ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫


যানজটের কারনে ঢাকার ভবিষ্যত ঝুকিতে

২০১৮ মে ১৭ ১৮:১৪:২৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: এই শহর জাদুর শহর প্রানের শহর ঢাকারে ‘চিরকুটের’ এই গানের মত সকলের কাছে এই শহরটি প্রানের শহর না হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছেই এই শহরটি শুধুই একটি জ্যামের শহর। জ্যাম বা যানজটের কারনে এই শহরের মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এই সমস্যা নিরসনের জন্য সরকারের নানান পদক্ষেপও তেমন কোন কাজেই আসছে না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিও’র প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৮ এর তথ্য মতে, বিশ্বের যানজটের শহরের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আমাদের রাজধানী ঢাকা। আর প্রথমে রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা শহর। এতে বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২০৩টি শহরকে কেন্দ্র করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়। একটি দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এই যানজট মারাত্মক ভাবে ভূমিকা পালন করে। এই যানজটের কারনে ঢাকার ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক গবেষকদের মতে, ঢাকা শহর এখন আর কোন বসবাস যোগ্য শহররের আওতায় পড়ে না।

ঢাকার এই মহাআকারে সৃষ্ট যানজটের কারনে জানতে চাইলে এআরআই-এর প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, “আমরা এখন যে যানজট দেখছি, ঢাকাতে তা কিন্তু এক দিনেই হয়ে উঠেনি। এসবের মূলে রয়েছে পরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ, সরকারের নজরদারির অভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবহেলা, অদক্ষ চালকদের লাইসেন্স প্রদানের কারনে এই যানজট এতটা মহা আকার ধারন করেছে।”

এ সমস্যা নিরসনের উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যানজটের সমস্যা এখন আর এক দিনে নিরসন করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার কে এখন থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে করে অনেকাংশে এ সমস্যা নিরসন হবে।”

রাজধানীর ঢাকাতে ১২ বছর আগে একটি যানবাহন গড়ে ঘন্টায় যেতে পারত ২১ কিলোমিটার তা এখন ৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। এবং আর একটি গবেষনার মাধ্যেমে দেখা যায় এ দেশে বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে শুধু মাত্র এই যানজটের কারনে। তাছাড়া যানজটের কারনে প্রতিদিন শুধু ঢাকাতেই ৫০ লাখ কর্ম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। এতে করে ক্রমেই দেশের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এই যানজট।

যানজটের এ সমস্যা যে শুধু আর্থিক বা সময় কেন্দ্রীক সমস্যা তা নয়, এ সমস্যার জন্য শহরবাসি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে বিভিন্ন পেশা বা বিভিন্ন মানুষের কাছে এ সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন-

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নানক বলেন, “কোথাও আগুন লাগলে অধিকাংশ সময়েই আমরা ঘটনা স্থানে সঠিক সময়ে পৌছাতে পারি না এতে করে আগুনের ক্ষতির পরিমান অধিকাংশ বেড়ে যায়। এবং তিনি আরও বলেন অনেক সময় দেখা যায় ঘটনা স্থানে আগুনে ধ্বংস হয়ে যাবার পর আমরা সে ঘটনা স্থানে পৌছাই এতে করে আমাদের কিছুই করার থাকে না। যদি এই যানজট না থাকত তাহলে আমরা দ্রুত স্থানগুলোতে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্তনে এনে এই ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে পারতাম।”

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড কিন্তু এই মেরুদন্ডকেও নরবরে করে দিচ্ছে মানব সৃষ্ট এ যানজট। এতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী সুদিপ্ত বলেন, “যানজটের কারনে প্রায় দিনই কল্যানপুর থেকে ধানমন্ডির সোবহানবাগে হেঁটে গিয়ে আমি ক্লাস করি, মাঝে মধ্যে পরিক্ষাতেও সঠিক সময়ে পৌছাতে পারি না আমি এতে করে আমার পড়াশুনার পাশা পাশি সময়ের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”

এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বাশার(৪৬) আমাদের বিজনেস আওয়ারকে বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার হিসেবেই আমি প্রথম থেকে কাজ করে যাচ্ছি, ঢাকার এই জ্যামের কারনেই হসপিটালে নেওয়ার আগেই অনেক রোগী আমার গাড়িতে মারা গেছে। আমাদেরও এই জ্যামে গাড়ি চালাইতে খুবই সমস্যা হয়।”

রাজধানীর এ যানজট নিরসনের জন্য বিশ্লেষকদের কিছু গুরুত্বপূর্ন মতামত -

১) ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমেয়ে আনতে হবে এবং এ বিশষে সকলকে সচেতন করতে হবে।

২) শুধু মাত্র দক্ষ চালকদেরই লাইসেন্স প্রদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩) এই যানজটের ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে যাতে করে এই সমস্যা নিরসন করা যায়।

৪) রাজধানীর রাস্তা গুলো যেন হকাররা দখল করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫) রাজনেতির ব্যাক্তিরা যেন রাস্তা দখল করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৬) ট্রাফিক পুলিশকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।

৭) রাস্তায় যেন অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কি করতে না সে বিশষে লক্ষ রাখতে হবে এবং প্রতিটি মার্কেট বা প্রতিষ্ঠানকে এই গাড়ি পার্কিয়ের ব্যাবস্থা করে দিতে হবে।

৮) জনসাধারনের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

একটি শহরের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয় কিন্তু হতাশার বিষয় হলো সেখানে আমাদের ঢাকাতে সড়ক রয়েছে মাত্র ৭.৫ শতাংশ। এবং তার মধ্যে ৩ থেকে ৪ শতাংশ সড়ক পথ রয়েছে শুধু এ গাড়ি চলাচল জন্য। তবুও যাই হোক রাজধানীবাসিরা এখনও বিশ্বাস করে যে এই শহর একদিন জ্যাম মুক্ত শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৭ মে/ আর এইচ

উপরে