ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১২ বৈশাখ ১৪২৫


৬ মাসের মধ্যে সুদহার এক অংকে নেমে আসবে

২০১৮ এপ্রিল ১৬ ১৩:৫২:৩৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ আগামী তিন থেকে ছয়মাসের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার এক অংকে নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) টাওয়ারের স্যামসন এইচ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এমটিবি স্টুডেন্ট ব্যাংকিং স্কিম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আনিস এ খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এডিআর হার কমিয়ে দিলো, কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করলো, তখন একটি আতঙ্ক তৈরি হলো আর ডিপোজিট নিবো না। আর ব্যাংকগুলো ডিপোজিট নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ইন্টারেস্ট রেট হাই হলো। আমি এটা পছন্দ করিনি।

পরবর্তীতে আবার উচ্চসুদে আমানত সংগ্রহ শুরু করলো ব্যাংকগুলো। আমরা ১০ শতাংশ সুদে তিন মাস, ছয় মাস মেয়াদ ডিপোজিট নিয়ে নিলাম। সিআরআর ১ শতাংশ কমানোর ফলে রোববার থেকে ১০ হাজার কোটি ব্যাংকগুলোর কাছে গেলেও ৩ মাস না গেলে আমানতের সুদ আর ৮ শতাংশে আসবে না। সুতরাং কমদামে টাকা ফিরে আসতে এখন তিন থেকে ছয়মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংক সারাদেশে জনগণের সেবা দিলেও চুক্তির কারণে অর্থায়ন করতে পারে না। বাংলাদেশে ডিপোজিটের কোনো অভাব নাই। বিতরণে সমস্যা রয়েছে। বেশির ভাগ টাকা রয়েছে সব সরকারি ব্যাংকে। ছয়মাস, এক বছর, দুইবছর বা তারও বেশি মেয়াদেও ফিক্সড ডিপোজিটের টাকাগুলো আছে সরকারি ব্যাংকে।

এগুলোর মেয়াদ শেষ হলে কোন ব্যাংককে দিবে তারা সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু টাকাটা আমাদের দরকার। কারণ বেসরকারি খাতের ৪০ টি ব্যাংক দেশের ব্যবসা বাণিজ্য অর্থায়নে সহায়তা করছে। নতুন ব্যবসা ছোট থেকে বড় হচ্ছে। আর বিলিয়ন ডলারের বেশি কতোগুলো প্রকল্প হয়েছে। এগুলোতে সরকারের পাশাপাশি বেশিরভাগ সহায়তা করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, দেশকে সার্পোট করার জন্য আমাদের ডিপোজিট দরকার, ফরেন একচেঞ্জ দরকার। বাংলাদেশি ব্যাংকের এলসি কোন বিদেশি ব্যাংক নেবে না। কারণ এলসি করার জন্য কনফারমেশন লাইনস লাগে। এগুলো করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল বায়ারস ক্রেডিট রেটিং লাগে, কার আছে?

এইচএসবিসি, সিটি ব্যাংক এনএ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড এবং ইন্ডিয়ান অধিকাংশ ব্যাংক। ৪-৫ বছর ধরে আমরা অনেক গুলো ব্যাংকর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি সব সময় মনে করি বিনিয়োগের জন্য লো ইন্টারেস্ট রেট প্রয়োজন। কারণ ইন্টারেস্ট রেট যদি লো হয় তাহলে বিনিয়োগ করা সহজ।

১০ শতাংশ রেটে ডিপোজিট নিলে সিআরআর এসএলআর মিলে ১১শতাংশের উপরে যাবে। তারপর ব্যাংকের পরিচালন খরচ আছে। আমরা কতো শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করবো? ১৫-১৬ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে কেউ ব্যবসা চালু রাখতে পারবে না। তাই সঞ্চয়ের জন্য লো ইন্টারেস্ট রেট রাখতে হবে।

এ জন্য ব্যাংকগুলোর বিশেষ সঞ্চয় স্কিম চালু করতে হবে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্পেশাল স্কিম থাকবে। যাতে টাকা দীর্ঘদিন ব্যাংকের কাছে থাকে। গ্রাহক নিয়মিতভাবে জমা করলে প্রথম বছর ৫ শতাংশ সুদ পেলে দ্বিতীয় বছর ৬ শতাংশ পাবে।

এমটিবির হেড অব এসএমই অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংক তারেক রিয়াজ খান, এমটিবি জুনিয়র, এমটিবি গ্রাজুয়েট, এমটিবি অ্যাডুকেশন প্লান, এমটিবি চিলড্রেন অ্যাডুকেশন স্কিম, এমটিবি অ্যাডু ফাইন্যান্স ও এমটিবি স্টুডেন্ট ফাইল সার্ভিস স্কিম সর্ম্পকে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাশেম চৌধুরী।

বিজনেস আওয়ার / ১৬ এপ্রিল ২০১৮ / এমএএস

উপরে