ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24

যে কারণে মুন্নু জুটের শেয়ার দরে বড় উল্লম্ফন

২০১৮ মে ১৯ ২২:১৬:৫০

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্সের শেয়ারদর নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটি কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চায়। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায় যে, কোম্পানিটির অস্বাভাবিক শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা যুক্তিসংগত কারণ নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৫ মার্চ ২০১৮ মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্সের শেয়ারদর ছিল ৭৬৫ টাকা। ৩৫ কার্যদিবস পর গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৩৪.৪০ টাকায়। অর্থাৎ ৩৫ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ১৫৩ শতাংশ। এতো অল্প সময়ের মধ্যে মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্সের শেয়ারদর যেভাবে বেড়েছে, শেয়ারবাজারে অন্য কোন তালিকাভূক্ত কোম্পানির শেয়ারদর ইতোপূর্বে এভাবে বাড়তে দেখা যায়নি। উপায়ন্তর না দেখে মুন্ন জুট স্ট্যাফলার্সের অস্বাভাবিক শেয়ারদর কারণ অনুসন্ধানে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছুদিন আগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি গঠনের পরও কোম্পানিটির শেয়ারদর নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি গোষ্ঠির সরাসরি যোগসাজস রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বিধায় বিষয়টি নিয়ে এই মুহুর্তে মুখ খুলতে রাজি নয় তদন্ত কমিটি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ার সময়ে কোম্পনিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতেবেদন নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭ থেকে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৯৫ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.৬০ টাকা। এতে দেখা যায়, ইপিএসে বড় প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ার পেছনে কাজ করেছে। অথচ ৯ মাসে ২.৯৫ টাকা ইপিএসের শেয়ারদর ১৯০০ টাকারও বেশি দরে লেনদেন হওয়া আজগুবি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবি করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কোম্পানিটির শেয়ারদর এমনিই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেটির মুল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৪৯১.৮০, যা শেয়ারবাজারে বর্তমানে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে ৫ কোটি টাকার নিচে কোম্পানির সংখ্যা মাত্র ১৬টি। এরমধ্যে ২/১টি কোম্পানি ছাড়া বাকি সবগুলো কোম্পানির শেয়ারদর বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেখা যায় মাত্র ৩টি কোম্পানির আয়ে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি রয়েছে। অবশিষ্ট সবগুলো কোম্পানির ইপিএস এক প্রান্তিকে ভালোতো, পরের প্রান্তিকেই পতন। বছরজুড়েই চলে বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর হাতিয়ার হিসাবে ইপিএস কারচুপির খেলা।

উল্লেখ্য, স্বল্প মূলধনী কোম্পানির মধ্যে আযে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি রয়েছে সেই তিন কোম্পানি হলো-ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, স্টাইলক্রাইফট এবং ফার্মা এইড। তবে এরমধ্যে স্টাইলক্রাইফটের শেয়ারদরও এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোম্পনিটির বর্তমান পিই ৫৯.৩৮। অন্যদিকে, ফার্মা এইডের পিই ২৮.২৭ এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের পিই ৩৪.০৫ বিধায় কোম্পানি ২টির শেয়ার এখনো্ মার্জিনেবল।

‘মুন্ন স্ট্যাফলার্সের শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধির কোন কারণ নেই ‘ বলে খোদ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের এমন সতর্কবার্তা জারির পরও কোম্পানিটির শেয়ারদর থামছে না। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানিটি স্বল্প মূলধনীর তকমা থাকাতেই এর শেয়ারদর এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে। একটি গোষ্ঠির নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটির শেয়ার রয়েছে বিধায় তারা ইচ্ছেমতো এর শেয়ারদর বাড়াচ্ছে, কমাচ্ছে। স্বল্প মূলধনী কোম্পানির তমকা ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির অন্য কোন কারণ নেই বলে বিনিয়োগকারীদের সাথে বাজার সংশ্লিষ্টরাও দাবি করছেন।

উপরে