ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫


নবায়নযোগ্য জ্বালানি: কোন পথে বাংলাদেশ

২০১৮ আগস্ট ৩১ ১৪:১০:৫৩

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ভয়াবহতা স্পষ্ট হওয়ায় সারা বিশ্বেই জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের জন্য তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রধান উৎস হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে। ভু-অভ্যন্তরে থাকা সীমিত খনিজ পদার্থের ভবিষ্যৎ সঙ্কট বিবেচনা করেও অফুরন্ত প্রাকৃতিক উৎসকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

অধিকাংশ দেশই তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দিনে বিদ্যুতের উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ অজীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানি ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন করবে।

শুধু পরিকল্পনাই নয়, বাস্তবেও এসব দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাত্র তিন বছরে ভারতে ১ লাখ ১০ হাজার সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প চালু হয়েছে। দেশটির চতুর্থ ব্যস্ততম কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোটাই চলছে সৌরবিদ্যুতে। ২০১৬ সালে জার্মানি একক উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষে ছিল। সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ নির্ভরশীলতা দিয়েই ওই বছর জার্মানি ইউরোপে শীর্ষ বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।

বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লক্ষ্য অনুসারে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে যার ১০ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে। এর বিপরীতে ওই সময় কয়লা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৫ এবং ১০ শতাংশ।

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে দেশে সৌর শক্তি থেকে মোট ১৪৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। একই সময়ে বায়ুশক্তি থেকে ১১৫৩ মেগাওয়াট, বায়োমাস থেকে ৩০ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস থেকে ৭ মেগাওয়াট, পানি থেকে ২৩৬ মেগাওয়াটসহ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৯৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে বলে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ঘোষণা করা আছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬৪ শতাংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে ফার্নেস তেল ও ডিজেল থেকে। কয়লা থেকে ২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। নবায়োনযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হয় ৪ শতাংশ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অত্যন্ত অনুকূল। কারণ এদেশে বছরে প্রায় সাত মাস মাঝারি থেকে প্রখর রোদ থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৪.৫ কিলোওয়াট আওয়ার/বর্গমিটার সৌর বিকিরণ পাওয়া যায়। এই সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এদেশে টিনের চাল বা কংক্রিটের ছাদ দিয়ে নির্মিত ভবনে সৌর প্যানেল বসানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ খুব সহজ।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউয়েবেল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরইএল) এ দেশের ৯টি স্থানের ২৪ থেকে ৪৩ মাসের বায়ুপ্রবাহের তথ্য নিয়ে গবেষণা করে জানিয়েছে, এসব এলাকার বাতাসের গড় গতিবেগ ৫ থেকে ৬ মিটার/সেকেন্ড। এই গতিবেগ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আদর্শ বলে মনে করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। বলা হচ্ছে, বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্রসীমাও পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরেই টার্বাইনের মাধ্যমে সমুদ্রের ঢেউ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। পারমানবিক বিদ্যুতে ব্যাপক শক্তিশালী দেশ জাপানও এখন এই প্রযুক্তিতে মনোযোগ দিচ্ছে। দেশটি সমুদ্রপৃষ্ঠে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ১৯৬২ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। তবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ওই অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ৪০ হাজার আদিবাসী চাকমা জনগোষ্ঠী তাদের বাসস্থান হারায়।

সুতরাং নবায়নযোগ্য বা অনবায়নযোগ্য যে ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রই গড়ে তোলা হোক না কেনো স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষ ও প্রকৃতির উপর এর প্রভাব বিবেচনায় না নিলে বা উপেক্ষা করলে তা ভয়াবহ ফলাফল ডেকে আনতে পারে। সুতরাং যে কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রেই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সৌর বা বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিরাট এলাকার জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। পতিত অকৃষি জমি, দখল হয়ে যাওয়া নদীর পাড় এবং বাড়ির ছাদের মতো জায়গায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা যায়। এক্ষেত্রে সমুদ্র উপকূলে বায়ু বা সৌর বিদ্যুৎ কিংবা গভীর সমুদ্রে টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে সব দিক থেকেই তা নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূল আর অগভীর সমুদ্র এলাকা বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য খুবই উপযোগী।

ব্যয়ের দিক থেকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অধিক সাশ্রয়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার পুরোটাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে মেটানো গেলে প্রতিবছর মাথাপিছু সাশ্রয় হবে দুই হাজার টাকা। এজন্য প্রয়োজন সর্বাত্মক উদ্যোগ ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ।

কারণ বেসরকারী উদ্যোক্তাদের নানা সুবিধা দিলেও এখনো কাক্সিক্ষত হারে কমছে না সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়। এই খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, ইডকলসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাচ্ছে। সোলার প্যানেল এবং প্যানেল তৈরির বিভিন্ন উপাদান চার্জ কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, এলইডি লাইট, সৌরচালিত বাতি এবং বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র আমদানিতে শুল্ক অব্যাহিত দেয়া হয়েছে।

এসব সুবিধার মাধ্যমে বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তি উন্নয়নের ফলে সারা পৃথিবীতে উৎপাদন ব্যয় কমলেও শুধু মুনাফালোভীদের কারণে বাংলাদেশে কোনো কোনো এলাকায় গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের জন্য ৩০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

অথচ ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সেখানে প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের খরচ পড়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে তিন টাকারও কম।
ব্যয় বেশি হওয়ার পরও বাংলাদেশে ক্ষুদ্র সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

‘রিনিউয়েবলস ২০১৮ গ্লোবাল স্ট্যাটাস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ৫২ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপিত হয়েছে। এসব প্যানেলের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২১৮ মেগাওয়াট। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রামে এখনো জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছেনি। আবার গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং সমস্যা বেশি। এছাড়া প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোও ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য৷ এ কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় আবাসিক বাড়িতে আলোর ব্যবস্থা, ফ্যান, টেলিভিশনসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সৌর বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘সোলার ইরিগেশন সিস্টেম’।

সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লেও বাংলাদেশ বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহারে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি চালু হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে অন্যান্য বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বায়ুশক্তির সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়া সম্ভব। দেশের অভ্যন্তরে মেঘনা নদীর তীরে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য নদীর তীরেও এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উপকূলবর্তী সীমানাবেষ্টিত এলাকাকে এ ব্যবস্থাপনায় আনা যেতে পারে।

পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। যেসব বাড়িতে গবাদি পশু রয়েছে তারা এখন ঝুঁকছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে। তবে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে না। খোদ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে শহর এলাকার বর্জ্যকে শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করে ১,৮৬,৪০৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব (সূত্র: মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট)।

দেশে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও বেশ কয়েকটি সমীক্ষা শেষ হয়েছে। বড় আকারের পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সাঙ্গু (১৪০ মেগাওয়াট) এবং মাতামুহুরীতে (৭৫ মেগাওয়াট) দুটি স্থান সনাক্ত করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এ দু’টি বড় প্রকল্প ছাড়াও সমীক্ষার মাধ্যমে আরো কয়েকটি স্থান সনাক্ত করা হয়েছেযেখানে ১০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের উল্লেখযোগ্য অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৩টি স্থানে উইন্ড রিসোর্স ম্যাপিং চলছে। বেশ কয়েকটি বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে পানিবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন দাখিলের পর নির্দিষ্ট প্রকল্প সনাক্ত করা হবে।

এছাড়া এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরো কিছু বিষয়ে পাইলটিং বা সমীক্ষা কাজ চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে সোলার, বোটিং সিস্টেম, শিল্পক্ষেত্রে সোলার ওয়াটার হিটিং, মৎস্য চাষে সোলার ওয়াটার সাপ্লাই, সরকারি, আধাসরকারি ও শিল্প স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সোলার রুফটপ সিস্টেম স্থাপন, বায়োগ্যাস এবং বায়োমাস জ্বালানির উপর সমীক্ষা এবং জিআইএস ম্যাপিং, পৌরবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সোলার চার্জিং ষ্টেশন স্থাপন, সোলার পার্ক, সোলার মিনি গ্রিড, সোলার ইরিগেশন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও পাইলটিং।

ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে হবে, অন্যদিকে ধীর ধীরে কমাতে হবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের আছে অসীম সম্ভাবনা। জ্বালানির বিকল্প এসব উৎস দেশের বিদ্যুৎ খাতকে উন্নয়নের পথে অগ্রসর করবে। নবায়োনযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। তবে ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের গতি খুবই ধীর। আবার নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্ভাবনার প্রতি সরকার নজর দিলেও এর বিপরীতে কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এসব জ্বালানির ব্যবহার আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সারা বিশ্ব যখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমানের ২ শতাংশ থেকে ২০৪১ সালে ২০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ফলে বর্তমানের মতো আগামী দিনেও বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর দেশ হয়েই থাকবে দেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জন্য যা হবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ।

লেখক: রাজু আহমেদ, চিফ রিপোর্টার, জিটিভি

বিজনেস আওয়ার/৩১ আগস্ট,২০১৮/এমএএস

উপরে