ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

৫ ব্যাংকের ৫৮৫ কোটি টাকার কৃত্রিম মুনাফা

তালিকাভুক্ত ৪ ব্যাংক লোকসানকে মুনাফা দেখিয়েছে

২০১৮ জুন ০৬ ১১:০০:০১

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত ৫ ব্যাংকের চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ১৮) ৫৮৫ কোটি টাকা কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ৪টি ব্যাংকের লোকসান হলেও তা আড়াল করে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে। আর ১টি ব্যাংকের মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এই কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

প্রদত্ত ঝুকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতিবাবদ (প্রভিশনিং) ব্যয় না দেখিয়ে এই কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সাবেক সভাপতি এএসএম শায়খুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, হিসাব মানে প্রভিশনিং ঘাটতির সুযোগ নেই। অন্যথায় আর্থিক হিসাবে সঠিক তথ্য আসে না। যা বিনিয়োগকারীদেরকে বিভ্রান্ত করবে। তাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোন ব্যাংক যেনো প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে কৃত্রিম মুনাফা দেখাতে না পারে, সেলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদারকি করা উচিত।

প্রথম প্রান্তিকে কৃত্রিম ও বেশি মুনাফা দেখানো তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এবি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকে নতুন করে প্রভিশনিং ঘাটতিতে পড়েছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রভিশনিং ঘাটতি বেড়েছে। ওই সময় ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় বা যথাযথ সঞ্চিতি গঠন না করে বা ব্যয় না দেখিয়ে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে।

এবি ব্যাংকের চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে ১৫৫ কোটি টাকা বেশি মুনাফা দেখিয়েছে। এছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ২৩৬ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক ২৯ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১১৪ কোটি টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪১ কোটি টাকার কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে।

এদিকে এবি ব্যাংক চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে শেয়ারপ্রতি ১.৮৮ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.১৬ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। এছাড়া সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ২.৮৪ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৩৬ টাকা মুনাফা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১.২৬ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৭৩ টাকা মুনাফা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ০.০৬ টাকা লোকসানের পরিবর্তে ০.৪৫ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। আর আইএফআইসি ব্যাংক ০.০৬ টাকা থেকে ০.২৪ টাকা বাড়িয়ে ০.৩০ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে।

এর আগে প্রভিশনিং ঘাটতির মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখিয়েছে। তবে চলতি বছরের ৩১ মার্চে ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সেই প্রভিশনিং ঘাটতি কমে এসেছে। এক্ষেত্রে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি ১৬০ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকায় ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ঘাটতি ২৭৫ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রভিশনিং ঘাটতি ৭৯ কোটি টাকা থেকে ৪১ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/০৬ জুন, ২০১৮/আরএ

উপরে