ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫


‘নো ডিভিডেন্ড’-এর পথে স্বল্প মূলধনী দুই কোম্পানি

২০১৮ জুন ১৪ ১২:৪৮:৩৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: মুনাফায় হঠাৎ ধস নেমেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত স্বল্প মূলধনী দুই কোম্পানির। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানি দুটি সর্বোচ্চ রেকর্ড লোকসানে রয়েছে। রেকর্ড লোকসানের কারণে কোম্পানি ২টি এখন ‘নো ডিভিডেন্ড’-এর পথে রয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কোম্পানি ২টি হলো-লিবরা ইনফিউশন ও নর্দার্ন জুট লিমিটেড।

লিবরা ইনফিউশন লিমিটেড: গত ৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, লিবরা ইনফিউশন শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ২০১৩ সালে ৪.২১ টাকা, ২০১৪ সালে ৫.৯২ টাকা, ২০১৫ সালে ৩.৪৪ টাকা, ২০১৬ সালে ৪.৬৫ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৪.৮৬ টাকা।

অন্যদিকে, কোম্পানিটি লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৩ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৪ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৭ সালে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে এসে কোম্পানিটির মুনাফায় হঠাৎ ধস নামে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) কোম্পানিটি বহু বছর পর লোকসানে চলে যায়। তারপর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৭) কিছুটা মুনাফায় ফিরে আসলেও তৃতীয় প্রান্তিকে আবারও লোকসানে ডুবে যায়। গত অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে যেখানে কোম্পনিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছিল ৪.৮৮ টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭ হতে মার্চ ২০১৮) কোম্পানিটিকে লোকসান গুণতে হয়েছে শেয়ারপ্রতি ১২.৬৫ টাকা। চলতি অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় বিপর্যয় দেখা দেয়ায় এবছর এর লভ্যাংশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, লিবরা ইনফিউশনের কর্ণধার বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সম্প্রতি তিনি ঋণখেলাপি মামলায় অনেকদিন কারাভোগ করেছেন। এর আগে একটি হত্যা মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এসব কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা হঠাৎ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নর্দার্ন ইনফিউশন লিমিটেড: গত পাঁচ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৩ সালে নর্দান জুটের শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৯.৯৮ টাকা। ২০১৪ সাল থেকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরে আসে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.৬৯ টাকা, ২০১৫ সালে ৩.০৮ টাকা, ২০১৬ সালে ০.৭২ টাকা এবং ২০১৭ সালে শেযারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫.১৩ টাকা।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে লোকসানের কারণে কোম্পানিটি ‘নো ডিভেডেন্ড ঘোষণা করে। এরপর মুনাফায় ফেরার পর ২০১৪ সালে ৫ শতাংশ বোনাস ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেয়ায় কোম্পানিটির শেয়ারদর তুঙ্গে উঠতে শুরু করে।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে এসে কোম্পানিটির মুনাফায় হঠাৎ ধস নামে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) থেকেই কোম্পানিটি বড় লোকসানের কবলে পড়ে। এরপর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৭) এবং তৃতীয় প্রান্তিকেও লোকসান বেড়ে যায়। আগের অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে যেখানে কোম্পনিটি মুনাফায় ছিল, সেখানে চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭ হতে মার্চ ২০১৮) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০.৩৮ টাকা। কোম্পানিটির মুনাফায় হঠাৎ বড় বিপর্যয় দেখা দেয়ায় ২০১৮ সালের লভ্যাংশ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। যদিও কোম্পানিটির শেয়ার দরে এখনো তেজিভাব বিরাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এর আগেও ব্যবসায় লোকসান থাকায় কোম্পানিটি একাধিকবার ‘নো ডিভিডেন্ড’ দিয়ে ‘জেড’ গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত ছিল।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নর্দার্ন জুটের বিদেশি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এদিকে, শেয়ারদর তুঙ্গে উঠায় কোম্পানির স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের শেয়ার বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে কোম্পানির স্থানীয় উদ্যেক্তাদের কাছে রয়েছে কোম্পানির ১৫.০৩ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে অবশিষ্ট ৮৪.৯৭ শতাংশ। কোম্পানিটিতে বর্তমানে কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা বিদেশি বিনিয়োগ নেই।

বিজনেস আওয়ার/এসএম

উপরে