ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫


সার্কিট ব্রেকারের ফাঁদে ক্ষতিগ্রস্থ শেয়ারবাজার

২০১৮ জুলাই ০৩ ১১:১৪:৫২

রেজোয়ান আহমেদ : গত কিছুদিন ধরে একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে শেয়ারবাজারে স্বল্প মূলধনী ও দূর্বল কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন করছে। এক্ষেত্রে শেয়ার উত্থান-পতনে বেধে দেওয়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সীমাকে (সার্কিট ব্রেকার) হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। এই সার্কিট ব্রেকারের কারনে বিক্রেতা সংকটে ওইসব দূর্বল কোম্পানির শেয়ার দর নিয়মিতভাবে ১০ শতাংশ করে বাড়ছে। এতে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিকতা হারিয়ে ক্ষতির কবলে পড়ছে। একইসঙ্গে অতিলোভের আশায় বিনিয়োগকারীরা বড় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে সার্কিট ব্রেকার না থাকলে, এই বিক্রেতা সংকট হতো না। এতে স্বার্থনেষী মহলের উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব না বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিস্টরা। তাই এই সমস্যারোধে একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

অন্যান্য দিনের ন্যায় সোমবারও (২ জুলাই) স্বল্প মূলধনী ও দূর্বল বিডি অটোকারসের শেয়ার লেনদেনের শুরুতেই বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে। এভাবেই গত ১ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার ১১৯ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯৯ টাকায় উঠে এসেছে। একইভাবে গত কিছুদিন ধরে মুন্নু সিরামিক, মুন্নু স্টাফলার্স, এমবি ফার্মা, বিডি ল্যাম্পস, আরামিট, আজিজ পাইপস, লীগ্যাসি ফুটওয়্যার, লিবরা ইনফিউশনসহ অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে।

নিম্নে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া কিছু স্বল্প মূলধনী ও দূর্বল কোম্পানির চিত্র তুলে ধরা হল-

কোম্পানির নাম

পরিশোধিত মূলধন

গত ৩ মাসে দর বৃদ্ধির হার

পিই

বিডি অটোকারস

৩.৮৬ কোটি

২৩৮%

৩৬১

মুন্নু স্টাফলার্স

০.৪৬ কোটি

২০৩%

৮১০

লিবরা ইনফিউশন

১.২৫ কোটি

১১৪%

মুন্নু সিরামিক

২৫.১২ কোটি

১১১%

১১৬

আজিজ পাইপস

৫.০৯ কোটি

৬৩%

২৬৬

আরামিট

৬ কোটি

৫২%

৫২

এমবি ফার্মা

২.৪০ কোটি

৫০%

১৮১

বিডি ল্যাম্পস

৯.৩৭ কোটি

৪৫%

৯৭

লীগ্যাসি ফুটওয়্যার

১১.৩৭ কোটি

৪০%

১৬৩

ফার্মা এইড

৩.১২ কোটি

৩৯%

৪০

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বিজনেস আওয়ারকে বলেন, কিছুদিন ধরে স্বল্প মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই উত্থানের পেছনে কোন কারন নেই। এক্ষেত্রে একটি চক্র সার্কিট ব্রেকারকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া হলে, যে দরেই হোক না কেনো শেয়ারে বিক্রেতা পাওয়া যাবে। তখন আর সার্কিট ব্রেকারের ন্যায় নিয়মিত দর বাড়ানো সম্ভব হবে না। যাতে স্পেকুলেটরদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরন হবে না।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অস্বাভাবিক উত্থানের শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার তুলে নেওয়া যেতে পারে। তাহলে বর্তমানে স্বল্প মূলধনী কিছু কোম্পানি নিয়ে যে স্পেকুলেশন খেলা হচ্ছে, তা আর সম্ভব হবে না।

বসুন্ধরা পেপারের শেয়ারে সোমবার (২ জুলাই) সার্কিট ব্রেকার না থাকার কারনে ৮০ টাকার শেয়ারে ১৫৫ টাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শাকিল রিজভী। আবার ওই ১৫৫ টাকার শেয়ারই ১৩০ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও সার্কিট ব্রেকার না থাকলে এমনটি হতো। যাতে স্পেকুলেশন খেলা সম্ভব হতো না। কিন্তু সার্কিট ব্রেকার থাকলে বসুন্ধরা পেপারেও বিক্রেতা সংকট হতো। এভাবে কত দিন চলতো তার কোনো ঠিক ছিল না।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজারের ভালোর জন্য সার্কিট ব্রেকার করা হয়েছে। কিন্তু একটি চক্র সার্কিট ব্রেকারের অপব্যবহার করছে। তাই এই অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকা উচিত। এজন্য একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে নিশ্চিতভাবে অপব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, একটি চক্র কিছুদিন যাবত মৌলভিত্তি নেই এমন দূর্বল কোম্পানি নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। শেয়ারবাজারের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নজড়দাড়ি বাড়িয়ে এসব চক্রকে খুজে বের করে আনা উচিত। একইসঙ্গে এদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন কাজ না করে।

তিনি আরও বলেন, ভালো এবং মন্দ উভয় কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে পারে। কিন্তু বর্তমানে সার্কিট ব্রেকারকে ঘিরে দুষ্ট চক্রের লাগামহীন গেম্বলিংয়ে শেয়ারবাজারে অসুস্থ ও অস্বাভাবিক আচরন দেখা যাচ্ছে। এই গেম্বলিংয়ে দূর্বল কোম্পানির লাগামহীন উত্থান শেয়ারবাজারে ক্ষতি বয়ে আনছে। এসব শেয়ারে সাময়িক লাভবান হওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত ক্ষতি বয়ে আনবে। যাতে স্বল্প মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির কবলে পড়বে এবং শেয়ারবাজারে অনাস্থার সৃষ্টি হবে। তাই এই সমস্যারোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিজনেস আওয়ার/০৩ জুলাই, ২০১৮/আরএ

উপরে