ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫


শেষ হচ্ছে নিজামী অধ্যায়

২০১৮ এপ্রিল ১৫ ১০:৫৮:৩৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আলোচিত কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী। যিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় থেকে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনে কয়েক দফায় সমালোচিত হয়েছেন। এছাড়া উগ্র ব্যবহার তাকে বেশি মানুষের কাছে নিয়ে গেছে। বিএসইসিতে যার শেষ কার্যদিবস হতে যাচ্ছে আগামি ৩ মে।

২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধসে বিএসইসিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। এই সুযোগে ২০১১ সালের ৪ মে বিএসইসিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান হেলাল উদ্দিন নিজামী। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধসের কারন অনুসন্ধানে খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির বিএসইসিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শের আলোকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমবার ৩ বছরের জন্য হেলাল উদ্দিন নিজামীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা শেষ হওয়ার পরে পুন:নিয়োগ পান তিনি। তবে এক্ষেত্রে তিনি ৪ বছরের জন্য নিয়োগ পান। কারণ এরইমধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৪ বছর করা হয়। আর তার ২ দফায় নিয়োগের ৭ বছর পূর্ণ হবে আগামি ৩ মে।

হেলাল উদ্দিন নিজামী সামিট পাওয়ারের সঙ্গে এ গ্রুপের তিন কোম্পানি একীভূতকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম করেন। ওইসময় তিনি বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। আর এই সুযোগে ক্ষমতা দেখানোর জন্য সরকারি ছুটির দিনেও স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনাকে দৌড়ের উপর রাখেন।

সর্বশেষ কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ চীনা কনসোর্টিয়ামের নাম প্রস্তাব করলেও তাতে আপত্তি বাধেন হেলাল উদ্দিন নিজামী। যিনি ভারতের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করতে অযাচিত চেষ্টা করেন। এমনকি চীনা কনসোর্টিয়ামকে প্রস্তাব করায়, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করেন। গালিগালাজ করতেও ছাড়েন না। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বলে গুঞ্জন আছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সালের ৫ এর ৬ উপধারা অনুযায়ি, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ শুধুমাত্র ১টি মাত্র মেয়াদের জন্য পুন:নিয়োগের যোগ্য হইবেন। সে হিসেবে হেলাল উদ্দিন নিজামীর আর পুন:নিয়োগের সুযোগ নেই।

অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামি ২০১১ সালের ৪ মে বিএসইসিতে যোগদান করেন। তার ৩ বছরের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকার তাকে আবার ৪ বছরের মেয়াদে পুন: নিয়োগ করেন। যা আগামি ৩ মে শেষ হতে যাচ্ছে।

হেলাল উদ্দিন বিএসইসিতে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিষ্টেমস বিভাগে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাণিজ্য বিভাগে ১৯৮০ সালে এসএসসি ও ১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করেন। আর ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও ১৯৯০ সালে ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর করেন।

বিজনেস আওয়ার/১৫ এপ্রিল ২০১৮/পিএস

উপরে