ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫


যেসব পুরুষ থেকে এড়িয়ে চলবেন

২০১৮ মে ১৫ ২০:৫৬:১০

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: একটা ভুল সারা জীবনের কান্না হতে পারে। মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটা অন্যায় কিছু নয়। তবে জীবনে চলার পথে মেয়েদের প্রতিটি পা ফেলতে হবে অত্যন্ত বুঝে শুনে। আমাদের সমাজটা এমন যে, কোনোভাবে মেয়েরা পা পিছলে গেলে তাকে নিয়ে টানা হিছড়া শুরু করেন। একই ক্ষেত্রে পুরুষরা ভুল করলে সেটা নিয়ে কোনো কথা হয় না। তাই জীবনে ভুল এড়িয়ে চলতে চাইলে পা ফেলতে হবে বুঝে শুনে।

কোনো বিবাহিত পুরুষকে যদি আপনার প্রতি একটু বেশিই বন্ধুভাবাপন্ন মনে হয় তাহলে তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই ভবিষ্যতের জন্য ভালো। প্রায় সব নারীই বেশ জোর গলায় বলে থাকেন যে তাঁরা কোনো বিবাহিত পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চান না। কিন্তু যে সব পুরুষ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াচ্ছেন তাদের সঙ্গী কারা? তারাও আমার আপনার মতোই একজন নারী।

সূত্রপাতটা বন্ধুত্ব দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে আপনাকে সম্পর্কের জালে জড়িয়ে ফেলে ছেলেটি। ছেলেটি প্রথমে বলে আপনি তার ভালো বন্ধু, সে এতোদিনে মনের কথা বলার মত কাউকে পেয়েছে, সে আপনার কথাই ভাবছে, আপনাকে মিস করছে। আরো নানান ধরণের মেকি কথা। এরপর হঠাৎ করেই তার আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। আপনি বোঝার আগেই আপনাকে সে তার জালে জড়িয়ে ফেলতে চাইবে। আপনাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিবে সে। আপনাকে বোঝাতে চাইবে আপনি তার জন্য বিশেষ কেউ। সে বলবে, আপনি তাকে যতটা বোঝেন তার স্ত্রী তাকে এতোটা বোঝে না।

আপনার মত একজনের সঙ্গী সে পছন্দ করে সবসময়। ধীরে ধীরে সে আপনার চোখ, চুল ও রূপের প্রশংসা করবে এবং দুই বন্ধুর আড্ডা থেকে পুরো ব্যাপারটা ডেটিং এ রূপ নিবে। সে তার স্ত্রীর ও সন্তানের কাছে একই রকম থাকবে। কিন্তু সে অন্য সবাইকে বলে বেড়াবে তার একজন যৌনসঙ্গীর চাইতে বাচ্চাদের জন্য আদর্শ মা একজন সংসারী স্ত্রী প্রয়োজন। কারণ যৌন চাহিদা তো সারাজীবন থাকেনা। এভাবে এক পর্যায়ে সে নতুন এই অন্যায় সম্পর্ককে মনে মনে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলে।

এধরনের একটি সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত কেউই সুখী হয় না। এক্ষেত্রে মেয়েটি, ছেলেটির মানসিক ও শারীরিক চাহিদা মেটানোর বস্তুতে পরিণত হয়। মেয়েটিকে ব্যবহার করা হয় সংসারের ঝামেলা থেকে পালানোর হাতিয়ার হিসেবে।

এ ধরণের পুরুষদের চেনার সহজ উপায় হলো, দেখা হওয়ার সাথে সাথেই যারা বন্ধু হওয়ার জন্য বেশি অস্থির হয়ে যায়, তারাই এধরণের পুরুষ। কারণ এ ধরণের পুরুষরা সবার সাথে বন্ধু করে না বরং তাঁরা যে নারীর প্রতি বেশি আকর্ষণ বোধ করে কেবল তাদেরকেই বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে। তাঁরা সাধাণরত বন্ধুত্বের নাম দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে ফ্লার্ট করা শুরু করে।

সারাদিন বেশ অনেক বার আপনার মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠায় এবং জানাতে চায় যে সে আপনার কথা মনে করছে এবং আপনাকে মিস করছে। এভাবে বন্ধুত্বের নাম দিয়ে আপনার অজান্তেই আপনার মনে প্রেমের সম্পর্কের বীজ বুনে ফেলে এ ধরণের ব্যক্তিরা। এ ধরণের ব্যক্তি তার স্ত্রীকেও আপনাদের বন্ধুত্বের ব্যাপারে জানায়। এসব বিষয়ে সে স্ত্রীর কাছে স্বচ্ছ থাকতে চায় কারণ নিজের মনকে সে বিশ্বাস করাতে পারে না যে সে প্রতারণা করছে।

নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা দোটানায় ভোগে এবং তাঁরা জীবনের কাছে কি চাইছে সেটা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে সবসময়। সাবধান! এধরণের ফাঁদে কখনোই পা দেবেন না। কারণ এ ধরণের বিবাহিত পুরুষরা কখনোই আপনার জন্য নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করবে না। বরং পুরুষটির দ্বারা আপনি মানসিক ও শারীরিক ভাবে ব্যবহৃত হবেন। তাই এ ধরণের সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়ে থাকলে নিজের মনকে প্রশ্ন করুন যে এই সম্পর্কের ভবিষ্যত কি এবং কেন এমন একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন যে কোনোদিনও আপনার হবে না।

বিজনেস আওয়ার /১৫ মে/ আর এইচ

উপরে