ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫

ss-steel-businesshour24
Runner-businesshour24
আয়ের সত্যতা নেই

কাট্টালি টেক্সটাইলের আইপিওতে ডিএসইর আপত্তি, বিএসইসির সম্মতি

২০১৮ জুলাই ২৪ ০০:০৫:১৯

রেজোয়ান আহমেদ : প্রসপেক্টাসে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উত্থান দেখালেও বিক্রয় ও বিক্রয়জনিত পণ্য ব্যয় হিসাবের প্রমাণ দেখাতে পারেনি কাট্টালি টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। যাতে কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আপত্তি তুলে। এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অবহিত করে। তবে বিএসইসি অজ্ঞাত কারনে তা পাশ কাটিয়ে গত ২৬ জুন কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে।

কাট্টালি টেক্সটাইলের অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা আর্থিক হিসাবের তথ্য ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ও করপোরেট গভর্ণেন্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কমপ্লায়েন্স বিভাগের পর্যবেক্ষনে উঠে এসেছে। যা পর্যবেক্ষন শেষে কাট্টালি টেক্সটাইল আইপিও অনুমোদন পাওয়ার যোগ্য নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছে ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আরএসি)। আর আরএসির এই অভিমত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদেও অনুমোদিত হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ.বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের লক্ষে অনেক কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) এক দুই বছর আগে থেকে কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে দেখায়। এই ধরনের প্রবণতা বন্ধে ৫ থেকে ১০ বছরের আর্থিক হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ডিএসইর মতামত উপেক্ষা না করে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, গত ৫-৭ বছরে কিছু নিম্নমানের কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কোম্পানি বাজারের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা তো রাখেইনি বরং বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাতে মনে হচ্ছে আইপিও অনুমোদনের আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, এখন কোম্পানিগুলো ইস্যু ম্যানেজারদের সহযোগিতায় বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণা করছে। কোম্পানিতে কিছু না থাকলেও তারা সুন্দর করে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এমন কোম্পানির আইপিও অনুমোদনে বিএসইসির সতর্ক হওয়া দরকার।

ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, যদি আমাদের পর্যবেক্ষণ বিএসইসি আমলে না নেই, তাহলে কেনো আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হয়? প্রতিটি কোম্পানির ড্রাফট প্রসপেক্টাসের সত্যতা যাছাইয়ে ডিএসইর লোকবলের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে যদি সেই যা্ছাইকে অবমূল্যায়ন করা হয়, তাহলেতো ডিএসইর পরিশ্রম অহেতুক। তাই ডিএসইর যাছাই-বাছাইকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যথায় স্টক এক্সচেঞ্জের এ জাতীয় কাজে সময় নষ্ট করা বন্ধ করা উচিত।

কাট্টালি টেক্সটাইলের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিক্রয় হয়েছে বলে প্রসপেক্টাসে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আর এই বিক্রয়ের সত্যতা যাছাইয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানিটির কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এলসি ডকুমেন্টস, ভ্যাট ও টেক্সের ডকুমেন্টস চাওয়া হয়। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রমাণ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে বলে ডিএসইর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে বিক্রয়জনিত পণ্যের ব্যয় হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এর স্বপক্ষেও প্রমাণ হিসাবে যথাযথ ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এলসি ডকুমেন্টস, ভ্যাট ও টেক্সের ডকুমেন্টস প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে প্রসপেক্টাসে গ্রাহক ও অন্যান্যদের কাছ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সংগ্রহ দেখানো হয়েছে। আর সাপ্লায়ার, কর্মী ও অন্যান্যদের প্রদানবাবদ ৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা প্রদান দেখানো হয়েছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিল ভাউচার এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রমাণাদি চাইলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।

বিক্রয়, বিক্রয়জনিত ব্যয়, অর্থ প্রদান ও গ্রহণবাবদ কাট্টালি টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ প্রমাণ প্রদানে ব্যর্থতার মাধ্যমে কাট্টালি টেক্সটাইল আইপিও অনুমোদন পাওয়ার যোগ্য নয় বলে ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটি অভিমত প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ‘কাট্টালী টেক্সটাইলের বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের আপত্তির বিষয়টি জানি না। তবে সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো।’

এ বিষয়ে কাট্টালি টেক্সটাইলের ইস্যু ম্যানেজার এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) মুসলেহউদ্দিন চৌধুরী বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ডিএসই থেকে যদি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিক্রয়, বিক্রয়জনিত ব্যয়, নগদ সংগ্রহ ও প্রদান বিষয়ে প্রমাণাদি চেয়ে থাকে, তাহলে যথার্থভাবে প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু ডিএসইও আমাদের পর্যবেক্ষক।

উল্লেখ্য গত ২৬ জুন বিএসইসি কাট্টালি টেক্সটাইলের ৩৪ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি শুধুমাত্র অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করে ৩ কোটি ৪০ লাখ সাধারন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করবে। উত্তোলনযোগ্য টাকা দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডরমিটরি ভবন নির্মান, ঋণ পরিশোধ, জেনারেটর স্থাপন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং আইপিওতে ব্যবহার করবে।

বিজনেস আওয়ার/ ২৪ জুলাই, ২০১৮/আরএ

উপরে