ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫


ডেমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে যেসব কারণে

২০১৮ জুন ০৩ ২১:১০:৫০

বিজনেস আওয়ার ডেস্কঃ ডেমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ একটি মারাত্মক রোগ। বংশে যদি এ রোগের ইতিহাস থাকে, তবে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কিছু কারণে আপনি নিজেকে ডেমেনশিয়ার ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন।

বিশেষ ধরনের ওষুধ গ্রহণ

মৌসুমি অ্যালার্জি বা অতিক্রিয়াশীল ব্লাডারের জন্য অ্যান্টিচোলিনার্জিক ড্রাগ দেওয়া হয়। ডেমেনশিয়ার বিবেচনায় এসব ওষুধ ঝুঁকিপূর্ণ। আবার বেনাড্রিল বা টাইলেনল পিএম বিষয়েও সাবধান থাকা উচিত।

অতিব্যস্ত সড়কের পাশে বসবাস

শুনলে হয়তো অবাক লাগবে, কিন্তু এটাই সত্য। অতিব্যস্ত সড়কের পাশে যারা বসবাস করে তাদের প্রাণশক্তি ক্ষয় করতে থাকে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ। উচ্চমাত্রার দূষণ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কানেক্টিভ টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে এগিয়ে আসতে থাকে আতঙ্কজনক ডেমেনশিয়া।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিন্দুমাত্র স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকলে মস্তিষ্কের নিউরো সেলগুলোর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্থূলতা দেখা দেয়। আবার দ্য ল্যানসেট এক গবেষণায় জানায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলেও ডেমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে ৩৪ শতাংশ।

ধূমপান

সিগারেট শুধু ফুসফুস ক্যান্সার ও এম্ফিসেমার জন্যই দায়ী নয়, মগজেও আক্রমণ করে। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিনের এক গবেষণায় বলা হয়, ধূমপায়ীরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ডেমেনশিয়া ও আলঝেইমার্সের ঝুঁকিতে থাকে।

অ্যালকোহল

এটি মস্তিষ্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন ‘কোর্সাকফ সিনড্রোম’ নামে এক ব্যাধির কথা জানায়। ভিটামিন বি-১-এর ক্রনিক অভাবের কারণে এমনটি হয়। আর এই অভাব ডেকে আনে অ্যালকোহল।

বিষণ্নতার চিকিৎসা না নেওয়া

বিষণ্নতার সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া হলে তা মস্তিষ্কের ওপর আগ্রাসন চালাতে শুরু করে। জার্নাল অব দ্য নিউরোলজিক্যাল সায়েন্সেস জানায়, মস্তিষ্কের কাঠামো ও হোয়াইট ম্যাটারের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে বিষণ্নতা।

মস্তিষ্কের ব্যায়াম না করা

মগজটাকে দেহের কোনো পেশি বলে মনে করতে পারেন। কাজেই পেশিকে সুগঠিত করতে ব্যায়াম করতে হবে। চিন্তাশীল কাজে মাথা না খাটালে স্মৃতিভ্রংশের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সারাক্ষণ ঘরের ভেতর

ভিটামিন ডির অভাব ও ডেমেনশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আছে। কাজেই আলো-বাতাসে নিজেকে নিতে হবে।

ঘুমের অভাব

যাদের ঘুম আসে না বা ঘুমাতে যথেষ্ট সময় ব্যয় করে না, তাদের ডেমেনশিয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

কাউচ বা সোফায় ঘুমানো

অনেকেই আছে যারা কাউচ বা সোফায় ঘুমাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিংবা টেলিভিশন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যায়। যত বেশি সময় সোফায় শুয়ে থাকবেন বা ঘুমাবেন, তত বেশি ডেমেনশিয়ার কাছাকাছি চলে যাবেন।

বিজনেস আওয়ার/৩জুন/আর আই

উপরে