা খুবেই জরুরী। না হয়তো একটা সময় হাটার অযোগ্য হয়ে যাবে প্রায় প্রতিটি ফুটপাত।

শুকনো দিনের কথা শুধু মাথায় নিলেই চলবে না এর সাথে যোগ করতে হবে বর্ষার দিনে যে জলাবদ্ধতা হামলে পড়ে তার আশু সমাধান শুকনো দিনেই টানতে হবে।
নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে সামাল দিতে।

যানজট আর রাস্তাদখল নিয়ে বিভিন্ন ভোগান্তি মানুষের গা সওয়া হয়ে যায় না এতে ক্ষোভের জন্ম নেয় মনের অজান্তেই। সবগুলো সমস্যা একই সুতোয় বাধা। এর সমাধান কোন পথে সহজে আসে সেটা ভেবে ব্যাবস্থা নেয়ার এখন ই সময়।

লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

উপরে