ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা বন্ধ, দুর্ভোগ চরমে

২০১৮ জুলাই ০৯ ১২:১৭:০৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) : চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়ার পর চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ওষুধ প্রশাসনের সহায়তায় বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

গতকাল রোববার থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতি। তাদের এ ঘোষণায় সংহতি প্রকাশ করেছে সরকার সমর্থিত বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা।

ধর্মঘট ডাকার বিষয়টি স্বীকার করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মালিক সমিতির সভাপতি ডা. এম এ কাসেম বলেন, এমনিতেই বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কারণে লোকসানে আছে। বিষয়টি আমরা প্রায় দুই মাস আগে সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনের সঙ্গে দেখা করে অবহিত করেছি।

শিশু রাইফার মৃত্যু নিয়ে আমরা গত শুক্রবার বৈঠক করেছি। এ রকম পরিস্থিতি (ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান) সৃষ্টি হলে ধর্মঘটে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার সকালে ম্যাক্সসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযানের নামে হয়রানি শুরু হলে আমরা বৈঠকে বসি।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এভাবে হাসপাতাল, ক্লিনিক চালানো সম্ভব নয়। তাই আমরা বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ল্যাব ও চেম্বার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছি।

বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মালিক সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সঙ্গে আমরা (বিএমএ) একাত্মতা ঘোষণা করেছি।

একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে অপারেশন চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা কিভাবে প্রবেশ করেন? অপারেশন থিয়েটার নয়, আইসিইউসহ যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় সেখানে জোরপূর্বক তাঁরা ঢুকতে পারেন না। তবে ধর্মঘট আমরা আহ্বান করিনি। এটা বেসরকারি মালিক সমিতির ডাকা। আমরা শুধু সমর্থন জানিয়েছি।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাকটিসনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী বলেন, এই ধর্মঘটের আওতায় সরকারি হাসপাতাল, করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান, রেড ক্রিসেন্ট পরিচালিত জেমিসন হাসপাতাল পড়বে না। বেসরকারি ছাড়া অন্য সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আগে ভর্তি হওয়া রোগীরা এই ধর্মঘটের আওতায় পড়বে না। তাদের চিকিৎসা চলবে।

উল্লেখ্য, শিশু রাইফার মৃত্যু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিএমএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী চিকিৎসকদের আন্দোলনে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আন্দোলন পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি। তিনি বলেছিলেন, মার খেলে হবে না, মার দিতে হবে। তাঁর ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সব মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

চিকিৎসকদের ধর্মঘটের খবর না জেনে অনেকেই আশপাশের জেলা উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়েন। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ছুটে যাচ্ছেন সরকারি হাসপাতালের দিকে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল থেকে আজ সকাল সোমবার (৯ জুলাই) ৮টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে প্রায় দ্বিগুণ টিকেট বিক্রি হয়েছে। জরুরি বিভাগে ভর্তি রয়েছে অতিরিক্ত ৩শ' রোগী। হাসপাতালের বারান্দায়ও জায়গা হচ্ছে না রোগীদের। এ অবস্থায় বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ। চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ মোকাবেলা করার জন্য জরুরি বিভাগে চিকিৎসক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে হার্টের ডাক্তার বাড়ানো হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/৯জুলাই/এমএএস

উপরে