ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

গাজী রাকায়েত: আমরা আছি আপনার পাশে

২০১৮ মার্চ ২১ ১৩:০০:২৪

অনেক দিন ধরে চুপ করে ছিলাম। কিছুই বলিনি। বিষয়টা এখন এমন যায়গায় এসে দাড়িয়েছে যে, এটা নিয়ে কথা না বললে বড় অন্যায় হয়ে যাবে।

বেশ কিছুদিন যাবৎ আলোচনার বিষয় গাজী রাকায়েত ও একটি স্ক্রীন শর্ট। চলুন আগে মূল ঘটনাটা জানি। কিছুদিন আগে এক নারী ফেইসবুকে একটি গ্রুপে স্ক্রীন শর্ট দিয়ে অভিযোগ করেন গাজী রাকায়েত তাকে মধ্য রাতে মেসেঞ্জারে কু-রূচিপূর্ণ কথার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এবার উদ্দেশ্য মূলক ভাবে সেটিকে ভাইরাল করার জন্য যা যা করার দরকার তা তা করলেন কয়েকজন। এর মধ্যে মূল হলেন সঙ্গীতা অপরাজিতা। যিনি দায়িত¦বোধের পরিচয় দিতে গিয়ে নিজেই চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিলেন।

সঙ্গীতা অপরাজিতার কাছে আমার কয়েকটি খোলা প্রশ্ন ছিলো। এক, আপনি একটি স্ক্রীন শর্ট পেলেন আর সাথে সাথে পোষ্ট দিয়ে যা-তা লিখলেন, এটা কতটা যৌক্তিক? আপনি কি পারতেন না বিষয়টা নিয়ে কোনভাবে দায়িত্ববোধের যায়গা থেকে গাজী রাকায়েত অথবা অন্য কারো সাথে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই বাচাই করতে?

দুই, কোন কিছু যাচাই না করে একজন মানুষের নামে যা খুশি তা লেখা কতটা যৌক্তিক? আপনি এটা দিয়ে কি প্রমাণ করতে চাইলেন? আপনি ফেইসবুকীয় বিপ্লবী, নাকি আমি বলব আপনি শুধু মাত্র পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে বিষয়টা এমন করলেন। নাকি খুব ইচ্ছে জেগেছে একটু সস্তায় বস্তা পঁচা জনপ্রিয়তা পাওয়ার?

যখন গাজী রাকায়েতের এই বিষয়টি নিয়ে সঙ্গীতা অপরাজিতা ফেইসবুকে বিপ্লব করে আলোচনার শীর্ষে তখন গাজী রাকায়েত ব্যস্ত ছিলেন চাড়–নীড়ম কাহিনীচিত্র উৎসব নিয়ে। মার্চের ৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব শেষ হয় মার্চের ১১ তারিখ। মিডিয়ার সবাই জানে এই উৎসব আয়োজন শুরু থেকে শেষ করা পর্যন্ত গাজী রাকায়েত কি পরিমান ব্যস্ত ছিলেন। উৎসব শেষ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ সমাধানের দায়িত্ব দিলেন আমাদের নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোকে।

পরে সবাই মিলে ভূক্তভোগীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যাচাই বিষয়টি খুব স্পষ্ট ভাবে প্রমানিত হয় যে এই ঘটনার সাথে কোনভাবে গাজী রাকায়েত জড়িত ছিলেন না। তাঁর আইডি হ্যাক হওয়ার সকল তথ্য প্রমান নিয়ে তিনি হ্যাকারদের শনাক্ত করতে আইনের আশ্রয় নেন। এই ঘটনার পর ভূক্তভোগী নিজে স্বীকার করেন বিষয়টা এভাবে যাচাই না করে ফেইসবুকে দেয়া ঠিক হয়নি এবং তিনি নিজে চিন্তা করেননি এটা নিয়ে এত কিছু হবে।

এবার আসি মূল কথায়। তদন্ত চল কালে সঙ্গীতা অপরাজিতা তার টাইম লাইন থেকে এই বিষয়টি নিয়ে দেয়া লেখাটি হাইড করে ফেলেন। কিন্তু যখন বিষয়টি প্রমানিত হল যে সত্যিকার অর্থেই এখানে গাজী রাকায়েত জড়িত ছিলেন না ,তখন সঙ্গীতা অপরাজিতা একবারের জন্যেও নিজের কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চাননি। এই থেকে প্রমানিত হয় তিনি বিষয়টি হয় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে, না হয় পুরুষ বিদ্বেষী মনোভাব থেকে করেছেন।

কিন্তু তিনি ভূলে গেছেন তিনি গাজী রাকায়েতের মত একজন মানুষকে কতটুকু অপদস্ত করেছেন। আমার ফেইসবুক থাকলেই সেখানে আমি একটা বিষয় নিয়ে অন্য একজনকে জড়িয়ে যাচাই না করে যাতা লিখতে পারিনা। গাজী রাকায়েত ভীন গ্রহের প্রাণী নন, যে তিনি ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাহলে কেন আপনি একজন সম্মানিত মানুষের সম্পর্কে আপনার মন গড়া কথা লিখবেন। এটা কতটুকু যৌক্তিক?

এবার আসি বর্তমান অবস্থা নিয়ে। যখন বিষয়টি প্রমানিত হলো তখন গাজী রাকায়েত তাঁর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি অর্থাৎ জিডি করলেন। সেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু উল্লেখ করলেন। সঙ্গীতা অপরাজিতা যেমন গাজী রাকায়েতকে না চেনার বা ধরা ছোয়ার বাহিরে ধরে নিয়ে ফেইসবুকে যা খুশি তা লিখলেন, ঠিক তেমনই গাজী রাকায়েত ব্যাক্তি সঙ্গীতাকে জানতে না চেয়ে সেই জিডিতে সঙ্গীতার ফেইসবুকীয় বিষয়টি উল্লেখ করেন। যেটা স্বাভাবিক বিষয়। আমি আবারও বলছি উনি সাধারণ ডায়েরী করেছেন শুধু মাত্র। যা আমি আপনি যে কেউ হলেই করতাম। সেখান থেকে যাচাই বাচাই করে থানা থেকে এটি মামলায় পরিণিত হয় প্রচলিত আইনে। যেখানে গাজী রাকায়েতের কোন হাত নেই।

গাজী রাকায়েতকে নিয়ে যখন আগের বিষয়টি ভিত্তিহীন হয়ে গেল, এবার তারা উঠে পড়ে লাগল গাজী রাকায়েত কেন সঙ্গীতা অপরাজিতার নামে ৫৭ ধারায় মামলা করলো। এটা এখন তাদের বড় অস্ত্র হয়ে উঠলো। একদল পুরো বিষয়টি না জেনে গাজী রাকায়েতের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করা শুরু করল।

একটি কথা দিয়ে শেষ করব ,যারা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে প্রথম থেকে বিষয়টাকে একেক বার একেক দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বলছি ,গাজী রাকায়েত শিল্প সংস্কৃতিতে আমাদের বটগাছ। এতদিনে গড়ে তোলা অর্জন শেষ করে দেয়া এত সহজ নয়। বিষয়টাকে সাংঘর্ষিক করে তুলবেন না। এর ফল ভাল হবে না। গাজী রাকায়েত ৫৭ ধারায় মামলা করেননি। তিনি শুধু মাত্র সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন। যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে সময় এসেছে তাদের সঠিক জবাব দেয়ার।

প্রত্যেকটি শিল্প সংস্কৃতি পাগল মানুষের উচিত এর প্রতিবাদ করা। আমি মিডিয়ার প্রত্যেকটি মানুষকে বলব আগে যাচাই করেন ,আমাদের গাজী রাকায়েত যদি দোষ করে তাহলে তাঁর শাস্তি হবে আর যদি তিনি নির্দোষ হন তাহলে তাঁর পিছনে লাগা গুটি কয়েক এর মাথা বের করে শাস্তির আওতায় আনা আমার আপনার প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। তাই আজ থেকে শুরু হোক প্রতিবাদ। আর গাজী রাকায়েত আপনি মনে রাখুন আমরা আছি আপনার সাথে।


আজাদ আল মামুন, নাট্য পরিচালক

বিজনেস আওয়ার / ২১ মার্চ ২০১৮ / এমএএস

উপরে