ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫


ঈদের জন্য প্রস্তুত মিরপুর বেনারসি পল্লী

২০১৮ মে ১৬ ১১:৫৩:৪৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ গেলো বছর ব্যবসা খুব বেশি ভালো যায়নি। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা থেমে নেই। তাই সব কিছু ভুলে আবার নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজধানীর মিরপুর বেনারসি পল্লীর ব্যবসায়ীরা। আগামী রোজার ঈদে প্রায় ১৫ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তারা।

এর মধ্যে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে দোকানে তোলার পালা। ঈদ সামনে তাই বেনারসি পল্লীজুড়েই চলছে সাজ সাজ রব। বেনারসি পল্লী ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

মিরপুর বেনারসি পল্লী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাশেম বলেন, গত বছর নানা কারণে আমাদের ব্যবসা ভালো যায়নি। এবার আশা করছি শতাধিক দোকানে ১০-১৫ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রি হবে। ঈদের প্রস্তুতি শেষের পর্যায়ে। ৫-৭ দিনের মধ্যেই ঈদের কালেকশন পুরোপুরি শো-রুমে চলে আসবে।

বাহারি সব নাম, রঙ ও ডিজাইনের শাড়ির বিপুল সমাহার। তবে ঈদের সব শাড়ি এখনও আসেনি। দোকানের কর্মকর্তা মো. আমীর জানান, তার দোকানে মিরপুর কাতান পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায়।

এছাড়া অপেরা কাতান ৬-৭ হাজার টাকা, কাঞ্জিভরন (পিয়র) ১৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, মিরপুরের খাদি ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা, বিল্লু রানী ৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বিয়ের বেনারসি ৩ থেকে ৪০ হাজার টাকা, ভারতীয় পাটি লেহেঙ্গা ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা, ঢাকাই জামদানি ৩ থেকে ৩০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি ৮শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের সফট সিল্ক আড়াই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা, ইন্ডিয়ান গাদোয়াল ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা (এর মধ্যে সুতি ও কাতান দু’ধরনেরই শাড়িই রয়েছে)।

এছাড়া ঢাকাই জামদানি ২ থেকে ১০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি ১২শ' থেকে ৫ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের সিল্ক (হাফ ও ফুল) ১২শ' থেকে ৫ হাজার টাকা, মিরপুর বেনারসি ব্রাইডাল শাড়ি ৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা, শিপন দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, জর্জেট প্রিন্ট ১-৩ হাজার টাকা এবং কাঞ্জিভরন (কাতান) পাওয়া যাচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ঈদের মাল আসতে আর ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে।

বেনারসি পল্লীর হানিফ সিল্ক, বিগবাজার, রূপ সিঙ্গার, এশিয়া বাজার, পাবনা এম্পেরিয়াম, জারাসহ বিভিন্ন দোকানে রয়েছে বিশাল শাড়ির সমাহার। এসব দোকানে কর্মকর্তারা জানান, আগামী ঈদ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। কিছু কিছু কালেকশন এর মধ্যেই এসেছে।

বেশিরভাগই এখনও আসেনি। তবে কারিগররা অর্ডার অনুযায়ী কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং কাজ। আশা করা হচ্ছে রমজান শুরুর আগেই ঈদের শাড়ি সংগ্রহ করতে পারবেন ক্রেতারা।

আদি বেনারসি পল্লির মানসী শাড়িজ'র পরিচালক রেজাউল করিম রেজা জানান, বর্তমানে ভারতীয় শাড়িতে দেশের বাজার সয়লাব। তাছাড়া খুচরা ক্রেতারাও ছুটে যাচ্ছেন কলকাতাসহ ভারতের অন্যান্য শহরে। ফলে আমরা ব্যাবসায়ীক মার খাচ্ছি। সরকারের উচিত ব্যবসায়ী ও দেশের স্বার্থে এ বিষয়টির দিকে নজর দেয়া।

এছাড়া এবার বর্ষার মৌসুম আগেই শুরু হয়েছে, যার কারনে দেশি পন্য উতপাদন কম হচ্ছে। নানা কারনে তাতিরাও কাজ করতে চাইছেনা। এছাড়া আদি বেনারসি পল্লিতে আসার রাস্তার অবস্থাও খুব বেশি ভালো নয় যার কারনে এদিকে ক্রেতা সমাগম কম হয়। ফলে আমাদের বিক্রিও একটু কম। তবে আশা করি ঈদে ভালো বেচাকেনা হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৬মে/এমএএস

উপরে