ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫


জ্বর-ঠোসা হলে কি করবেন?

২০১৮ জুন ২৯ ১৬:৪৮:১২

বিজনেস আওয়ার ডেস্কঃ জ্বর হলে বা দেহে কোনো সংক্রমণ হলে ঠোঁটের কোণে বা নাকের ভেতরে অথবা বাইরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কখনো ঠোঁটের কোণ ফেটে যায় ও লাল দেখায়। প্রচণ্ড ব্যথা করে ও অস্বস্তি হয়। চলতি কথায়, এ অবস্থাকে আমরা বলি জ্বর-ঠোসা। সমস্যাটা জটিল না হলেও বেশ পীড়াদায়ক।

সাধারণত জ্বর-ঠোসার পেছনে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দায়ী। শরীরে কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, যেমন কোনো সংক্রমণ বা জ্বরের পর এমন সমস্যা বেশি হয়।

লক্ষণ
১. ঠোঁটে টনটনে ব্যথা হওয়া, কিংবা ক্ষোঁচা বোধ হওয়া, এবং চুলকানি অনুভব করা (প্রায়ই জ্বরঠোসা হওয়ার আগ আগ দিয়ে এই লক্ষণগুলো দেখা যায়)।
২. লাল কিংবা তরলে পূর্ণ ফুস্কুরির মতো, বেদনাদায়ক ফোস্কা ওঠা। সাধারণত ঠোঁটের চারপাশে বা মুখে এগুলো উঠে থাকে।
৩. জ্বরঠোসা ওঠার প্রথম দিকে জ্বর আসা এবং কণ্ঠনালীর ফুলে ওঠা; তবে পরবর্তী পর্যায়ে এই লক্ষণগুলো আর থাকে না।

জ্বরঠোসা সাধারণত সাত দিন থেকে দশ দিনের মধ্যে আপনাতেই সেরে যায়। এটা অবশ্য প্রতিকারযোগ্য নয়।

জ্বরঠোসার ব্যথা এবং অস্বস্তি থেকে মুক্তির জন্যে
১. আক্রান্ত স্থানে বরফের টুকরো লাগানো যেতে পারে।
২. ডাক্তারের পরমর্শ অনুযায়ী জ্বরঠোসা প্রতিরোধকারী কোন ক্রিম হাতের নাগালে রাখতে পারেন, এবং লক্ষণ টের পেলেই সেটা ব্যবহার করতে পারেন। যদি আপনি জ্বর-ঠোসা হবার আগ আগ দিয়ে এই ক্রিম ব্যবহার করতে সমর্থ হন, তবে জ্বরঠোসার আক্রমন কম গুরুতর হবে।
৩. টক, ঝাল, মশলাযুক্ত এবং এসিডযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন, কেননা, এগুলো জ্বরঠোসাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. যদি জ্বরঠোসার সাথে একশ ডিগ্রীর উপর জ্বর আসে এবং সাথে কাপুনী থাকে।
২. যদি আপনার জ্বরঠোসা দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরেও অপসারিত না হয় কিংবা বার বার জ্বরঠোসা হতেই থাকে।
৩. যদি আপনার জ্বরঠোসা থাকে এবং চোখেও ব্যথা অনুভূত হয় কিংবা অস্বস্তি হয়, কিংবা আপনার দৃষ্টিশক্তি ব্যহত হয় সেক্ষেত্রে জ্বরঠোসা সংক্রান্ত কোন চোখের ঘা বা অসুখ হয়েছে আপনার।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
১. জ্বরঠোসা হয়ে যাবার পর একটা নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার শুরু করুন।
২. যদি কাজের বা চিন্তার চাপে আপনার জ্বরঠোসা হবার প্রবণতা থাকে সেক্ষেত্রে শরীর ও মন শীথিলায়নের পদ্ধতি চর্চা করুন, যেমন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, কিংবা যোগ ব্যায়াম চর্চা করুন অথবা মেডিটেশন বা মনোসংযোগ করুন।
৩. জ্বরঠোসায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে চুম্বন করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. টুপি পড়ুন কিংবা সূর্যরশ্মীপ্রতিরোধক ক্রিম ঠোঁটে মাখুন, কেননা সূর্যরশ্মী জ্বরঠোসাকে বাড়িয়ে তোলে।

বিজনেস আওয়ার/২৯জুন/আর আই

উপরে