ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে যাচ্ছে হা-ওয়েল

২০১৮ মার্চ ২৪ ১৪:২৬:১৭
মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান : সাধারানত শীত প্রধান দেশেই হা-ওয়েল টেক্সটাইলসের কাপড় রপ্তানি হয়ে থাকে। কয়েক বছর ধরেই বিশ্বে উষ্ণতা বাড়ার কারনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা তেমন বাড়েনি। তবে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক সুনামকে পুঁজি করে হা-ওয়েল তার ব্যবসায়িক অবস্থান ঠিক রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সচিব দেবব্রত সাহা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চৌকস এ কর্মকতার রয়েছে বর্ণিল অভিজ্ঞতা। ২০০১ সালে তিনি ইউনাইটেড গ্রুপে (খুলনা) যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দেশের বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০৯ সালে তিনি হা-ওয়েল টেক্সটাইলস এ হিসাব ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন। দীর্ঘ ৯ বছর তার দক্ষতা, সততা, পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে হা-ওয়েল টেক্সটাইলের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে কোম্পানির সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সম্প্রতি বিজনেস আওয়ার ২৪.কমের প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে তিনি নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। সাক্ষাতের চৌম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বিজনেস আওয়ার : হা- ওয়েল টেক্সটাইলস সম্পর্কে কিছু বলুন?

দেবব্রত সাহা : হা-ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি) লি: একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী নীট শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে অবস্থানরত নামি-দামী দেশি-বিদেশি গার্মেন্টস গুলোই এ কাপড় কেনার প্রধান ক্রেতা। এসব ক্রেতা হা-ওয়েলের কাছ থেকে কাপড় ক্রয় করে, পরে তা থেকে পোশাক তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করে। হা-ওয়েল টেক্সটাইলস ২০০২ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৪ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। কোম্পানিটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু থেকে ২০০৯ সাল পযর্ন্ত কর অবকাশ সুবিধা ভোগ করে। হা-ওয়েল টেক্সটাইল ২০১১-১২ অর্থবছরের ডিসেম্বরে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে রুপান্তরিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ সময়ের মধ্যে হা-ওয়েল ব্যবসা পরিচালনা করে বেশ সুনাম অর্জন করে। কোম্পানিটি শীত প্রধান দেশের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রুচি সম্মত কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে কোম্পানিটির ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে সারা বিশ্বে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজনেস আওয়ার : হা-ওয়েল টেক্সটাইলসের কাপড় উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলুন?

দেবব্রত সাহা : হা-ওয়েল বিভিন্ন দেশ থেকে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা সংগ্রহ করে থাকে। পরে সে সূতা থেকে নীট কাপড় তৈরি করা হয়। এরপর সেই কাপড় ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ডায়িং, ব্রাশিং ও ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাংশনাল ফেব্রিক্স তৈরী করে ক্রেতার নিকট সরবরাহ করা হয়। ক্রেতার অর্ডারের উপর নির্ভর করে এসব কাপড় তৈরি হয়।

বিজনেস আওয়ার : হা-ওয়েলের ক্রেতা সম্পর্কে বলুন?

দেবব্রত সাহা : হা-ওয়েল বিশ্ববাজারের নামি দামী ক্রেতার নিকট কাপড় বিক্রয় করে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম বড় ক্রেতারা হলেন- ওয়ালমার্ট, এইচ এন্ড এম, সি এন্ড এ, প্রাইমার্ক, রিগাটা, টার্গেট, সিপ্লেক্স, ক্যারিফোর, এম এন্ড এস, আ্যালদি, লিডল ইত্যাদি।

বিজনেস আওয়ার : হা-ওয়েলের বিক্রয় বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা আছে কি?

দেবব্রত সাহা : অবশ্যই আছে। তবে যেহেতু বিশ্বে উষ্ণতা বাড়ছে। ফলে শীত প্রধানদেশে শীতবস্ত্রের চাহিদার পরিবর্তন ঘটছে। আর ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠানটিকেই উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য যেমন গরম কাপড়ের চাহিদা কমছে তেমনি নতুন নতুন ফেন্সি কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। আর এ ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক কাপড় উৎপাদনের জন্য আমরা প্রতি নিয়ত নতুন নতুন ফেব্রিক্স এর উৎপাদন করছি। যেহেতু এই সব নতুন ফেব্রিক্সগুলো সাধারণত ফেন্সি ধরনের তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এর জটিলতা ও সময় বেশি লাগে। বিধায় কোম্পানীর বিক্রিত পন্যের অর্থের পরিমাণ পূর্বের মতো না হলেও বিক্রয়ে অনেক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার : হা-ওয়েলের চ্যালেঞ্জ হিসেবে কি দেখছেন?

দেবব্রত সাহা : সব ব্যবসাতেই ঝুঁকি আছে। আমাদেরও রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারনে বিশ্ববাজারে গরম কাপড়ের চাহিদা পড়ে যাচ্ছে। ফলে শীত প্রধান দেশে গরম কাপড়ের চাহিদা কমে গেছে। এবং উষ্ণতার কারনে সূতি কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। যেহেতু আমাদের কোম্পানীটির অধিকাংশ পণ্য পলিস্টার বেইজ। কিন্তু সুতি কাপড়ের উৎপাদনশীলতা পলিস্টার কাপড়ের থেকে কম। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগীতায় সাথে টিকে থাকার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে সুতি কাপড়ের উৎপাদনশীলতা বৃ্দ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া যেহেতু আমাদের পণ্যের কাঁচামাল বিদেশ হতে আমদানী করতে হয় সেক্ষেত্রে আমদানী মূল্যও বিক্রয়ের ওপর কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে।

বিজনেস আওয়ার/২৪ মার্চ ২০১৮/এমএজেড

উপরে