ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫


রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে

২০১৮ মার্চ ১৩ ১০:১৫:৩৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বেড়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। সেই সাথে আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে কমে যাচ্ছে রিজার্ভের পরিমাণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩৩৬ কোটি ডলার। একসপ্তাহ পর (৮ মার্চ) সেই রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসপ্তাহের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে প্রায় ১৪৩ কোটি ডলার। এশিয়া ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেশগুলো বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ ব্যয় বেড়ে গেছে। সর্বশেষ আকুর দায় পরিশোধের পর আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলেও ভয়ের কারণ নেই। আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে রিজার্ভ কিছুটা কমে গেছে। যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জমা আছে, তা দিয়ে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে খাদ্য (চাল ও গম) আমদানি বেড়েছে ২১২ শতাংশ। শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশের মতো।

জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে ২৮ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এই অর্থবছরের ৬ মাসেই ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বছর শেষে এই অঙ্ক ৬০ বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।

২০১৭ সালের ২১ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩০১ কোটি ডলার। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারিতে সে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩১ কোটি ডলার। যদিও গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে রিজার্ভ বাড়ার রেকর্ড গড়ছিল। কিন্তু নির্বাচনি বছরকে সামনে রেখে হঠাৎ বেড়ে গেছে আমদানির পরিমাণ। এতে সার্বিকভাবে চাপ বেড়েছে রিজার্ভে।

যদিও দেশে প্রবাসীদের পাঠানো আয় তথা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় গত ফেব্রুয়ারিতে ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। একইভাবে বাড়ছে রফতানি আয়ও। অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রফতানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ২৯৯ কোটি ডলার। এর দেড় মাস পর ১৮ মে এটি বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এর দেড় মাস পর ৩০ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫০২ কোটি ডলার।

২০১৬ সালের ৩০ জুন রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৩ কোটি ডলার। একইভাবে ২০১৭ সালের ৩১ মে রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩ হাজার ২২৪ কোটি ডলার। গত বছরের ২১ জুন রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩০১ কোটি ডলার।

২০১৭ সালের জুনের পর থেকে রিজার্ভ আর বাড়েনি। ৩১ অক্টোবর, ২ নভেম্বর ও ২৮ ডিসেম্বর ৩৩ বিলিয়ন ডলারে ফিরলেও এখন পর্যন্ত ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ঢুকতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কমলেও ভয়ের কোনও কারণ নেই। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে।

এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে অনেক খরচ বাড়ছে। গত বছর বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যশস্য আমদানি অনেক গুণ বেড়েছে। এর কারণে রিজার্ভে কিছুটা চাপ পড়েছে।


বিজনেস আওয়ার / ১৩ মার্চ ২০১৮ / এমএএস

উপরে