ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫


ছয় বছরে এডিপির আকার বেড়েছে

২০১৮ মে ১৭ ০৯:১৪:৪৪


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বিগত ছয় বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আকার বেড়েছে প্রায় ১৭৯ শতাংশ। তবে সে অনুযায়ী তেমন একটা উন্নতি আসেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের হারে। অর্থের যোগান দিতে বেশি সুদে ঋণ নেয়ার কারণে বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়।

গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সবশেষ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী, এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা।

অর্থ বরাদ্দ বাড়লেও গেল ১০ মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস বাস্তবায়ন হয়েছিল ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস হয়েছিল ৫২.৩৪ শতাংশ।

গেল অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এবার হয়েছে সাড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে গড়ে একদিনে ব্যয় হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা। সেখানে বাকি অর্থ শেষ দু'মাসে ব্যয় করতে প্রতিদিন গড়ে ছাড় দিতে হবে সাড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

এব্যপারে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ১০ মাসে ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হার বছর শেষে ৯০ শতাংশে উন্নীত হওয়া অনেকটাই অবিশ্বাস্য। তাদের মতে, প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে অর্থ ছাড় বেশি হলে রক্ষা হয় না কাজের গুণগত মান।

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যয়ের পরিমাণটা আগের মতোই খুব নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য যারা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে অভ্যস্ত তাদের দিয়ে প্রকল্পগুলো করানো গেলে এখানে কিছুটা মান রক্ষা হবে।

সম্প্রতি এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে সম্ভাব্য সমীক্ষা ও তদারকি না হওয়া, একাধিকবার প্রকল্প সংশোধনসহ ৭টি কারণ উল্লেখ করেছে আইএমইডি।

অন্যদিকে, দেশীয় অর্থায়নে নেয়া বিভিন্ন বিভাগের প্রকল্পের বাস্তবায়ন অর্থ সংকটে পিছিয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে হচ্ছে সঞ্চয়পত্র কেনার অর্থ দিয়ে। যা, বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রকল্প ব্যয়।

অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দেশে এডিপি বাস্তবায়ন ক্রমান্বয়ে ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকা খরচ করার পেছনে আগে সুদ বা অন্যান্য যেসব ব্যয় হতো এখন তার পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। এ জায়গার পরিবর্তনের জন্য এর আগে অনেক ধরনের আলোচনা হলেও তার বাস্তবায়ন খুব একটা হয়নি।

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে এডিপিতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা।

বিজনেস আওয়ার/১৭মে/এমএএস

উপরে