ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫


বিএনপি ভোটে এলে আ.লীগ-জাপা এক সঙ্গে লড়বে

২০১৮ মার্চ ১২ ২২:০০:১৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। এমনকি দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‍গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সফর শুরু করেছেন। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশ নিলে ২০০৮ সালের মতোই জাতীয় পার্টিকে নিয়েই আওয়ামী লীগ ভোটের লড়াইয়ে নামবে। দল দুটির নেতারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপির বর্জন অথবা অংশগ্রহণ- দুটি বিকল্পকে সামনে রেখেই আগাচ্ছে। বিএনপি না এলে নির্বাচনী মাঠে কোনো চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে না বলেই ভাবছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি এলেও যেন সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্যই আবার মহাজোট করার চিন্তা।


আওয়ামী লীগের সম্পাদকদণ্ডলীর একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একজন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগতভাবেই অংশ নেব। আর বিএনপি না আসলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল জক চুন্নুও বলেন, জোট তো এক প্রকার হয়েই আছে (আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি), আর থাকবে কীভাবে?। বিএনপি ভোটে এলে এক সঙ্গেই লড়াই করব আমরা।

২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত দেশে ভোট পায় যথাক্রমে ৪.২৬ ও ৪.৬ শতাংশ। এই ভোটে দুই-চারটি আসনে হয়ত ভোটে জেতা সম্ভব। কিন্তু যদি কোনো বড় দলের বাক্সে এটি পড়ে, তাহলে তা জয় পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

২০০১ সালে ৬২ আসনে জেতা আওয়ামী লীগ ৮৫টি আসনে হারে পাঁচ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। অর্থাৎ তখন জোটের সুবিধা পেয়েছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দল। অপরদিকে জাতীয় পার্টির ভোট জামায়াতের চেয়ে বেশি। ১৯৯১ সালে তারা ১১.৯ শতাংশ, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে ১৬.৪ শতাংশ, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা নিয়ে দলে ভাঙন ধরার পর ৭.২২ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ৭ শতাংশ ভোট পায়।

বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি ভোট পায় ১১.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ৭ শতাংশ ভোট আওয়ামী লীগের বাক্সে পড়লে এই জোট আবারও জিততে পারবে বলে আশা করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এবারও বিএনপি বর্জন করলে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি আর তারা তৈরি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করে না ক্ষমতাসীন দল এবং জাতীয় পার্টি। আর সে ক্ষেত্রে কোনো আসনেই একে অপরকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান নেতারা।

জাতীয় পার্টির নেতা মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বিএনপি এবারও নির্বাচনে না আসলে জাতীয় পার্টি ২০১৪ সালের মতো সমঝোতা করে কিছু আসনে ভোট করবে না। তখন জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। তবে চুন্নুর ধারণা এবার আর বিএনপি ভোট বর্জন করবে না। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনে না এসে উপায় নেই। তারা দেখেছে, ভোট ছাড়াই ১৫৩ জনএমপি পাঁচ বছর থেকেছে।

জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ আলাদাভাবে যদি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয় তাহলে তো নির্বাচন বৈধ হবে। বিশ্বের কোনো দেশই দেখবে না বিএনপি নির্বাচন করেছে কি না।


বিজনেস আওয়ার /১২ মার্চ / জেএইচ

উপরে