ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫


এলএনজির দাম বাড়ানোর সুপারিশ

২০১৮ জুন ১৩ ১৬:৪০:২৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: প্রতি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ১৪৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ওপর আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব দেয়া হয়।

কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিইআরসি’র সাত সদস্যের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এমন সুপারিশ রেখেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, সিএনজি, ক্যাপটিভ পাওয়ার (শিল্প কারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র), শিল্প গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে এলএনজি আমদানির বিষয়টি কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুনানিতে জানানো হয়, তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গড়ে শুধু গ্যাসের দাম ৭৫ ভাগ বাড়ানোর জন্য গত ২০ মার্চ কমিশনের কাছে একটি আবেদন করে। এর সঙ্গে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল, সঞ্চালন ব্যয় ও বিতরণ ব্যয় ধরে এই দাম বাড়ানোর হার নির্ধারণ করেছে কমিশনের কারিগরি কমিটি।

এদিকে তিতাস গ্যাস, সার উৎপাদনে সর্বোচ্চ ৩৭২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান দাম ২ দশমিক ৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৮০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান মূল্য ৩ দশমিক ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা, শিল্পে ৭.৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা এবং সিএনজির দর ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে কমিশন বলছে, বর্তমানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গ্রাহকরা গড়ে ৩ দশমিক ৪৪৯৩ টাকায় প্রতি ঘনমিটার গ্যাস কিনে থাকে। সব ধরনের তহবিল এবং চার্জ ধরে এই গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারে ১১ দশমিক ৭৪৪৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে তিতাস। কারিগরি কমিটি মনে করে, এই দর ৮ দশমিক ৪০৫২ টাকা রাখলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিতাসের কোনো লোকসান হবে না।

কমিশন জানায়, এখন দেশে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম এক দশমিক ৫৭৮৭ টাকা। আর দৈনিক গড়ে উৎপাদিত দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন আমদানি করা এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির ফলে মিশ্রিত গ্যাসের দাম বাড়ছে।

তিতাস তার প্রস্তাবে অন্যসব তহবিল এবং চার্জ ব্যতিরেকেই শুধু গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার এক দশমিক ৫৭৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৩৭ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কারিগরি কমিটি বলছে, এই দাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে ৬ দশমিক ৮২ টাকা। তাতেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিমাণও দাঁড়াবে ৩২২ ভাগ।

গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের টাকার অপব্যহার হচ্ছে। গ্যাসের উন্নয়নে ব্যবহার না করে দেওয়া হচ্ছে ঋণ হিসেবে। তিতাস প্রতি বছর লাভ হোক না হোক, ২৫০ কোটি টাকা সরকার এবং শেয়ার মালিকদের দিচ্ছে। এজন্য তাদের অতিরিক্ত অর্থ তুলতে হচ্ছে।

বর্তমানে নতুন করে কাউকে ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান। আগে যাদের ডিমান্ট নোট ইস্যু করা হয়েছে সরকারের কাছ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গৃহস্থালিতে সংযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি। দিলে তাদেরই আগে দেওয়া হবে। বলেন, ‘এখনও গৃহস্থালিতে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি তিতাস।

ভোক্তাদের পক্ষ থেকে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম। মানসম্পন্ন গ্যাস ও ভালো সার্ভিস দেওয়ার কথা বলে পেট্রোবাংলা-তিতাস বার বার দাম বাড়িয়ে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, তারা দাম বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু সেবার মান বাড়েনি, মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না। অথচ মাস শেষে বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

বিজনেস আওয়ার/১৩জুন/এমএএস

উপরে