ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫


ম্যাক্স হাসপাতালের দুই চিকিৎসক চাকরিচ্যুত

২০১৮ জুলাই ০৭ ১২:৫৮:৩৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) : সাংবাদিক কন্য শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় ‘অবহেলার প্রমাণ মেলায়’ দুই চিকিৎসককে চাকরিচ্যুত করেছে চট্টগ্রামের বেরসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, ওই দিন শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দর নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিন রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

'ভুল চিকিৎসায়' তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা। পরে ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে তাদের প্রতিবেদন দেয়, যাতে এই দুই চিকিৎসকের পাশাপাশি শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায়কেও চিকিৎসায় ‘অবহেলার দায়ে’ অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং ওই সময়ে থাকা সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই তাদের ছিল না।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতা-মাতা যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যাহা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

এছাড়া রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা থেকে শুরু করে শেষ চিকিৎসা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের ভোগান্তি চরমে ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন দেওয়ার আগেই ডা. দেবাশীষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, সেদিন শিশুটির খিঁচুনি শুরু হওয়ার পর যখন দাঁত ভেঙে যায় তখন তার বাবা তাকে নিয়ে ছোটাছুটি করছিল।

এ সময় তাকে আইসিইউতে নেওয়া উচিত ছিল। তা না করে ডা. দেবাশীষ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সেদিনই আমরা ডা. শুভ্র দেবের কাছে জানতে চাই, ওই রকম পরিস্থিতিতে সিনিয়র প্রফেসরের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল। দুজনকেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বিধান রায়ের বিষয়ে লিয়াকত আলী বলেন, তিনি আমাদের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক নন। রোগীর স্বজনরা না ডাকলে আমরা উনাকে কল দিব না।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ম্যাক্স হাসপাতালের ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থা অতি দ্রুত সংশোধন, ডিপ্লোমাধারী নার্স দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং ম্যাক্স হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করা।

বিজনেস আওয়ার/৭জুলাই/এমএএস

উপরে