ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি ইসলামের নির্দেশ

২০১৮ জুলাই ০৯ ১৩:০৫:৩৮

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: ঋণ পরিশোধ না হলে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের ওপর সুদ বাড়নোর প্রবণতা সমাজে সব সময়ই ছিল। তবে তা ইসলাম পূর্ব যুগে এই প্রবণতা বেশি ছিল। ইসলাম পূর্ব যুগে সামান্য ঋণের অর্থ পাহাড় হয়ে দাঁড়াতো এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে যেত।

কিন্তু ইসলামের আগমনের পর মহান আল্লাহ এ প্রথার বিপরীতে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সুদ না নিয়ে মূলধন ফেরতে স্বচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত অবকাশ দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। আর যদি ঋণ একেবারেই মাফ করে দেয়া যায় তবে তা আরও উত্তম বলেও ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি ইহসান (কৃপা) করতে ঋণদাতার প্রতি নসিহত করেছেন- সুরা বাকারার ২৮০ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঋণগ্রস্ত অভাবি ব্যক্তির প্রতি ইহসান (কৃপা) করার নসিহত পেশ করেছেন। সম্ভভ হলে ঋণের অর্থ মাফ করে দেয়ার কথাও বলেছেন। আলোচ্য আয়াতের বাস্তবায়নে রয়েছে হাদিসের চমৎকার ফজিলতের বর্ণনা ও ঘটনার বিবরণ।

এসম্পর্কে আল্লামা বগবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর বনি আমরসহ অন্য যারা সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা বললো আমরা তাওবা করি; আমরা আল্লাহ এবং তার রাসুলের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখি না। অতঃপর তারা ঋণের মূলধন গ্রহণ করে সুদ ছেড়ে দেয়।

আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয় তবে তার স্বচ্ছল অবস্থা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা কর্তব্য। এ ব্যাপারে হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋণগ্রহীতার ব্যাপারে ঋণদাতার প্রতি নসিহত ও অবকাশ দেয়ার ফজিলত পেশ করেন।

হজরত আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার জন্যে সহজ পন্থা অবলম্বন করবে তথা ঋণ আদায়ের ব্যাপারে তাকে সময় দেবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও পরকালে উভয় জাহানে তার যাবতীয় কার্যাবলী সহজ করবেন। (মুসলিম)

আয়াতের পরবর্তী অংশে আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি তোমরা অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ মাফ করে দাও তবে তা তোমাদের জন্য হবে উত্তম। এ ব্যাপারেও হাদিসে ঋণদাতার মহত্ব ও ফজিলত ঘোষণা করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার আরশের ছায়াতলে স্থান পেতে চায় সে যেন এমন অভাবগ্রস্ত ঋণ গ্রহীতাকে সময় দেয় অথবা মাফ করে দেয়। (তাবারানি)

হজরত আবু কাতাদা (রা.) এক ব্যক্তির কাছে কিছু টাকা পেতেন। তিনি সে টাকা নিতে আসলে লোকটি পালিয়ে যেতো। একদিন তিনি টাকার জন্য আসলেন; এমন সময় একটি শিশু বাড়ি থেকে বের হয়।

হজরত আবু কাতাদা (রা.) শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ওই ঋণগ্রহীতা ঘরে আছে কিনা? শিশুটি বলল, আছেন এবং খাবার খাচ্ছেন।

হজরত আবু কাতাদা উচ্চস্বরে ঋণগ্রহীতাকে ডেকে বললেন, আমি জানি তুমি ঘরেই আছ। অতএব বাইরে বের হয়ে আস। সে বাইরে বের হয়ে আসল। তখন তিনি জানতে চান, আমি আসলে তুমি পালিয়ে যাও কেন?

লোকটি বলল, প্রকৃত অবস্থা হলো; আমি অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত। এ মুহূর্তে ঋণ আদায় করতে পারছি না বিধায় লজ্জিত।

হজরত আবু কাতাদা বললেন, তুমি এ কথার ওপর শপথ করতে পার? সে সঙ্গে সঙ্গে শপথ করলো। ওই সময় হজরত কাতাদা কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি কোনো ঋণগ্রহীতাকে সময় সুযোগ দেবে অথবা ঋণ মাফ করে দেবে সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। (মুসলিম)

বিজনেস আওয়ার/৯জুলাই/এমএএস

উপরে