ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৫


বেগুনে আগুন, মরিচ-পেয়াজে ঝাঁজ

২০১৮ মে ১৭ ০৯:৪২:২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ রোজা শুরু হতে নাহতেই রাজধানীর কাঁচাবাজার গুলোতে বেগুনে যেন আগুব লেগেছে। দফায় দফায় দাম বেড়ে বেগুনের কেজি এখন ৯০ টাকায় পৌঁছেছে। যা মধ্য ও নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে যেন আকাশের চাঁদ। বেগুনের সাথে পাল্লা দিয়ে ঝাজ বেড়েছে পেয়াজ মরিচের। কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, হাতিরপুল ও মিরপুরসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরু থকেই বেগুনের দাম বাড়ছে।

এপ্রিল মাসে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম মে মাসের শুরুতেই এক লাফে বেড়ে হয় ৭০ টাকা। দ্বিগুণ বাড়ার পরও এ সবজিটির দামের উল্লম্ফন থামেনি। আরও কয়েক দফা বেড়ে এখন অনেক বাজারেই ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবাসয়ীরা প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের এমন দামের বিষয়ে শান্তিনগরের ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বেগুনের দাম কিছুটা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এতে বিস্মিত হওয়ার কী আছে? এখন তো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

রোজায় বেগুনের দাম বাড়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নে এই ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বেগুনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রোজার এক মাসে যে পরিমাণ বেগুনের চাহিদা থাকে, তা দিয়ে বছরের চার-পাঁচ মাসের চাহিদা মেটানো যায়।

তবে হাজীপাড়ার বৌ-বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি গোল বেগুন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর লম্বা বেগুন ৭০-৮০ টাকায়। বেগুনের দামের বিষয়ে এ বাজারের ব্যবসায়ী বলেন, এপ্রিল মাসে লম্বা বেগুন প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন সেই বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি করছি।

মূলত রোজার কারণেই বেগুনের এমন দাম। চলতি মাসের শুরু থেকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। আমরা আশা করছি রোজা চলে গেলেই বেগুনের দাম আবার কমে যাবে।

মিরপুর বাজার থেকে এক সবজি ক্রেতা জানান, গত শুক্রবার যে দামে বেগুন কিনেছি, আজ তার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হলো। এক কেজি লম্বা বেগুনের দাম রেখেছে ৮০ টাকা। ম

রিচ গতসপ্তাহে ৫০টাকা কিনলেও এখন কনতে হচ্ছে ৬০টাকায়। আর এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজ কনেছি ৩০টাকা সেই পেয়াজ কনলাম ৫০টাকা কেজিতে।

বেগুনে-মরিচ-পেয়াজে উত্তাপ ছড়ালেও তার কোনো প্রভাবই নেই রোজার মাসে চাহিদা বৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে ধনেপাতায়। রোজা দুয়ারে কড়া নাড়লেও দুই মাস আগের দামে বিক্রি হচ্ছে এ পণ্য। ধনেপাতা ২৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকা ও ধনেপাতা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গুলশান লিংক রোডের গুদারাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী বলেন, রোজা উপলক্ষে এবার কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার দাম বাড়েনি। প্রায় দুই মাস ধরে আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়াইশগ্রাম ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অথচ অন্য বছরগুলোয় রোজা শুরু হওয়ার আগেই এ দুটি পণ্যের দাম বেড়ে যেত।

রামপুরার মোল্লাবাড়ি বাজারে সবজি কিনতে আসা সাইফুল বলেন, অনেকদিন ধরেই এক পোয়া কাঁচামরিচ ১০ টাকায় কিনছি। আজও এক পোয়া কাঁচামরিচের দাম ১০ টাকা রেখেছে। এক পোয় ধনেপাতা কিনেছি ২৫ টাকায়। তবে ধনেপাতা আমি নিয়তিম কিনি না, তাই এর দাম আগে কেমন ছিল তা বলতে পারছি না।

তিনি বলেন, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার যে দাম তাতে তো কিছুটা হলেও স্বস্তি আছে। কিন্তু বেগুন, চিনির দাম তো খুব বেড়েছে। এই বাজারে এক কেজি বেগুন কিনতে লাগছে ৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও যে চিনির দাম ছিল ৬০ টাকা, তা এখন চাচ্ছে ৬৬ টাকা।

বেগুনে-মরিচ-পেয়াজের সাথে পাল্লা দিয়ে বেশির ভাগ সবজিরই দাম বেশি বাজারগুলোতে। তবে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে রোজার মাসে চাহিদা বৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম শশায়। মিরপুর কাঁচাবাজারে মানভেদে প্রতিকেজি শশা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৮০টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৪০-৫০টাকা।

মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা চাকুরীজীবী নারী জান্নাতুল ফেরদৌস জুলি জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এখন সব ধরনের সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। দাম কমের মধ্যে শুধু মিঠা কুমড়াই চোখে পড়ল। তাছাড়া শশা ও বেগুনের দাম সবথেকে বেশি বেড়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৭মে/এমএএস

উপরে