ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫


টানা ৬ দিন সার্কিট ব্রেকারের শেষ ধাপে ২ কোম্পানি!

২০১৮ জুলাই ১০ ০৫:৫৬:৫৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত ২ কোম্পানি টানা ৬ দিন বিক্রেতা সংকটে রয়েছে। কোম্পানি ২টি হলো-লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও ড্রাগন সোয়েটার লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, টানা ৬ দিন বিক্রেতা সংকটে থেকে লিগ্যাসি ফুটওয়ারের দর বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে, টানা ৬ দিন সার্কিট ব্রেকারের সর্বশেষ দরে লেনদেন হয়ে ড্রাগন সোয়েটারের দর বেড়েছে ৭২ শতাংশ। শেয়ার দর বৃদ্ধির এ অশুভ চক্রান্তে খোদ কোম্পানি ২টির পরিচালকরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দুই কোম্পানির গন্তব্য কোথায় তা কেউ বলতে পারছে না।

লিগ্যাছি ফুটওয়ার: উদ্দেশ্যবিহীন পথে চলছে লিগ্যাছি ফুটওয়ার। সোমবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত টানা ছয় দিন কোম্পানিটির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। এক লাফে শেয়ারটির দর ৭৫ থেকে ১৩২ টাকায় উঠেছে। এটি কোথায় গিয়ে থামবে এ নিয়ে হাউসগুলোতে চলছে সরব আলোচনা। কারণ গত ছয় দিনে ৭৬ শতাংশ দরবৃদ্ধির পরও শেয়ারটির ক্রেতার কোনো অভাব নেই।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্রেতার মতো বিক্রেতারও অভাব নেই। কয়েকদিন ধরে লেনদেন বোর্ডে শেয়ারটির লাখ লাখ শেয়ারের ক্রয় আদেশের বিপরীতে একটি শেয়ারেরও বিক্রি আদেশ দেখা যাচ্ছে না। যদিও সর্বশেষ ছয় দিনে কোম্পানিটির ৭২ লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি শেয়ার প্রায় ৭৮ কোটি টাকা মূল্যে হাতবদল হয়েছে। যেমন গতকালও ডিএসইতে ২৪ লাখের বেশি শেয়ার পৌনে ৩২ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়েছে, কিন্তু লেনদেনের শেষ পর্যায়েও শেয়ারটি বিক্রেতা শূন্য দেখা গেছে।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, একাধিক কারসাজি চক্র শেয়ারটির দর বাড়াচ্ছে। তারাই কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ারের ক্রয় আদেশ দিয়ে বিক্রেতা শূন্য করছে। পরে এদেরই একটা অংশ ধীরে ধীরে শেয়ার বিক্রি করছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি টাকারও কম। যার বড় অংশ নামে-বেনামে মালিকপক্ষের কাছে রয়েছে। এ কারসাজিতে তাদেরও সংশ্নিষ্টতা আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ড্রাগন সোয়েটার: লিগ্যাছি ফুটওয়ারের মতো একই অবস্থা চলছে ড্রাগন সোয়েটারের শেয়ার নিয়ে। টানা ষষ্ঠ দিনে শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। একটানা ৭২ শতাংশ দর বেড়ে সর্বশেষ ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। সোমবার শুধু ডিএসইতে এ কোম্পানির ৫১ লাখের ওপর শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ১৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যে। তারপরও বিক্রেতা শূন্য ছিল শেয়ারটি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানি ২টির বিরুদ্ধে বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। লিগ্যাছি ফুটওয়ারের উৎপাদন নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের রয়েছে নানা রকমের তালবাহানা। কখনো বলছে, কোম্পানিটির উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ। আবার কখনো বলছে, আংশিক উৎপাদনের রয়েছে কোম্পানিটি। তবে পরিপূর্ণ উৎপাদনের বিষয়ে স্পষ্ট কোন জবাব নেই কোম্পানি কর্তৃপক্ষের। এখন পুঁজিবাজারে শেয়ার কারসাজির দিকেই কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মনোযোগ বেশি বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন।

অন্যদিকে, আইপিওর অর্থ নয়-ছয় করার অভিযোগ রয়েছে ড্রাগন সোয়েটারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের কারণে কোম্পানির সব পরিচালকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক আর্থিক দন্ডেরও মুখোমুখি হয়েছেন। এদিকে, কোম্পানিটি ইতোমধ্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে। রাইট শেয়ারকে কেন্দ্র করে চালাচ্ছে এখন শেয়ার দর কারসাজি। খোদ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ কারসাজির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানির সবচেয়ে প্রভাবশালী একজন পরিচালক শীর্ষস্থানীয় একটি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে কারসাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধানও এ কারসাজিতে জড়িত বলে জানা গেছে।


বিজনেস আওয়ার/এসএম

উপরে