ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫


অদৃশ্য শক্তির কারণে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারী

২০১৮ মে ১৬ ০৭:৩৭:৫৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: কোনভাবেই পতন ঠেকানো যাচেছ পুঁজিবাজারে। চারপাশে সব সব সুসংবাদ থাকার পরও পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই নিম্নমুখী হচ্ছে বাজার। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই কমছে বাজার মূলধন। বিষয়টি যেমন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তেমনি বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছে এর প্রকৃত কারণ অজানাই রয়ে গেছে। আর এ কারণে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

পতনের বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে ইনভেষ্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ছাড়া বাকিগুলো পুরোপুরি নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পোর্টফলিও ম্যানেজারসহ বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী বর্তমানে সাইডলাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণে অতি ব্যস্ত। অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া, বিনিয়োগকৃত অর্থের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগে আসছেন না বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী। এছাড়া রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অনেকে মার্জিন লোন নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। পরিণতিতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে না।

বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করছেন, ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্কট উত্তরণ ও উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজার উন্নয়নে গঠন করা হয়েছে একাধিক কমিটি। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে কোন উদ্যোগই বাজার উন্নয়নে কাজে আসেনি। এছাড়া গঠিত এসব কমিটির কার্যক্রম কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এমনকি এসব কমিটির অনেক সদস্যই ভুলে গেছেন তিনি কোন কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আর কমিটির সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পরিপালন না করায় পুঁজিবাজার চলমান সঙ্কট থেকে উত্তোরণ পায়নি বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। পুঁজিবাজারের ওই সঙ্কট নিরসনে সরকার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু এসব কমিটির সভা থেকে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং একেক কমিটির সভা থেকে একেক ধরনের তথ্য আসায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ফিরে আসেনি পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতি।

তাঁরা আরো বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতায় শুধুমাত্র নীতিমালা প্রনয়ন ও বাজার পর্যবেক্ষনে কমিটি গঠন করলেই হবে না। বরং এসব পদক্ষেপ ও নীতিমালা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে কি না- তা মনিটরিং করা দরকার। এজন্য পুঁজিবাজারে ওপর সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরো জোরদার করার পাশাপাশি অনিয়ম ও কারসাজির বিপরীতে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।


বিজনেস আওয়ার/এসএম

উপরে