ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫


সন্তান খালার হেফাজতে; আদালতে কাঁদলেন মা

২০১৮ এপ্রিল ০৯ ১৮:২২:২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ ২২ মাসের শিশু অংশুমানকে দত্তক হিসেবে খালার কাছেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তবে শিশুটি চূড়ান্তভাবে কার কাছে থাকবে তা নির্ধারণ করবে বিচারিক আদালত। শিশু ফেরত চেয়ে অংশুমানের বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়া হয়। শুনানিতে বাচ্চাটির বাবা মা খালা এবং নানী উপস্থিত ছিলেন।

নি:সন্তান অংশুমানের খালার দাবি, বড়বোনের ইচ্ছায় ধর্মীয় বিধান ও আইন মেনেই শিশু অংশুমানকে ১৯ মাস ধরে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করছেন তারা।

এ ব্যাপারে শিশু অংশুমানের নানী বলেন, ৫ মাসের বাচ্চা যখন তখন অংশুমানের খালা বলেন দিদি আপনারতো ছেলে হবে। তাহলে আমি আশ্রম থেকে দত্তক নিব। কিন্তু জেবা বলে ছেলে মেয়ে যা হোক তোকে দেব।

শিশু অংশুমানের দত্তক বাবা বলেন, বাচ্চার জন্মদিন অন্নপ্রাসন্য সব আমি করছি। সব প্রমাণাদি আমার কাছে আছে। বাচ্চাটি যেতে চাইনি আমাদের কোল থেকে। কিন্তু জোর করে নেওয়া হয়েছে।

অংশুমানের বয়স যখন ২১ মাস তখন মত পরির্বতন করেন আসল মা জেবা রানী। সন্তান ফেরত চেয়ে মামলা করেন উচ্চ আদালতে।

শুনানির এক পর্যায়ে বাচ্চাটি কেঁদে উঠলে মায়ের কোল থেকে খালার কোলে দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পরমুহূর্তেই বাচ্চাটির কান্না থেমে যায়। উপস্থিত আইনজীবীরা বলছেন এ ধরনের ঘটনা সিনেমার কল্পকাহীনিকেও হার মানায়।

জনাকীর্ন আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে শিশু অংশুমানকে দত্তক খালার কাছে রাখার আদেশ দেন আদালত। তবে অংশুমান চূড়ান্তভাবে কার কাছে থাকবে তার ফয়সালা হবে বিচারিক আদালতে।

আদালতের এ আদেশ শুনে আদালত প্রাঙ্গণে বার বার মূর্ছা যান মা জেবা রাণী। যেকোনো মূল্যে ফেরত চান সন্তানকে। আমার মা বোন, বোন জামাই জোর করে আমার বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কোনো দত্তক দেয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যে কোনো একটা পক্ষ এ মামলা সাধারন আদালতে গিয়ে নিস্পত্তি করার প্রার্থনা করতে পারবে। মুসলিম আইনের মত হিন্দু আইনেও সন্তান দত্তক নেয়ার বিধান রয়েছে। তবে হিন্দু আইনে এর সঙ্গে ধর্মীয় রীতিনীতিও জড়িত।

বিজনেস আওয়ার / ০৯ এপ্রিল ২০১৮ / এমএএস

উপরে