ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫


বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে বিশ্লেষকদের নানা অভিমত

২০১৮ জুন ১২ ০০:১৫:৪১

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশের দিন থেকে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এর কারণ হিসাবে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বাজেটকে দায়ী করছেন। তাঁদের কেউ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, কেউবা করেছেন নেতিবাচক মন্তব্য। আবার বাজেটে পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু নেই বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই বলেও দাবি করেছেন। এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাবির অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন বাজেট প্রতিক্রিয়ায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশার। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন শেয়ারবাজারকে মজবুত অবস্থায় প্রতিস্থাপন করবেন, এটার কেন্দ্রবিন্দু হবে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের জন্য।

“আমরা আশা করেছিলাম করপোরেট ইনকাম ট্যাক্স কোনো ক্ষেত্রে উনি কমিয়ে দেবেন, যাতে করে কোনো ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার একটু উৎসাহ পায়। অথচ তেমন কিছুই আমি দেখছি না। বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে অন্তত আড়াই শতাংশ বা দুই শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে দিলে ভালো কোম্পানিগুলো ট্যাক্স সুবিধা নেওয়ার জন্য নিশ্চই আসত।”

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার এখন যে খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, সেটাকে উনার (অর্থমন্ত্রীর) সঠিক জায়গায় কিভাবে স্থাপন করা যায়, এ ব্যাপারে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত ছিল। তিনি আগে বলেছিলেন, করপোরেট ইনকাম ট্যাক্স বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেটে কোনো প্রতিফলন আমি দেখলাম না।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোকে আড়াই শতাংশ কমিয়েছেন, এখানে যারা শক্তিশালী লবিস্ট তারা হয়তো তাদের সুবিধা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু অন্য কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে যেখানে হাজার হাজার মানুষের এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ জড়িত সেদিকে নজর দেননি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারকে ‘উপেক্ষিত’ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেটে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী কিংবা ভোটারদের জন্য কোনোকিছুই রাখা হয়নি। এমনকী পুঁজিবাজার সম্পর্কে দু’একটি ভালো কথা, কিংবা গঠনমূলক কথাও রাখা হয়নি। নির্বাচনী বাজেট হিসেবে সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশার ছিঁটে-ফোঁটাও পূরণ হয়নি। এবারের বাজেট বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণভাবে হতাশ করেছে।”

বাজেট ছাড়া বছরটি নির্বাচনেরও উল্লেখ করে ডিএসইর সাবেক পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে হলে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাজেটে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে বুঝাতে হবে, সরকার এ খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবেন।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাজেটে সরাসরি পুঁজিবাজারের জন্য কোনো ঘোষণা নেই। তবে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর হ্রাস হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন, যার পরোক্ষ প্রভাব দেখা যাবে পুঁজিবাজারেও।

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে আমাদের বেশ কিছু সুপারিশ ছিল, যেগুলোর বাস্তবায়ন এ বাজারের ভিত শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। আমরা একটি বিশ্বমানের স্টক এক্সচেঞ্জ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এ অবস্থায় এসব সমর্থন দরকার। অর্থমন্ত্রী বাজেটের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছি, চ‚ড়ান্ত বাজেট পাসের আগে আমাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে যে ঘোষণা এসেছে, তা সবই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ও কোম্পানির জন্য, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়। তিনি বলেন, বাজটে পুঁজিবাজার বিষয়ে সরাসরি কিছু থাকলে ভালো হতো।


বিজনেস আওয়ার/এসএম

উপরে