ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫


'আমাদের বিষয়ে পজেটিভের চেয়ে নেগেটিভ খবরই বেশি হয়'

২০১৮ মে ১৭ ১৫:১১:০৭


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ আমরা সরকারে আছি তারপরও আমাদের বিরুদ্ধেই বেশি খবর হচ্ছে। আমাদের বিষয়ে গণমাধ্যমে পজেটিভ খবরের চেয়ে নেগেটিভ খবরই বেশি হয়। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএফইউজে’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ৩৭ বছর পেরোলেও বেশির ভাগ গণমাধ্যমের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্টো তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের অত্যাচার নিয়ে তেমন লেখালেখি হয় না বলেও অভিযোগ সরকারপ্রধানের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক দল ও কিছু ব্যক্তি, যারা দল করে না তারাও একটি কথা বলে যাচ্ছেন যে, দেশে কথা বলার স্বাধীনতা নাই। কিন্তু কথা বলার স্বাধীনতা যদি নাই থাকে তাহলে তারা কথাগুলো বললেন কিভাবে? কথা বলার স্বাধীনতা নেই একথা যারা বলছেন তারা কী সত্য না মিথ্যা বলছেন?

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকারে আসার পর ইতোমধ্যে অষ্টম ওয়েজবোর্ড করে দিয়েছি। নবম ওয়েজবোর্ড করার প্রক্রিয়াও চলছে। কাজেই আশা করি সেটাও করা হবে। তবে আপনারা জানেন, ওয়েজবোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা থাকেন। তারা সবসময়ই একটু কালক্ষেপণ করার চেষ্টা করেন। এটা আপনারা নিজেরাও ভালো করে বোঝেন। আমার এখানে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না।

পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, রাখিও না। আমার গণভবনে ঢুকতেও দিই না। দরকার নেই আমার। কাজের মধ্য দিয়েই জনগণই জেনে নেবে। কাজের মাধ্যমেই আমি থাকব।

আওয়ামী লীগ থাকলে কী হয় আর না থাকলে কী হয়, তা দেশের মানুষ বোঝে। তাঁকে সব সময় সমালোচনার মধ্যে থাকতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে অনুযায়ী বিএনপির নির্যাতনের কথা গণমাধ্যমে উঠে আসেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছিল, কিন্তু কী দুর্নীতি প্রমাণ করতে পেরেছে? যারা এসব কথা লিখেছে, তাদের কী করা উচিত? এটাই কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা?

তিনি বলেন, আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি। মানুষ মনে করত বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ, তারা হাত পেতে চলবে। কিন্তু আমরা কেন হাত পেতে চলব? এখন আমাদের সম্পর্কে বিদেশিদের ধারণা বদলেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, আকাশ বিজয় করেছি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা বিশ্বে মর্যাদার আসনে উন্নীত হয়েছি। আমাদের উন্নয়নের পরিকল্পনা একেবারে তৃণমূল থেকে, যাতে সব পর্যায়ে উন্নয়ন ঘটে।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য যে কাজ হচ্ছে, তা যেন তুলে ধরা হয়। কারণ আমরা পরমুখাপেক্ষী হতে চাই না।

বিএফইউজে'র সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের সভাপতি আবু জাফর সূর্যসহ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বিজনেস আওয়ার/১৭মে/এমএএস

উপরে