ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


সস্তায় জ্বালানি আর বেশি দিন নয় : অর্থমন্ত্রী

২০১৮ মার্চ ১৩ ২০:৫৪:১২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সস্তায় জ্বালানি আর বেশিদিন দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। তারপরও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়বে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সবসময়ই ভর্তুকি ছিল। যে সরকারই আসুক এ ভর্তুকি বন্ধ করতে পারবে না। আগামী বাজেটে আমাদের এ ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা জনগণকে যে দরে জ্বালানি দিচ্ছি তা আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে কম। এজন্য প্রতিবছর ভর্তুকি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আগামী ২২ তারিখ (মার্চ) আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হয়ে আসার উৎসব করব। আমরা এখন মধ্য আয়ের দেশে যাব। এ মুহূর্তে নিউইয়র্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী ১৮ তারিখের (মার্চ) আগেই সে ঘোষণা আসবে। ২২ তারিখে (মার্চ) আমরা তা উদযাপন করব।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন , বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি প্রতিষ্ঠান (বিইআরসি) স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। এটা স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, এটা সবার মনে রাখতে হবে। সরকার আইন করে এ প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে। তবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকলেও তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য যেন যথাযথ বাস্তবায়ন করা যায়, সেটা লক্ষ রাখতে হবে।

কানজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও যবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিইআরসি এখন পর্যন্ত ভোক্তাদের অাস্থা অর্জন করতে পারেনি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে-কমে। স্বচ্ছতা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে এ খাতে সুসাশন প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সময় আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতের ওপর কোনো ট্যাক্স না বসানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


তিনি বলেন, জ্বালানি হলো রক্তের মতো। রক্তছাড়া যেমন মানুষ বাঁচে না। জ্বালানি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ সময় সব রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানকে (দুদক, বিআরসি, ক্যাব) আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাব করেন তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, বিইআরসির প্রতি কারও আস্থা নেই। তারা সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। এসময় আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বালানির সমন্বয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। আমাদের লক্ষ্য টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করা।

এ সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের যে বাজেটের-ই সাপোর্ট হিসেবে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে দেয়, সেটা যেন অনুদান হিসেবে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জ্বালানি খাতের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইআরসির মেম্বার মিজানুর রহমান।


বিজনেস আওয়ার /১৩ মার্চ / জেএইচ

উপরে