ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫


শেয়ারবাজারে জড়িত কাউকে বিএসইসির কমিশনার নয়

২০১৮ এপ্রিল ২৯ ১৪:৫৫:০০

রেজোয়ান আহমেদ: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) কমিশনার আমজাদ হোসেন আগামি ৩০ মে বিদায় নিচ্ছেন। আরেক কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামি দুই দফায় ৭ বছর পূর্ণ সত্ত্বেও দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন। এমতাবস্থায় শূন্য হতে যাওয়া নিশ্চিত ১টি ও দোদুল্যমানসহ ২টি পদে শেয়ারবাজারের স্বার্থে শেয়ার ব্যবসায় জড়িত কাউকে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসির বর্তমান কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামি ২০১১ সালের ৪ মে ও মো. আমজাদ হোসেন একই বছরের ৩০ মে যোগদান করেন। যাদের ২ দফায় নিয়োগের ৭ বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামি ৩ মে ও ২৯ মে। এদের মধ্যে মো. আমজাদ হোসেন আগামি ৩০ মে বিদায় নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। আর হেলাল উদ্দিন নিজামি আরেক দফায় পুন:নিয়োগ পেতেও পারেন আবার নাও পারেন। এ হিসাবে বিএসইসিতে একজন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে তা নিশ্চিত। আর হেলাল উদ্দিন নিজামীর আরেক দফায় পুন:নিয়োগ না হলে, ২ জন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন কোন ব্যক্তিকে বিএসইসিতে কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া উচিত না। অন্যথায় স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) হবে। কারন যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে শেয়ার ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি তার স্বার্থের কথা ভাববেন। এছাড়া শেয়ার ব্যবসায় জড়িত থাকার কারনে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বা বিভিন্ন জনের সঙ্গে সর্ম্পক্য তৈরী হয়। যেগুলোও সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, ইকোনমিক, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টস ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো এমন ব্যক্তিকে কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। যার সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই এবং স্বাধীন চেতা। যে চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি দেওয়ান নুরুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, একাডেমিকভাবে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি বাস্তবিক জ্ঞাপনসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকেও বিএসইসিতে কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে এই কাজ করা যেতে পারে। অতিত রেকর্ড ভালো এমন কাউকে বেছে কমিটি নিয়োগ দেবে। তবে এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরকে না দেওয়াই ভালো হবে। কারন ওই ব্যক্তি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বা দূর্বলতা কাজ করবে। যেটাকে বলে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। তবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে এক সময় জড়িত থাকলেও ৩-৫ বছর ধরে নেই এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক কমিশনার আরিফ খানের বিএসইসিতে নিয়োগেকনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হয়। কারন সে বিএসইসিতে যোগদানের আগে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ছিল এবং পরেও সেখানেই ফিরে গেছে।তবে অন্যসব দেশে হলে এই নিয়োগ সম্ভব হতো না। তাই কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সাবেক সভাপতি এ.এস.এম শায়খুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজার অর্থনীতির একটি বড় জায়গা এবং ভবিষ্যত অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) যোগ্য ও সৎ কমিশনারের কোন বিকল্প নেই। সার্চ কমিটির মাধ্যমে যাছাই করে এই যোগ্য ও সৎ কমিশনার নিয়োগ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তি শেয়ারবাজার বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে চাকরীরত, তাদেরকে কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। অন্যথায় কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৯ এপ্রিল, ২০১৮/আরএ

উপরে