ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বিবিএস কেবলস

চড়া দরে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির পাঁয়তারা!

২০১৮ জুলাই ০৯ ২২:০১:২৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: মাত্র ৩ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিবিএস কেবলসের শেয়ার দর বেড়েছে ২২ শতাংশ। তবে দর বৃদ্ধির কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। শেয়ার দরে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা দেয়ায় কোম্পানিটির ৬ কোটিরও বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা রকম আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁরা বলছেন, বিরাট অঙ্কের প্লেসমেন্ট শেয়ার চড়া দরে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই কোম্পানিটির শেয়ার দর হঠাৎ করে বাড়ানো হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে অভিহিত মূল্যে আইপিওর মাধ্যমে বিবিএস কেবলস পুঁজিবাজারে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে। আইপিও শেয়ার ছাড়াও কোম্পানিটি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠান ও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ কোটির বেশি শেয়ার প্লেসমেন্ট শেয়ার হিসাবে বিক্রি করে। এই ৬ কোটির বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার এক বছর লক-ইন থাকার পর গত ২৯ এ্রপ্রিল বিক্রিযোগ্য হয়। কিন্তু সেই সময়ে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করে। পুঁজিবাজারে অব্যাহত মন্দাভাবের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দরও পতনে নেমে আসে। এক পর্যায়ে এর শেয়ার ৭০ টাকার ঘরে চলে আসে। ফলে প্লেসমেন্টধারীরা কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ পায়নি।

বিয়টি নিয়ে পুঁজিবাজারের প্রবীণ বিনিয়োগকারী মো. হেলাল হোসেন বলেন, বিবিএস কেবলসের প্লেসমেন্ট শেয়ার যখন বিক্রিযোগ্য হয়, তখন পুঁজিবাজারে মন্দাভাব বিরাজ করে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ও লেনদেনও স্বাভাবিক থাকে। এতে দেখা যায় এ সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন করেছে। এ সময়ে শেয়ার বিক্রির অতিরিক্ত বাহুল্য দেখা যায়নি। তিনি বলেন, কোম্পানিটির শেয়ার দর হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে এখন মনে হচ্ছে, প্লেসমেন্টধারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে।

জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল বিবিএস কেবলসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করে। এরপর ২৭ এপ্রিল ২০১৭ কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস প্রকাশিত হয়। সেই হিসাবে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক-ইনের মেয়াদ এক বছর পুর্তি হয়। ২৮ এপ্রিল শনিবার এবং পরের দিন ২৯ এপ্রিল রোববার সরকারি ছুটির কারণে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকে। ফলে ৩০ এপ্রিল সোমবার থেকে কোম্পানিটির প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রিযোগ্য হয়। কিন্তু মে মাস ও জুন মাস পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা তীব্রতর হতে দেখা যায়। ফলে কোম্পানিটির শেয়ার দরেও নেতিবাচক প্রবণতা থাকে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূ্ত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই বিবিএস কেবলসের শেয়ার দর ছিল ৭১.৬০ টাকা। আজ সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৮৭.২০ টাকায় লেনদেন হয়। এতে দেখা যায়, মাত্র ৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটি ২১.৭৮ শতাংশ দর বাড়ে। এরমধ্যে ২ কার্যদিবসই বিক্রেতা সংকটে পড়ে সার্কিট ব্রেকারের শেষ ধাপে উঠে যায় কোম্পানিটির শেয়ার দর। কোম্পানিটির শেয়ার দরে হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়ায় বাজার সংশ্লিষ্টদের মনে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে যে, প্লেসমেন্টধারীরা তাদের শেয়ার অফলোড করার জন্যই কৃত্রিমভাবে কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিবিএস কেবলসের ৬ কোটির বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের নামে ও আত্নীয়-স্বজনদের নামে বরাদ্দ নেয় বলে প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তও করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনেও কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের নামে ও আত্নীয়-স্বজনদের নামে প্লেসমেন্ট শেয়ার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

বিজনেস আওয়ার/এসএম







উপরে