ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫


'দুর্ঘটনায় ক্যাপ্টেন আবিদের কোনো গাফিলতি ছিল না'

২০১৮ মার্চ ১৩ ১৩:১৩:২৬


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ড্যাশ ৮–কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কোন গাফিলতি ছিল না বলে মনে করেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার সকালে বিমান দুর্ঘটনার সবশেষ খবর নিয়ে ব্রিফিং করেন মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম।

এ সময় তিনি বলেন দুর্ঘটনাস্থল ত্রিভুবন বিমানবন্দরে শতাধিক বার অবতরণের অভিজ্ঞতা ছিল পাইলট আবিদের। যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ শনাক্তের পর দেশে আনার ব্যবস্থা করব।

আমরা অনেক সময় অনেক রকম ম্যাসেজ দেব, কিন্তু সে ম্যাসেজও নির্ভর করবে তদন্তের ওপর। কারণ এখানে বাংলাদেশ সরকার, নেপাল সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে পাইলটের কোন ভুল খুঁজে পাইনি। কারণ উনি এই এয়ারক্রাফটে ৭০০ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন।

এছাড়া ৫০০০ ঘণ্টার ওপরে বাংলাদেশের এভিয়েশনে কাজ করেছেন। এছাড়াও কাঠমান্ডু এয়ারফিল্ডে শতাধিক ল্যান্ডিং ওনার আছে। সুতরাং এই এয়ারফিল্ড বা এয়ারক্রাফটে ওনার জন্য নতুন কিছু না।

কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে বিগত দিনে ইউএস বাংলার এয়ার ফ্লাইটে এই ফ্লাইটসহ ৭০টা দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে দোষারোপের কিছু নাই।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের যেকোন ঘটনায় আমার কাছে মনে হয়, শেষ মুহূর্তের যে কথোপকথন থাকে কন্ট্রোল রুম ও পাইলটের সঙ্গে সেটা একটা প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। সেটা আসলে লুকানোর কিছু নেই। ব্ল্যাক্সবক্সে সেটা রেকডিং থাকে।

এছাড়া কালকে ইউটিউবের মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম ও পাইলটের সঙ্গে একটা কথোপকথন শুনতে পেয়েছি। তাতে অবশ্যই একটি দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। গণমাধ্যম এমনকি নেপালের অনেক গণমাধ্যমও দোষ করছেন কন্ট্রোল রুমকে। আমরাও বলছি এই সময়ে এটিসি কন্ট্রোলের ভুল নির্দেশনাতেই এমন হতে পারে।

বাংলাদেশের একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তুলে এনেছেন এবং কিছু গণমাধ্যমেও এসেছে যে ক্যাপ্টেনকে জোরপূর্বক এই ফ্লাইটে দেয়া হয়েছিল।

তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন কারণ তিনি ইথুপিয়ান এয়ারলাইন্সে জয়েনের ব্যাপারে টানাপোড়েনে ছিলেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে। এছাড়া ফিটনেস নিয়েও কথা উঠেছে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ককপিটে বসে ফ্লাইট শুরু করার আগ মুহূর্ততেও যদি পাইলট মনে করেন তিনি বসার জন্য ফিট নয়, তবে তিনি তখনই নেমে আসতে পারেন।

কোনো কর্তৃপক্ষেরই অধিকার নেই তাকে জোর করে বসানোর। আপনার কাছে অনেক ভুল নিউজ আছে। ভুল নিউজ দিয়ে কেউ কাউকে বিভ্রান্তি করবেন না।

এছাড়া ২০১৫ সালে সৈয়দপুরের ইউএস বাংলা এয়ারলাইনের আরেকটি দুর্ঘটনার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ১০০% ভুল একটি তথ্য। সৈয়দপুরের ঘটনার সঙ্গে এই এয়ারক্রাফটের কোনো সম্পর্ক নেই। এই এয়ারক্রাফট আর ওটা এক নয়।

এসময় তিনি আরো বলেন, মানুষের ভিতরে আতঙ্ক তো থাকবেই। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন সাড়ে তিন বছর ৩৬ হাজার ফ্লাইট সম্পন্ন করেছেন। গতকালের আগ পর্যন্ত এই সাড়ে তিন বছরে ইউএস বাংলা একটি নিরাপদ এয়ারলাইন হিসেবে কাজ করেছে।

একটা দুর্ঘটনাতেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে না। এটা নতুন ঘটনা না। সবার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল ঘটনাটা বের করে আনতে হবে।

বিজনেস আওয়ার / ১৩ মার্চ ২০১৮ / এমএএস

উপরে