ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


নানা অনিশ্চয়তায় একাদশে ভর্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

২০১৮ জুলাই ০৯ ১৩:১২:৩৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: এইচএসসি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে গত ২ জুলাই থেকে। অথচ ভর্তি হওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী। তৃতীয় দফায় আবেদন করেও ভর্তির জন্য কলেজ না পেয়ে এর সমাধান জানতে অভিভাবকদের নিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের অনেকে এখন ছুটছেন শিক্ষা বোর্ডে।

এদিকে, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, কাগজে-কলমে গত জুন মাসে এইচএসসি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় এখনও তা শেষ না হওয়ায় এখন চতুর্থ দফায় ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু করতে চাইছেন তারা।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিন ধাপের ভর্তির তালিকা প্রকাশের পর এপর্যন্ত সাধারণ আট বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণির সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ শিক্ষার্থী পাস করেন।

এর মধ্যে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ জন কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেন, বাকিরা আবেদনই করতে পারেননি। আবেদনকারীদের মধ্যে তিন ধাপে মোট ১২ লাখ ২৮ হাজার ১৫ জনকে ভর্তি জন্য মনোনীত করা হয়।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির বাইরে রয়েছেন। আবেদন করেও এখনও প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী কোনও কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাননি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় একহাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

গত সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ভিড় করছেন শত শত ভর্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, তারা ভালো ফলাফল করেছেন, ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনও করেছেন; অথচ মেধা তালিকায় তাদের নাম এবং কলেজের নাম আসেনি। কেউ কেউ কয়েক দফায় আবেদন করেও ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাননি।

এর কারণ জানতে রবিবার ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে আসেন একাদশে ভর্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থী আকবর হোসেন। তিনি ঢাকার একটি কলেজ থেকে এবার জিপিএ-৪.৯৪ পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন। তিন দফায় ভর্তির জন্য আবেদন করেও তিনি কোনও কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হননি।

এব্যাপারে আকবর হোসেন বলেন, প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফায় ভর্তির আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড। প্রথম আবেদনে কোনও কলেজে ভর্তির জন্য আমি মনোনয়ন পাইনি। পরে দ্বিতীয়বার আবেদন করি। দ্বিতীয়বার ভর্তি বঞ্চিত হয়ে তৃতীয়বার আবেদন করেছি। কিন্তু এবারও সুযোগ পাইনি।

এ কারণে আমি বোর্ডে এসেছি। কি কারণে আমি ভর্তির সুযোগ পাচ্ছি না তা জানতে এসেছি। আদৌ ভর্তি হতে পারবো কিনা তাও বুঝতে পারছি না। এদিকে, গত ২ জুলাই থেকে একাদশের ক্লাসও শুরু হয়েছে। এতে পিছিয়ে পড়ছি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রোকেয়া সুলতানাও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে এসেছেন তার ছেলে মাহফুজকে নিয়ে। তিনিও তার ছেলের কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েও ছেলেকে কোনও কলেজে ভর্তি করাতে পারেননি তিনি।

কারণ মাহফুজ মতিঝিলের একটি কলেজে ভর্তির মনোনয়ন পেয়েছে। কিন্তু মোহাম্মদপুর থেকে বেশ দূরে হওয়ায় মতিঝিলের ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি তার সন্তানকে পড়বেন না। আশেপাশের কোনও প্রতিষ্ঠানেও মনোনয়ন পাচ্ছে না মাহফুজ।

রোকেয়া সুলতানার দাবি, মাহফুজেরই এক বন্ধু এসএসসিতে একই ফল করার পরও মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অথচ আমার ছেলে সেখানে মনোনয়ন পায়নি। এর সমাধান জানতেই আমি বোর্ডে এসেছি।

এ সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে ঢাকা বোর্ডের পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা জটিলতার অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। তবে চেষ্টা করছি, সেসব সমস্যার সমাধান করার। এখনও যারা ভর্তি হতে পারেনি তাদের জন্য চতুর্থ দফায় আবেদন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ৪র্থ দফার আবেদন কার্যক্রম শুরু করতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। সেখান থেকে অনমোদন পেলেই নতুন করে আবেদন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিজনেস আওয়ার/৯জুলাই/এমএএস

উপরে