ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫


নিজামী এখনো বিএসইসির কমিশনার !

২০১৮ মে ৩০ ১১:২৪:৪৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং আইন অনুযায়ি সুযোগ না থাকায় এরইমধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে বিদায় নিয়েছেন হেলাল উদ্দিন নিজামি ও আমজাদ হোসেন। তবে বিএসইসির ওয়েবসাইট কমিশনারের তালিকা থেকে আমজাদ হোসেনের নাম প্রত্যাহার করা হলেও হেলাল উদ্দিন নিজামীকে বর্তমান কমিশনার হিসাবে দেখানো হচ্ছে।

আইন অনুযায়ি, বিএসইসিতে মো. আমজাদ হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ এপ্রিল এবং মো. হেলাল উদ্দিন নিজামির ৪ মে। এরই ধারাবাহিকতায় আমজাদ হোসেন বিএসইসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন ৩০ এপ্রিল। যাতে বিএসইসির ওয়েবসাইট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে হেলাল উদ্দিন নিজামী গত ৫ মে থেকে বিএসইসিতে দায়িত্ব পালন না করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেননি। তবে তিনি বিএসইসিতে কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তার ছবি সংযুক্ত তথ্য রাখা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ওয়েবসাইট হয়তো আপডেট করা হয়নি। তাই এখনো হেলাল উদ্দিন নিজামীকে কমিশনার হিসাবে দেখানো হচ্ছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেলাল উদ্দিন নিজামীর মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা আমার জানা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাইনি।

২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধসে বিএসইসিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। এই সুযোগে ২০১১ সালের ৪ মে বিএসইসিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামি। তিনি প্রথমবার ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পান। যা শেষ হওয়ার আগেই পূণ:নিয়োগ পান। তবে এক্ষেত্রে ৪ বছরের জন্য পূণ:নিয়োগ পান। যার ২ দফায় নিয়োগের ৭ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ৪ মে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সালের ৫ এর ৬ উপধারা অনুযায়ি, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ শুধুমাত্র ১টি মাত্র মেয়াদের জন্য পূণ:নিয়োগের যোগ্য হইবেন। সে হিসেবে হেলাল উদ্দিন নিজামির পূণ:নিয়োগের সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইনে বিএসইসিতে অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামির শেষ কার্যদিবস হয়েছে গত ৪ মে।

আইন অনুযায়ি সুযোগ না থাকলেও হেলাল উদ্দিন নিজামীকে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের ন্যায় আইন বর্হিভূত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে এমন গুঞ্জন ছিল। এছাড়া হেলাল উদ্দিন নিজামীর মেয়াদ বাড়ানোর সেই আশঙ্কা এখনো থাকায়, তার ছবি ওয়েবসাইটে ঝুলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) এক অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেছিলেন, হেলাল উদ্দিন নিজামী থাকতেও পারেন, নাও পারেন। বিষয়টি দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

হেলাল উদ্দিন নিজামী নিয়ন্ত্রক সংস্থায় থেকে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনে কয়েক দফায় সমালোচিত হয়েছেন। তিনি যেমন দূর্বল কোম্পানি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজকে শেয়ারবাজারে আনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রেষারেষিতে জড়িয়ে পড়েন। একইভাবে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজকে মূল মার্কেটে আনাকে কেন্দ্র করে চাপ প্রয়োগ করেন। এছাড়া সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একই গ্রুপের তিন কোম্পানি একীভূতকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম করেন। ওইসময় তিনি বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। আর এই সুযোগে ক্ষমতা দেখানোর জন্য সরকারি ছুটির দিনেও স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনাকে দৌড়ের উপর রাখেন।

সর্বশেষ কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ প্রথমবার যখন চীনা কনসোর্টিয়ামের নাম প্রস্তাব করে, তাতে আপত্তি বাধেন হেলাল উদ্দিন নিজামী। যিনি ভারতের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করতে অযাচিত চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি চীনা কনসোর্টিয়ামকে প্রস্তাব করায়, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করেন। গালিগালাজ করতেও ছাড়েন না। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বলে গুঞ্জন আছে। তবে ডিএসইর সদস্যদের শক্ত অবস্থান ও মিডিয়ায় নিজামীর অশোভনীয় আচরন প্রকাশিত হওয়ার কারনে চীনা কনসোর্টিয়ামই কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে বিএসইসির চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

হেলাল উদ্দিন নিজামি বিএসইসিতে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিষ্টেমস বিভাগে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাণিজ্য বিভাগে ১৯৮০ সালে এসএসসি ও ১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করেন। আর ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও ১৯৯০ সালে ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর করেন।

বিজনেস আওয়ার/৩০ মে, ২০১৮/আরএ

উপরে