ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫


বাজেটে শেয়ারবাজার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে কিছু নেই

২০১৮ জুন ১০ ১৪:৪৬:৫০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাজেটে চলমান অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং গুনগত সম্প্রসারণের লক্ষে কোনো কিছুই উপস্থাপিত হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। এমনকি শেয়ারবাজারের স্বার্থে কৌশল প্রণয়নে সিএসই থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা প্রতিফলিত হয়নি।

রবিবার (১০ জুন) দুপুরে সিএসইর ঢাকা অফিসে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলেনে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএসইর এমডি বলেন, শেয়ারবাজারের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং যথাযথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য একটি সঠিক কৌশল নির্ধারণ করা অতীব জরুরি। যা শুধুমাত্র শেয়ারবাজারের উন্নয়নই ত্বরান্বিত করবে না, আর্থিক খাতেও একটি টেকসই স্থিতিশীলতা আনয়ন করবে। আর বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষাধিক লিমিটেড কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত থাকলেও কয়েক হাজার কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে তা একান্তই নগন্য। তাই শেয়ারবাজারের স্বার্থে ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে কর ব্যবধান বাড়িয়ে উৎসাহিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে শেয়ারবাজারের সময়োপযুগী সম্প্রসারণের প্রয়োজনে বাজেটে কয়েকটি কৌশল ও নির্দেশনা বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। এরমধ্যে সরকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তকরণের জন্য সুস্পষ্ট তাগিদ ও নির্দেশনা; বহুজাতিক কোম্পানিসমূহকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিশ্চিতকরণের জন্য যথাযথ আইনী সংস্কারকরণ; বন্ড মার্কেটসহ শেয়ারবাজারের এডভ্যান্স প্রডাক্টসমূহ চালুকরণের লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারকরণ; প্রাইভেট সেক্টরে বৈদেশিক ঋণ ও সিন্ডিকেশন ফাইন্যান্সিং অনুমোদনের সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির শর্তারোপ; শেয়ারবাজার বিকাশের জন্য জাতীয় ভিক্তিক শক্তিশালী সমন্বয় কমিটি গঠন; ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক কোম্পানিসমূহের জন্য ২.৫% কর্পোরেট কর কমানোর সুবিধা সকল লিস্টেড কোম্পানির জন্য প্রদান করা ও ভবিষ্যতে লিস্টেড-ননলিস্টেড কোম্পানির কর্পোরেট কর হারের ব্যবধান বর্থিতকরণের সুস্পষ্ট ঘোষণা; লিস্টেড কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয় থেকে দ্বৈত কর রোহিতকরণ; শেয়ারবাজার অবকাঠামো টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসম্মত এবং লাভজনক কর্পোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্য যথাযথ আইনি বাধ্যবাধকতা , রেগুলেটরি এবং আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৌশল প্রণয়ন, শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ক্যাপিটাল মোবিলাইজেশনের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ; শেয়ারবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং বিনিয়োগকারীসহ শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী এবং কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বল্প মেয়াদী কৌশল হিসেবে লেনদেনের উপর ধার্যকৃত উৎসকর হ্রাসকরণ এবং নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা; ক্যাপিটাল মার্কেট স্পেশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবির ভুমিকা নিশ্চিত করার লক্ষে আইসিবিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা, বিভিন্ন ব্যাংক কতক আইসিবিকে প্রদত্ত ফান্ড/ঋণকে সিঙ্গেল এক্সপজার লিমিটে শিথিলিকরণ ও ক্যাপিটাল মার্কেট সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের বাইরে আইসিবির ভমিকা সীমিতকরণ; চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়ন তথা স্টেটেজিক ইনরভেস্টর অন্তর্ভুক্তকরণের স্বার্থে এক্সচেঞ্জ সমূহকে পরবর্তী তিন বছর ১০০% কর অবকাশ সুবিধা বহাল করা; ব্যাংক ও আর্থিক খাত শেয়ারবাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৫০% এরও অধিক, ফলে এই খাতের অস্থিরতা শেয়ারবাজারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এই খাতের চলমান অস্থিরতা নিরশন এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করে যথাযথ কৌশল প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন।

গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ, জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সয়ম্ভরতা অর্জন, দেশীয় শিল্পের বিকাল তথা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য যে সকল কৌশল নির্ধারণ করেছেন তার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

বিজনেস আওয়ার/১০ জুন ২০১৮/আরএ/পিএস

উপরে