ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


আমার নামটাই আমার প্রাপ্তি: মৌসুমী হামিদ

২০১৮ মে ১৭ ১৬:১০:১৮

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। টিভি নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছোট পর্দায় তুমুল জনপ্রিয়তা তার। বড় পর্দায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটক দুটোতেই সমানতালে কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা যেনও তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় পর্দায় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ‘জালালের গল্প’, ‘ব্লাকমেইল’, ‘পূর্ণমদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী-২’সহ প্রায় প্রতিটি ছবিতেই দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলোর জন্য নির্মাতাদের কাছে তিনিও বেশ আস্থা তৈরি করেছেন। এই অভিনেত্রী বড় পর্দায় এবার আসছেন শরৎচন্দ্র্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজলক্ষ্মী হয়ে। নির্মাতা আরিফুর জামান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় চরিত্রগুলো নিয়ে নির্মাণ করছেন চলচ্চিত্র ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’। এই ছবির রাজলক্ষ্মী চরিত্রে অভিনয় করছেন মৌসুমী হামিদ। সম্প্রতি তার ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা হয় বিজনেস আওয়ারের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাকিলুর রহমান।

রাজলক্ষী চরিত্রটি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মৌসুমী হামিদ : সিনেমাটি নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। কারণ সিনেমাটির কনসেপ্ট খুবই ইউনিক। ‘আমাকে পুরোপুরি শরৎচন্দ্রের রাজলক্ষ্মী হতে হচ্ছে না। বলা যায়, ওই রাজলক্ষ্মীর অংশ বিশেষ নিয়ে গড়ে উঠেছে আমার এই রাজলক্ষ্মীর চরিত্রটি। যদি পুরোপুরি হতো তবে শ্রীকান্তের রাজলক্ষ্মীর হাঁটাচলা, কথাবলার ধরন, পোশাক, সে কীভাবে কষ্ট পেতো তা পুরোপুরি জানতে হতো। কিন্তু এই রাজলক্ষ্মীর চরিত্রটি একটু ভিন্নরকম। আপনি বুঝতেই পারবেন না একটি দৃশ্যের পরের দৃশ্য কি হতে যাচ্ছে। আবার পুরো গল্পটাই একটা ফ্যান্টাসি। ‘শরৎচন্দ্রের উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে বিশাল স্থান দখল করে আছে। তার বিখ্যাত চরিত্র ‘রাজলক্ষ্মী’ হিসেবে অভিনয় করা আমার জন্য বিশাল সৌভাগ্যের। দর্শকদের ভাল কিছু উপহার দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

‘লেখক’ নাটকে আপনার চরিত্রটি প্রসঙ্গে বলুন?

মৌসুমী হামিদ : নাটকটি একজন লেখকের গল্প। ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটকটি নির্মাণ করেছেন আজাদ আল মামুন। নাট্যরূপ দিয়েছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে এটিএন বাংলায় এটি প্রচারিত হবে। গল্পটি খুব সাধারণ কিন্তু খুবই মজার। দর্শক নাটকটি দেখে অনেক মজা পাবে। গল্পে একজন লেখকের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি। আমি সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও লেখক স্বামীকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্ব করি।’ ‘এর আগেও রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকে কাজ করেছি। কিন্তু এই প্রথম এই ধরনের কোন চিত্রনাট্যে কাজ করছি। কারণ নাটকটির চিত্রনাট্য একদমই আলাদা।

ঈদ ব্যস্ততা কেমন?

মৌসুমী হামিদ : এই তো সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে। এরইমধ্যে কাজ করলাম ‘কমলার বনবাস’ নাটকের। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সুমন আনোয়ার। কমলা নামের একটি মেয়ে হারিয়ে যাওয়া, খুঁজে পাওয়া এবং সর্বশেষ নিজে নিজেকে বনবাস দেয়া এ রকম একটি গল্প নিয়ে ‘কমলার বনবাস’ নির্মিত হয়েছে।

চলতি ধারাবাহিক?

মৌসুমী হামিদ : মাছরাঙা টিভিতে ‘ঘরে বাইরে’, এনটিভিতে ‘যখন কখনও’। আরও বেশকিছু ধারাবাহিক করিতেছি।

অনেক সময় দেখা যায় শূটিংয়ের আগে এক রকম গল্প শুনেন এবং শূটিংয়ে গিয়ে দেখলেন ভিন্ন গল্প, সেই বিষয়গুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?

মৌসুমী হামিদ : এটা অনেক সময়ই হয়। যেমনটা হয়েছিল ছিটমহল ছবির সময় শুনেছি গল্প এক রকম গিয়ে দেখি অন্যরকম। শিল্পী হিসেবে উচিত তখন ওই কাজটা না করে চলে আসা। বেশিভাগ সময়ই কাজগুলো করে আসতে হচ্ছে।

টিভি পর্দা নাকি চলচ্চিত্র কোথায় বেশি উপভোগ করেন?

মৌসুমী হামিদ : আমি দুইটাই উপভোগ করি। একজন শিল্পী হিসেবে দুই জায়গাই উপভোগ করার। তবে বড় পর্দা সব সময় সবার কাছে স্পেশাল মনে হয়।

‘কয়লা’ ছবির আপডেট কী?

মৌসুমী হামিদ : ‘কয়লা’ ছবি চলতি বছরের শেষেই শূটিং শুরু হবে।

প্রচলিত আছে মিডিয়ায় কাজ করতে গেলে ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়। আপনি কখনও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন? কিংবা এখান থেকে উত্তরণের উপায় কি?

মৌসুমী হামিদ : না! আমার কাছে যে কাজ এসেছে তা ১০০% সততা দিয়ে করেছি। এ জন্য আমার ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। উত্তরণের ব্যাপারে বলব কাজের পেছনে না দৌড়িয়ে নিজের যোগ্যতা তৈরি করা। আমার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে আমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। যোগ্যতা কে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে।

সাত বছরে প্রাপ্তি কতটুকু?

মৌসুমী হামিদ : পুরোটাই প্রাপ্তি। আমার নামটাই আমার প্রাপ্তি।

কি ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহী?

মৌসুমী হামিদ : সবধরনের চরিত্রে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সব সময় আমার ভিন্নধর্মী কাজ পছন্দ। যেমন গল্পভিত্তিক কাজ। গতানুগতিক ধারার বাইরের গল্প।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা যাবে?

মৌসুমী হামিদ : এখন যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। আমি আসলে কোন কিছু নিয়ে দৌড়াই না। আমি আমার মতো চুপচাপ কাজ করে যাই। ভাল কোন গল্প পেলে ভালভাবে কাজটি করার চেষ্টা করি।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

মৌসুমী হামিদ : মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয় করে যেতে চাই। দেখা যাক আল্লাহ কতদিন বাঁচিয়ে রাখে। এবং ভাল কিছু কাজ করে যেতে চাই। যেটা মৃত্যুর পরও মানুষ মনে করে।

বিজনেস আওয়ার/১৭মে/এসআর/এমএএস

উপরে